My Leadership Journey - Anjana

Anjana is the founder member
of YRC "Youth Voice"
Read her earlier post
My name is Anjana. I live in the VIP Nagar area of Kolkata. I grew up in the same area. Our parents raised us with a lot of love and care.

My father was a freedom fighter. He used to tell me a lot of inspiring stories about our country, and I had a lot of dreams for myself. Baba used to say, “One day you will grow up and start working.” I wasn’t a very mischievous child, and I loved to play.

When I was 10 years old, one evening my mother was filling oil into a hurricane lamp while it was still burning. Suddenly the lamp tilted over, and there was a fire in which Ma got burnt badly. She was immediately taken to a hospital, and had to stay there for the next 3 months. From this time on, my playtime got reduced drastically. Since my elder sister had to stay with Ma in the hospital, and my younger sister was still very young, the responsibility of all the housework fell upon me. I couldn’t focus on my studies either.

When Ma got well and returned home, we again started living a life with its fair share of joy and laughter for a number of years. But suddenly another bad day came for us. My father passed away just after I had written my BA final year examinations. This was a huge setback, but still it made me think all the more that I would make something of my life, I would go on. Baba himself had told me to work. His words gave me strength and resolve to a large extent.

After Baba's passing, I started going out of home and completed a 2 year training in Nursing. But the doctors scolded me a great deal, and that may be because I was Bengali. I did not like this, so I did not take up any job in this field. I wanted to do a job I would like, where I would have the freedom to work in my own way.

Things continued like this. One day I got acquainted with Nehru Yuva Kendra. Here I got the opportunity to work for 2 years as a National Service Volunteer. We started working with young people through the medium of different clubs. This job brought me a lot of respect and recognition from people, which increased my self-confidence, which in turn helped me to motivate the young people I worked with.

It also earned me the Best Youth Award from NYK. Getting this award was an impossibly happy moment of my life. It made me decide that I wouldn’t go for an ordinary job, I would work for society. Just after this, I connected with another organisation called Thoughtshop Foundation. Here I was trained on different subjects, like getting to understand myself as a unique person, knowing my rights, how to build a group, violence against women etc. These trainings taught me to value myself, and to improve and beautify the place I lived in. I have also been trained by TF in Peer Counselling. I further deepened my understanding and skills of counselling by doing a course at Jadavpur University. Now I help with training young peer counsellors so that they can work with adolescents in their communities.

From my childhood, I had witnessed the marriages of very young girls in my area, but I had never really given this a thought. But after I started coming to TF, I started thinking that if we could speak to these girls and to their families, if we could support them emotionally, then we could stop many such social evils.

It was from this thought that our group was created with boys and girls from the neighbourhood. It was named ‘Youth Voice’. Through our group, we attempted to know what exactly these people were thinking, those who got married early and those who thought of getting them married prematurely. We also tried to point out the disadvantages of early marriage to these people. These efforts of ours have borne fruit, even if partially. Today Papia, Rimi and Suman from our neighbourhood are about to complete their graduation. All of them are seriously thinking about their careers. Today, none of their mothers say that they will get their daughters married right after their Higher Secondary exams.

In Youth Voice, members get a space to voice all of their thoughts and feelings. They can share things here, things that they couldn’t share with anybody earlier. If at any time there is a problem within the group, we try to listen to what everyone is feeling and thinking, and through all this, reach a positive space. Because we do this, everyone feels an ownership with the group and wants to come here again.

I’ve had to face problems in my married life too. At first it all made me feel very bad. Then I started to think about different ways to gradually overcome my problems. I started being assertive. If I have any issue with my mother-in-law, I listen to her first, then I tell her the problems I am facing. This sometimes creates tensions, but the issue does get resolved, even if temporarily. I start living a normal life again, and I continue to interact nicely with her. This has been possible because, when there is a problem, I do not focus on the individual. Instead I focus on the situation needing to be resolved. Once I am able to accept the situation, I find it easier to resolve the conflict.

My vision for the coming year is to make our group into a training centre, where the neighbourhood boys and girls can take different trainings. I also want the centre to have the facility of counselling support. I want to tell others that if there is a conflict, instead of sitting hopelessly with it we can try to find a way out; we will then find ourselves in a place where we are able to accept and acknowledge ourselves. Each of us are capable of doing this.

