"Go alone" my mother said [msc]

Krishna Chowdhury, YRC Sobujer Abhijan
Youth Fellow (2012)

Narrated by Krishna Chowdhury, 15 years, YRC Sobujer Abhijan, Gabberia.
Recorded by Krishna Goldar and Binita Chakraborty, 2nd October, 2013. Please see the brief note on MSC for a background on the process.

Like other villages, our village too is surrounded with greenery. Most homes here are made of mud, just a few brickwork ones. My neighbourhood is called Chowdhury Para, named after a family, just like the other paras nearby; Halder Para, Mondol Para, etc. There are many Muslim families too, but they live quite a bit away in a different neighbourhood. People in most paras are quite familiar with each other, but not so with the Muslim families. The Muslim girls study with us in the same school, and so we talk a little bit, but that is the limit of our friendship.

Most men commute daily to Kolkata for work; some are engaged locally in farming or masonry. Women are mostly home makers, few earn through domestic work; many women are members of a self help group. Most children go to school. However, the freedom that boys get to go out to study or work, the girls do not. Girls face many restrictions; so they don't get the opportunities even if they really desire freedom.

In my family there are four - my parents, my sister and me. Ma works as a domestic help, and is also member of a self-help group. Baba does not have one permanent job. He does farming, masonry, painting, whatever is available. I'm in class nine, and my sister is in her third-year in college.

There were no youth clubs in our area. Maybe one, but that's only for boys. There is this theatre group named Jajabar [Itinerant]; they travel and put up plays in different places, but there's not a single girl from our area in that group. However, thanks to the initiative of a youth group in Namkahana, we had a camp here, which gradually led to the formation of our very own youth group. We've named it Sobujer Abhijan [Green Rush]. It's been a couple of years now, I've been a member right from the start, and now i'm an Youth Fellow [TF - YRC programme].

Through my group I found my voice, my confidence, and a sense of responsibility - both for myself and my peers. I learnt to travel far on my own, helped other girls to join the group, and talk about important issues that affect us. Along the way I have received a lot of support from my mother, and have found the courage to push at the boundaries.

I had followed a brother of mine, who had joined the group first. I used to be very tongue-tied, unable to speak with strangers; but the in the group I got a chance to interact with everyone and learned many new things. When the group began discussing Adolescence, it opened up a world of questions I had about myself.

I'd never thought about my physical and emotional changes, and I never ever spoke to anyone about it before. I used to feel that it was wrong to discuss these issues with adults, I used to be very shy. But all that changed in the group - I discovered self-confidence. Through the group I got the chance to visit TF, and now I can do the trip on my own [a 3 hour journey one way!]. I have made many more friends there, and we can all talk about our physical and emotional changes. Initially my mother had objected to my coming to TF, she was afraid for me.  "You can go to the group" she would say "but you are far too young to be travelling so far on your own!" I am a bit afraid of Ma; so though I did not disagree with her directly, I would let her know, through my sister, what we were discussing in the group. For example - we had this training on adolescence at TF, where they used Flip charts; which were then used in our group. I would bring the Flip charts home, first show it to my sister, and then tell her to show it to Ma. This way, I believe Ma has come to understand that we are only trying to learn good things. She hasn't spoken to me directly about it, but she really supports both me and the group a lot.

I'd like to share an incident here. One day at a group meeting there was a woman, the mother of one of the girls in the group, who stood outside the window of the empty school room we usually meet in, listening to our discussions. That day we were discussing Pregnancy. She did not listen to the whole session, didn't even ask us anything, and took her daughter away. Next day she came home and told my mother that I had turned bad after going to the city, that I was learning bad things and teaching that to other girls. She told my mother to stop me from going to the group, for my own good.

I thought Ma would never let me go out of the house again. But I noticed that Ma did not say anything back to her, and eventually the woman left in a huff. Later Ma told me "You must go to the group, whether or not anyone else does. I know what you discuss, you must know about these things, it will help you in future. And if no one will accompany you to the city, you can go alone. You don't need to wait for anyone else".