আমার নেতৃত্বের যাত্রা

আমি অঞ্জনা, থাকি কলকাতার EM Bypass নামক একটি অঞ্চলে। এখানেই ছোট থেকে বড় হই। পরিবারটা আমাদের অনেক বড় ছিল। বাবা–মা আমাদের অনেক যত্নের সঙ্গে মানুষ করেন। বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন, তার কাছ থেকে দেশের অনেক গল্প শুনতাম এবং নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। বাবা বলতেন, “একদিন বড় হয়ে চাকরি করবি।” খুব একটা দুষ্টু ছিলাম না। খেলাধুলা করতে খুব ভালোবাসতাম।

তখন আমার বয়স ১০ বছর। তখনো আমাদের এলাকায় ইলেকট্রিসিটি আসে নি। একদিন সন্ধেবেলা আমার মা জলন্ত অবস্থায় হারিকেনে তেল ভরছিল। ঠিক সেই সময় হটাৎ হারিকেনটা উল্টে যায় এবং তাতে মার শরীর অনেকটাই পুড়ে যায়। সঙ্গে-সঙ্গে মাকে হসপিটালে ভর্তি করতে হয় এবং তিন মাস মায়ের হসপিটালেই কাটে। এই সময় থেকেই আমার খেলাধুলা অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। মাকে দেখার জন্য দিদিকে সবসময় হসপিটালেই থাকতে হয়, আর যেহেতু বোনও তখন অনেকটাই ছোট, তাই বাড়ির সব কাজের দায়িত্বই তখন আমার ওপর এসে পড়ে। পড়াশোনাতেও খুব একটা মন দিতে পারতাম না। জাই হোক, এরপর মা ঠিক হয়ে বাড়িতে ফেরে এবং বেশ অনেক বছর আমাদের হাসিখুশির মধ্যে দিয়ে দিন কাটতে থাকে।
কিন্ত হঠাৎ আমাদের জীবনে আবার একটা খারাপ দিন আসে। আমি B.A. final year-এর পরীক্ষা দেওয়ার ঠিক পর পর বাবা মারা যান। এটা আমার কাছে বিশাল একটা setback হলেও মনে হয়েছিল যে আমি কিছু করব, জীবনে এগিয়ে যাব, কারণ বাবাই বলেছিল চাকরি করতে। বাবার এই কথাটা আমার মনের শক্তিকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেড়োতে শুরু করি এবং ২ বছরের একটা নার্সিং ট্রেনিং করি। কিন্ত এখানে ডাক্তারদের চোখে বাঙ্গালি ও কোন ভুল এত বকাবকি করত। এটা আমার ভালো লাগত না, তাই ট্রেনিং-এর পর নার্সিং-এর কোনো কাজ নিইনি। আমার মনে হয়েছিল যে এমন কোনো কাজ করবো যেটা আমার ভালো লাগবে আর যেখানে নিজের মত করে কাজ করার একটা স্বাধীনতা থাকবে।

এইভাবে দিন চলতে থাকে। হঠাৎ একদিন নেহেরু যুবকেন্দ্র নামে একটি সংস্থার সাথে আমার পরিচিতি হয়। এখানে National Service Volunteer হিসাবে ২ বছরের জন্য কাজ করার সুযোগ পাই। আমরা বিভিন্ন ক্লাব-এর মাধ্যমে যুবদেরকে নিয়ে কাজ করতে শুরু করি। এই কাজের সূত্রে মানুষের কাছ থেকে অনেক সম্মান ও উৎসাহ পাই, যার ফলে আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়, আর এই আত্মবিশ্বাসই আমাকে যুবদের অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করে। এই কাজের জন্য আমাকে নেহেরু যুবকেন্দ্র থেকে রাষ্ট্রের Best Youth Award দেওয়া হয়। এই পুরস্কার পাওয়া ছিল আমার জীবনের এক অসম্ভব ভালো লাগার মুহূর্ত, আর এই মুহূর্ত আমায় ভাবায় যে চাকরি নয়, সমাজের জন্য কাজ করবো।
এর পর-পরই আমার পরিচিতি হয় থটশপ ফাউন্ডেশন নামে আরেকটি সংস্থার সাথে। এখান থেকে নিজেকে জানা, বোঝা, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতেন হওয়া, দল গঠন করা, মহিলাদের প্রতি হিংসা এই রকম নানা বিষয়ে ট্রেনিং পাই। এইসব ট্রেনিং-এর মাধ্যমেই আমি শিখি নিজেকে মূল্য দিতে, আর আমি যে এলাকায় থাকি সেই এলাকা উন্নত ও সুন্দর করে তুলতে।