That really boosted my courage; I believe all young people like me must be aware of our bodies and minds. Otherwise we could end up doing something risky, even out of curiosity. Being aware means I can be safe, and I can help others to be safe by raising their awareness.

There were very few girls in our group in the beginning, and we tried to get more girls in. A few of us group members had asked our friends, but they didn't join then. That was before the sessions on Adolescence. At that time our group was discussing Gender Equality. We had visited all the homes nearby and invited people to join in the discussion. Many people, especially women shared their thoughts on the issue. At the community event that followed, a lot of the women came; our mothers were there, and so were young people. But the men kept their distance, some stood and listened from far away. We used pictures to raise the issue of inequality, and people agreed that women were still denied opportunities, their mobility and their ability to study and work was restricted.

That event was very useful for us, because it helped us get the support of village elders, and many new girls joined the group. That is why we can now discuss Adolescent issues in the group. Whatever barriers we face, we will overcome them eventually, when we all become more aware.

মা বলেছে "একাই যাবি"

আমার নাম কৃষ্ণা, আমি দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার লক্ষ্মীকান্তপুরে গাববেরিয়া নামক একটি গ্রামে থাকি। আমাদের গ্রাম অন্যান্য গ্রামের মতোই সবুজে ঘেরা, বেশিরভাগ বাড়ি মাটির, তবে কিছু কিছু পাকা বাড়িও আছে। আমি যেখানে থাকি সেই পাড়ার নাম “চৌধুরী পাড়া”, এইভাবেই পরিবারের পদবী অনুযায়ী গ্রামের মধ্যে আলাদা আলাদা পাড়া রয়েছে যেমন – হালদার পাড়া, মণ্ডল পাড়া ইত্যাদি। অবশ্য আমাদের গ্রামে বেশ কিছু মুসলিম পরিবার আছে। আমরা যেখানে থাকি সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে তারা আলাদা পাড়ায় থাকে এবং অন্যান্য পাড়ার লোকেদের সাথে একে-অপরের বেশ ভালো যোগাযোগ থাকলেও ওই মুসলিম পাড়ার লোকেদের সাথে অন্যান্যদের সেরকম যোগাযোগ নেই। ওই পাড়ার মেয়েরা গ্রামের স্কুলেই পড়ে, আমরাও সেই স্কুলেই পড়ি সেখানেই ওদের সাথে যেটুকু কথা, মেলামেশা হয়।

গ্রামের বেশিরভাগ পুরুষ প্রতিদিন কলকাতায় কাজে যায় আর এছাড়া জমিতে চাষবাস করে, রাজমিস্ত্রির কাজ করে। মহিলারা বেশিরভাগই গৃহবধূ, কিছুজন পরিচারিকার কাজ করে এবং গ্রামের অনেক মহিলাই সয়ম্ভর গোষ্টীর সদস্য। আর গ্রামের ছেলেমেয়েরা সবাই মোটামুটি স্কুলে পড়ে। তবে ছেলেরা বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার, কাজ করার যে স্বাধীনতাটা পায় আমাদের এলাকার মেয়েদের সেদিক থেকে অনেক বাঁধা, তাদের ইচ্ছে থাকলেও সেইভাবে সুযোগ পায় না।

আমার পরিবারে আমরা চারজন – আমি, দিদি আর মা-বাবা। মা পরিচারিকার কাজ করে এবং গ্রামেরই একটি সয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্য। বাবার কোন স্থায়ী কাজ নেই, যখন যেটা পায় সেটা করেন, যেমন – চাষবাস, রাজমিস্ত্রির কাজ, রঙের কাজ ইত্যাদি। আমি ক্লাস নাইনে গ্রামেরই স্কলে পড়ি এবং দিদি কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমাদের এলাকায় সেভাবে ইয়ূথ ক্লাব ছিল না। যা আছে তাতে শুধু ছেলেরাই সদস্য, যেমন যাযাবর নাট্য সমষ্টি বলে একটি দল আছে যারা নাটক করে বিভিন্ন যায়গায় কিন্তু সেই দলেও এলাকার কোন মেয়ে সদস্য হিসেবে নেই। তবে নামখানার একটি ইয়ূথ দলের কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে আমাদের এখানে একটি ইয়ূথ ক্যাম্প হয় এরপর আসতে আসতে আমরা একটি যুব দল তৈরি করি। দলের নাম দিই “সবুজের অভিযান’। দুবছরেরও বেশি হবে আমরা এই দল গঠন করেছি। আমি প্রথম থেকেই এই দলের সদস্য। আমি একজন ইয়ূথ ফেলোও।


আমার এক দাদা আছে ও এই দলে প্রথম আসে ওর সাথেই আমিও দলে আসি। সেসময় আমার মধ্যে খুব জড়তা ছিল, আমি অচেনা লোকের সাথে কথা বলতে খুবই অস্বস্থিবোধ করতাম। কিন্তু এইদলে সবার সাথে মেলামেশার একটা সুযোগ পেলাম এবং অনেক নতুন বিষয় সম্বন্ধেও জানলাম। সেইভাবেই আমার মনে হয় দলে যখন বয়ঃসন্ধিক্ষনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হল আমার কাছেও একটা সুযোগ এল নিজের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।

আমি আমার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন নিয়ে সেভাবে কখনো ভাবিনি, কারো সাথে কথাও বলিনি কখনো এই ব্যাপারে। আর অনেক সময়ই মনে হত বড়দের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলা ঠিক নয়, লজ্যা পেতাম কিন্তু এই দলে আসার পর আমরা যখন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম তখন আমার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস জন্মালো। দলে আসার সূত্রেই আমি থট্‌শপেও যাওয়ার সুযোগ পেলাম এবং এখন তো একা একাই যাই। দলের সাথে সাথে সেখানেও অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হল আর আমরা নিজেদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলি। আমার থট্‌শপে যাওয়া নিয়ে মায়ের আপত্তি ছিল, ভয় পেত যদি কোন বিপদে পরি। আমায় বলত, “দলে যাও কিন্তু এত ছোট বয়সে একা অতো দূরে যাওয়ার দরকার নেই”। আমি মাকে ভয় পাই তাই সামনাসামনি সেভাবে কিছু না বললেও দিদির মারফৎ আমরা দলে কি নিয়ে আলোচনা করি সেসব জানাতাম। যেমন – বয়ঃসন্ধিক্ষনের পরিবর্তন নিয়ে থট্‌শপে যে ট্রেনিং হত সেখানে Flip Chart-এর ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের এই বিষয়ে বোঝানো হত, এরপর এই আলোচনা দলেও হত, তখন ওই Flip Chartগুলো আমি নিয়ে এসে বাড়িতে দিদিকে দেখাতাম আর ওকে বলতাম মাকে দেখাতে। এভাবে দিদি যখন মাকে এগুলো দেখালো মাও বুঝতে পারলো আমি ভালো কিছুই শিখতে যাই। মা আমাকে সরাসরি না বললেও এখন আমাকে আর আমার দলকে অনেক সমর্থন করে।

এপ্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলতে চাই। একদিন আমরা দলে এই বিষয়ে আলোচনা করছি আর আমরা যে স্কুল ঘরে বসি তার জানলার কাছে দলের একটি মেয়ের মা দাঁড়িয়ে আমাদের আলোচনা শুনছিল। আমরা তখন গর্ভধারণ নিয়ে আলোচনা করছিলাম, উনি পুরো আলোচনা না শুনেই, এমনকি আমাদেরকে কিছু না জিজ্ঞাসা করেই ওনার মেয়েকে নিয়ে চলে যান। পরের দিন আমাদের বাড়িতে এসে মাকে বলতে থাকেন যে আমি কলকাতায় গিয়ে বাজে হয়ে গেছি, খারাপ খারাপ জিনিস শিখে অন্য মেয়েদের শেখাচ্ছি, তাই আমার ভালো চায় তো ওই দলে যেন আমায় আর না পাঠায়। মা সব চুপচাপ শুনছিল আর আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম।

আমার মনে হল আমাকে আর মা ঘর থেকে বেরতে দেবে না। কিন্তু মাকে দেখলাম ওনাকে কিছু বলল না আর উনিও রেগে বেরিয়ে গেলেন। আমায় তারপর মা বলল কেউ দলে যাক না যাক তুই অবশ্যই যাবি, ওখানে যা আলোচনা হয় আমি দেখেছি, আমার মনে হয় তোদের এখন থেকেই এসব জানা উচিৎ ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আর কেউ যদি তোর সাথে কোলকাতায় না যায় তুই একাই যাবি কাউকে ডাকার দরকার নেই।

এরপর আমার মধ্যে আরও সাহস বেড়ে যায় আমার মনে হয় আমার বয়সী সব ছেলেমেয়েদেরই নিজের শরীর-মন সম্বন্ধে জানা উচিৎ, সচেতন থাকা উচিৎ। কারন আমরা এইবয়সে অনেক কিছুই না জেনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার করে ফেলি শুধুমাত্র কৌতূহলের জন্যে, নিজে সচেতন থাকলে সুরক্ষিত থাকবো এবং অন্যরাও যাতে সুরক্ষিত থাকতে পারে তারজন্য তাদেরকেও সচেতন করে তুলতে পারব।

কিন্তু আমাদের দলে মেয়েদের সংখ্যা প্রথম থেকেই খুব কম ছিল, আমরা চেষ্টা করছিলাম মেয়েদের দলে আনতে। এরজন্য আমরা দলের দু-তিন জন সদস্য আমাদের কয়েকজন বন্ধুকেও বলেছিলাম। কিন্তু সেভাবে কেউ আসছিল না। এটা এই বয়ঃসন্ধির ট্রেনিং-এর আগেকার ঘটনা। আমাদের দলে তখন সম্পর্কের সমানতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। আমরা সবাই তখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে আসেপাশের প্রত্যেকটা বাড়িতে গেলাম। তখন অনেকেই তাদের মতামত দিচ্ছিল বিশেষ করে মহিলারা। তাদের আমরা সেসময় আমন্ত্রন করলাম এই বিষয়ের উপর একটা আলোচনা সভায় আসার জন্য। সেখানে যে যে বাড়িতে আমরা গেছিলাম বেশিরভাগ মহিলারা এল, আমাদের মা-রাও এসেছিল, আমাদের বয়সী ছেলে মেয়েরাও এসেছিল। তবে অনেক বলা স্বত্তেও সেভাবে পুরুষরা অংশগ্রহন করেনি। কেউ কেউ দূরে দাঁড়িয়ে শুনছিল। আমরা কিছু ছবি দেখিয়ে সমানতার বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। অনেকেরই মনে হচ্ছিলো মেয়েরা এখনও অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অনেকেই একমত ছিল যে এখনও আমাদের গ্রামে মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার, বাইরে গিয়ে চাকরি করার, কাজ করা স্বাধীনতা নেই।

এই অনুষ্ঠান আমাদের খুব কাজে লেগেছিল কারন গ্রামের বড়দের অনেক সমর্থন পেয়েছি, অনেক নতুন মেয়ে আমাদের দলে যোগ দিয়েছে। এরপরই আমরা দলে বয়ঃসন্ধিক্ষনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে পারছি। আর যেসমস্ত বাঁধা এসেছে সেটাও কাটিয়ে উঠবো যখন আমরা সবাই এই বিষয়ে সচেতন হয়ে যাবো।