ছোটবেলা থেকেই দেখতাম আমাদের পাড়াতে খুব ছোট ছোট বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, কিন্ত ওটা নিয়ে কখনো ভাবিনি। কিন্তু থটশপে আসার পর থেকে ভাবতে শুরু করি যে যদি এই মেয়েদের আর তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যায়, তাদের মানসিক দিক থেকে সমর্থন করা যায়, তাহলে অনেক কিছু সামাজিক অঘটন বন্ধ করা যেতে পারে। এই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে যায় পাড়ার ছেলে–মেয়েদের নিয়ে আমাদের একটা দল। দলের নাম Youth Voice। এই দলের মাধ্যমেই আমরা জানতে চেষ্টা করি যে যারা অল্পবয়সে বিয়ে করে নেয় আর যারা বিয়ে দেওয়ার কথা মনে করে, তারা এই বিষয়টা নিয়ে সত্যি কি ভাবে, এবং তাদের দেখানোর চেষ্টা করি যে অল্পবয়সে বিয়ে হলে কি কি অসুবিধা হয়। আজ আমাদের এই চেষ্টাটা কিছুটা হলেও কাজ দিয়েছে। আমাদের পাড়ার পাপিয়া, রিমি, সুমন আজ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পথে এবং প্রত্যেকে নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে ভাবছে। এখন ওদের মায়েরা আর বলেনা যে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হলেই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবে।

Youth voice-এ এসে মেম্বাররা তাদের সব রকমের অনুভূতি প্রকাশ করার একটা জায়গা পায়। যে কথা এতদিন কাউকে বলা যেত না, সেই কথা গ্রুপে শেয়ার করতে পারে। আবার কখনো গ্রুপের মধ্যেই কিছু সমস্যা হলে সবার অনুভূতি ও মতামত জেনে আমরা চেষ্টা করি একটা পসিটিভ জায়গাতে পৌঁছনোর। এইভাবে চলার ফলে সবার মনে হয় যে এটা আমার গ্রুপ, এখানে আবার আসবো।

এছাড়া আমাকে আমার বিবাহিত জীবনেও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রথম প্রথম খুবই খারাপ লাগত। তারপর ধীরে ধীরে সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসার নানা উপায় বের করার চেষ্টা করতে শুরু করি। আমি assertive হওয়ার চেষ্টা করি। আমার শাশুড়ি মার সঙ্গে সমস্যা হলে আমি ওনার কথা শুনি, তারপর নিজের অসুবিধার কথা বলি। তাতে একটু খারাপ লাগা থাকলেও বিষয়টা তখনের মত মিটমাট হয়ে যায়। আমি আবার স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করি ও ওনার সাথে ভালোভাবে কথাও বলি। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ কোন সমস্যা হলে আমি ব্যক্তির দিকে focus না করে পরিস্থিতির দিকে focus করি। পরিস্থিতিকে গ্রহণ করতে পারলে তখনই আমার conflict resolve করতে সুবিধা হয়।

আমার ভিসন আগামী বছরে আমাদের গ্রুপ-কে একটা ট্রেনিং সেন্টার করে তুলব, যেখানে পাড়ার অনেক ছেলে-মেয়ে ট্রেনিং নিতে আসবে। এখানে কাউন্সেলিং সাপোর্টও পাওয়া যাবে।
অন্যদের বলতে চাই কোন conflict হলে সেটা নিয়ে হতাশ হয়ে বসে না থেকে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসার পথ খুঁজলে আমরা হয়ত একটা জায়গা খুঁজে পাবো যেখানে নিজেরা নিজেদের স্বীকৃতি দিতে পারব। আর এই ক্ষমতা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছে।