Who is Pranay Dolai?

Pranay Dolai
member of YRC GSRI-Sunderbans (2011)
TF Youth Facilitator (2012)

Before I joined my group in 2011, I used to think very differently. Lately I often find myself asking -
Who Am I?
This triggers many thoughts and memories and helps me discover myself in many ways. I am not just a boy, I have many other identities.

A family member
I used to think housework is for girls, why should I do it? When my father was violent with my mother, I kept quiet. It hurt inside, but I didn’t have the words to protest then.

One day my father physically abused my mother badly, and she fell ill and was bedridden for a month. I had to do all the housework and it was then that I realized that housework was not only for women. When the time comes, everyone has to do everything. Also, it was then that my father who began taking care of my mother. I chose that time to discuss this with him. I asked him, with a smile on my face, “Baba, just like you and me, Ma too has the same right to life. It is wrong to try to discipline her at every step. Besides, any problem can be resolved by talking to her, isn’t it?”

It took more than a year for things to change. Initially I encouraged my mother, who was well educated, but home-bound till then, to try for an ICDS job [Government Service]. There were many hurdles along the way, and my father would sometimes suggest we drop the whole idea. But I persisted. Eventually she got the job, and started supporting the family - financially, for the first time. That was a turning point for all of us.

Now at home, there is no division of labour according to gender. Like all other work, when I am about to start cooking or washing up, the thought never crosses my mind that these are my mother or sister-in-law’s responsibilities. I feel that these are my family’s needs, and I have to do them. Now, not only does my father not harass my mother, he also speaks to men who do, and tries to make them understand that it is wrong. Through discussions and through setting an example, I have been able to free 45 homes in my locality (counting my own) of domestic violence. My belief is that domestic violence is not a personal matter. In this way, through my work, I am earning self-respect and belief in myself.

A friend, a group member
I used to be an agent for a company where I had invested a lot of money by making collections from my neighbourhood. Some time back, this company collapsed and I was under a lot of pressure. In that situation, without consulting anybody, I left my both my studies and my group, and joined a call-centre. It was hard. Later when I discussed my situation with my friends, they said, “You are making a second mistake in your attempt to correct the first. There will be many such conflicts in life. Will you leave your education, your group and your life’s purpose because of that?” This made me reflect and I resumed my studies and rejoined my group activities. Gradually I was able to resolve the monetary issues as well. Now I understand how important friendships are.

A believer in equality
Just like society discriminates between women and men, a lot of importance is still given to caste. One day three friends and I had gone to eat at the college canteen. After our meal, not finding a basin, I washed my hands outside instead of washing in my plate, as some people do. The man at the canteen counter asked me, “Pronoy, are you from general caste?” I lied, and "Yes". He said that he had guessed as much, because 'S.C.s' [Scheduled Caste] always washed their hands in very plate they had just eaten from. I then told him that this stereotypical idea of his was totally wrong. An S.C. is like This and a general caste person is like That, Muslims will be a certain way and Hindus another; we needed to change these thoughts, as these had been created by a particular group of people to serve their own interests. How a person will be depends on his home and social environment, not on his religion or caste. I also told him that since he was in the business of running a hotel, he ought to be extra careful about treating people equally. Since I am an S.C., I face many such incidents in life. So when anybody asks me my name, I only say ‘Pronoy’, because surnames apparently give away your caste. It is strange to think that the very same caste system responsible for splitting Bengal into two is still regarded so much in rituals of eating, marriage and even jobs. Is this what we call Constitutional Equality? Is it really serving us in any way?

An awareness advocate
I like to think of myself as an advocate for social awareness. Every year on World AIDS Day, I conduct awareness programmes about this issue. When I speak on the microphone, I feel proud that I am working to increase awareness and rid people of my area of their wrong beliefs. But this makes people of my area talk, including my peers. Some say, “This boy has no self-respect. We won’t talk to him.” Some ask me, “You talk of condoms and sexual relationships publicly. Don’t you feel ashamed?” I say "No!". What can be more shameful than living in an ignorant, unaware society? The more they talk about me, the more I value my work.

Above all my other identities, I am a human being. Some of my identities I was born with, some I have earned, while some have been imposed on me against my wishes, like the fact that I live in a village and that my caste is ‘low’. There are times when I dislike some of my own identities, especially when I hear people talk about them dismissively. But then I think that others may not like some of my identities but I have many more sides to me that are likeable. I feel that if you don’t like a particular facet of an individual, and distance her from your mind, you will lose out on the opportunity to learn from or be helped by her. So even if I don’t like something about someone, I don’t give it much importance. I try and adopt a different perspective and find something I can accept.

A lover
Having watched my parents’ relationship as husband and wife since I was a child, I had this idea that a husband has many responsibilities towards his wife. For example deciding how the wife should conduct herself, disciplining her, pointing out her mistakes and looking after her wellbeing – all these are the husband’s responsibilities. But these stereotypical ideas of mine have changed after getting associated with the ‘We Can campaign’. Though I’m not married, but as a lover, I want my companion to live freely. Just as I have many female friends and am able to go everywhere and return as I please, I want that she too gets the same opportunity and freedom. I have also thought and visualized her living the same way after marriage. Just like a boy’s life doesn’t change overnight with marriage, nor should hers; I don’t want to interfere in her freedom, opportunities, dreams or preferences in any way.

I believe that all of us have innumerable identities and facets. Some get revealed, others remain a little hidden. But if we remain aware of all of them (like I am a boy, a friend, a student, a worker, a homemaker), then we will be able to strengthen and enhance our sense of self, our self-respect and our relationships with others.

আমি কে?

গ্রুপে আসার আগে আমার চিন্তাধারা অন্যরকম ছিল। ইদানিং আমার মনে এক নতুন প্রশ্ন উঠেছে এই প্রশ্নটা আমি নিজেকে প্রতি মুহূর্তে করি। তখন আমার অনেক কিছুই মনে হয়। এভাবে আমি এখন নিজেকে অনেকরকম ভাবে আবিস্কার করতে পেরেছি। এখন আমি মনে করি যে আমি শুধু একটা ছেলে নয়, আমার আরো অনেক পরিচিতি আছে।

বাড়িতে আমি:
আগে আমি আমার বাড়িতে কোনো কাজই করতাম না। ভাবতাম, বাড়ির কাজ মানেই মেয়েদের কাজ, আমি কেন করতে যাবো? শুধু কাজ নয়, বাবা যখন মাকে নানারকম ভাবে হেনস্তা করতো, আমি চুপ করে শুনতাম। কষ্ট হত খুব, কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো কোন ভাষা ছিল না তখন আমার কাছে। একদিন বাবা মাকে ভীষণ ভাবে শারীরিক নির্যাতন করে আর মা খুব অসুস্থ হয়ে একমাস শয্যাশায়ী হয়। আমাকে তখন বাড়ির সমস্ত কাজ করতে হয় আর তখনই বুঝতে পারি বাড়ির কাজ মানে শুধু মেয়েদের কাজ নয়। সময় অনুসারে সবাইকে সব কাজ করতে হয়।
অন্যদিকে মায়ের দেখাশোনা বাবাই করতে থাকলো। আমি সেই সময়েই বাবার সঙ্গে হাসিমুখে আলোচনা করলাম। বললাম, “বাবা, মারও তো আমাদের মতো বাঁচার অধিকার আছে। কথায় কথায় মাকে শাসন করাটা খুবই অন্যায়। তা ছাড়া যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, সেটা তো আলোচনার মাধ্যমেও সমাধান হয়”।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে হতে বছর পেরিয়ে গেছে। প্রথমে আমি মা কে একটা ICDS চাকরি করার জন্য সাপোর্ট করি। মার ভালো লেখা পড়া ছিল, কিন্তু বরাবরই শুধু ঘরের কাজেই ব্যস্ত। সে চাকরি সহজে হয়নি, অনেক বাধা বিপত্তি ছিল; বাবাও মাঝে মাঝে বলত "ছেড়ে দাও, কি দরকার?" কিন্তু হাল ছাড়িনি। অবশেষে চাকরি করে মা সংসারে অর্থনৈতিক সাহায্য যোগাতে শুরু করল। সেই থেকেই পরিবারে অনেক কিছু যেন বদলে গেছে।
এখন আমাদের বাড়িতে কাজ ও লিঙ্গের কোনও ভেদাভেদ নেই। সব কাজের মতো রান্না করা, বাসন মাজতে যাওয়ার আগে আমার একবারও মনে হয়না ওটা মা কিংবা বউদির কাজ। মনে হয় ওটা আমার পরিবারের প্রয়োজন, আমাকেই করতে হবে। বর্তমানে বাবা মাকে হেনস্তা তো করেইনা, বরং যে সমস্ত পুরুষরা এই রকম করে, তাদেরকে বাবা বোঝায়। এভাবে, কথা বলে ও দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমার পরিবারকে নিয়ে আমি আমার পাড়ার ৪৫টা পরিবারে পারিবারিক হিংসার বিনাশ করেছি। কারণ আমি মনে করি পারিবারিক হিংসা কোন ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এভাবে নিজের কাজের মাধ্যমে আমি আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি।

বন্ধুদের কাছে আমি:
আগে যে কোনো সমস্যায় পড়লে নিজেকে খুব একা লাগত আমার। আমি একটা company তে agent ছিলাম এবং এলাকা থেকে টাকা তুলে ওখানে জমিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে ওই company টা বন্ধ হয়ে যায় আর আমি খুব চাপের সম্মুখীন হই। সেই পরিস্থিতিতে আমি কারোর সঙ্গে কোন পরামর্শ না করেই টাকা রোজগারের জন্য পড়াশুনা আর আমার গ্রুপ ছেড়ে একটা call centre এ join করি। সেটা আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে ওরা আমায় বলল, “তুই একটা ভুলকে শুধরানোর জন্য আর একটা ভুল করছিস। জীবনে এই রকম ঘাত-প্রতিঘাত তো থাকবেই। তাই বলে তুই তোর পড়াশুনা, গ্রুপ এবং লক্ষ্য ছেড়ে দিবি?” আমি এই নিয়ে পরে অনেক ভাবলাম এবং আবার আগের মতো পড়াশুনা, গ্রুপ ও নিজের ভালোলাগায় ফিরে গেলাম। ধীরে ধীরে এখন এলাকার টাকার সমস্যাটাও কাটিয়ে উঠতে পেরাছি। এখন বুঝি জীবনে বন্ধুত্বের প্রয়োজন কতটা।

সমানতায় বিশ্বাসী আমি:
নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যের মতই এখনো পর্যন্ত অনেক জায়গায় জাতিভেদ প্রথাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরকমের একটি ঘটনা share করছি। একদিন আমি আর আমার তিন বন্ধু স্কুলের ক্যান্টিনে খেতে যাই। খাওয়ার শেষে বেসিন না থাকায় আমি প্লেটে হাত না ধুয়ে বাইরে এক জায়গায় হাত ধুই। ক্যান্টিনের কাকুটা আমাকে জিজ্ঞেস করে “প্রণয় তুমি কি জেনারেল কাস্ট?” আমি মিথ্যে করে হ্যাঁ বলি। কাকু বলেন সেটা নাকি উনি সহজেই বুঝতে পেরেছেন কারণ S.C. লোকেরা যেখানে খায় সেই প্লেটেই হাত ধুয়ে নেয়। আমি কাকুকে তখন বলেছিলাম যে তার চিরাচরিত ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। S.C. মানেই এই আর জেনারেল কাস্ট মানেই ওই, মুসলিমরা এই রকম হবে আর হিন্দুরা অন্য রকম, এই চিন্তাভাবনাগুলো আমাদের পাল্টানো দরকার কারন এগুলো এক শ্রেণীর মানুষ নিজেদের স্বার্থে তৈরি করেছিল। একজন মানুষ কেমন হবে সেটা নির্ভর করে তার ধর্ম কিংবা জাতের ওপর নয়, বরং তার বাড়ির ও তার সামাজিক পরিবেশের ওপর। আমি ওনাকে এটাও বলি যে যেহেতু উনি খাবারের দোকান চালান, তাই বিশেষ করে ওনার সব মানুষকে সমানভাবে দেখা উচিত। আমি S.C. বলে জীবনে এইরকম অনেক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তাই কেউ আমার নাম জিজ্ঞেস করলে শুধুই প্রণয় বলি, কারণ পদবীর থেকে নাকি জাত বোঝা যায়। ভাবতে অবাক লাগে যে, যে জাতিগত প্রথার জন্য এই বাংলাকে দু-টুকরো করা হয়েছিল, সেটাকে আমরা এখনো খাওয়া-দাওয়া, বিয়ে, এমনকি চাকরির ক্ষেত্রেও প্রাধান্য দিয়ে চলেছি। এই কি আমাদের সাংবিধানিক সমানতা? এতে আমাদের সত্যি কি কোনো লাভ আছে?

আমি একজন সচেতক:
আমি নিজেকে একজন সমাজ সচেতক বলে মনে করি। প্রতি বছর পয়লা ডিসেম্বর বিশ্ব AIDS দিবসে আমি নানারকম প্রোগ্রাম করি এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। যখন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলি, তখন গর্ববোধ করি যে আমি আমার এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আর মানুষের মধ্যে জমে থাকা ভুল ধারনাকে দূর করার কাজ করছি। কিন্তু আমার এই প্রোগ্রাম দেখে সমবয়সী বন্ধু ছাড়াও অনেকেই আমাকে নিয়ে অনেকরকমের আলোচনা করে । কেউ বলে “ওই ছেলেটার মান-সম্মান কিছুই নেই, ওর সঙ্গে কথা বলবোনা।’’ কেউ কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, ‘‘তুই সবার সামনে কণ্ডোম আর যৌন সম্পর্কের কথা বলিস, তোর লজ্জা করে না?’’ আমি বলি ‘না’, কারণ অজ্ঞ, অসচেতন সমাজে বাস করার মতো বড় লজ্জা কি আর কিছু আছে? আমাকে নিয়ে যত সমালোচনা হয়, আমি তত আমার কাজের পরিমাপ করতে পারি। আমি একজন ছেলে: আমার সব পরিচিতির আগে আমি একজন মানুষ। আমার কিছু পরিচয় আমি জন্মসূত্রে পেয়েছি, কিছু আমি নিজে অর্জন করেছি আবার কিছু পরিচয় আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেমন আমি গ্রামে থাকি, আমার জাত ‘নীচু’। এগুলো হয়ত আমার কিছু কিছু সময় ভালোলাগেনা, কিংবা অনেক রকমের কথা শুনতে হয়। কিন্তু আমি ভাবি যে আমার দুটো জিনিস হয়তো অন্যদের পছন্দের নয়, এছাড়া তো আমার অনেক পরিচয় অন্যের ভালোলাগার মত রয়েছে। আমি মনে করি মানুষের একটা দিক ভালো না লাগলে তাকে মন থেকে দূরে সরিয়ে দিলে তার থেকে শেখার বা জানার সুযোগটা আমি হারাবো কিংবা সেও আমাকে সাহায্য করতে পারবেনা। তাই কারোর কোনো একটি পরিচয় আমার ভালো না লাগলেও আমি সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে তার আর বাকি পরিচয়ের দিক থেকে তাকে গ্রহণ করি।

আমি একজন প্রেমিক:
ছোট থেকে বড়দের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক দেখে আমার মনে একটা ধারনা তৈরি হয়েছিল যে একজন স্বামী মানে স্ত্রীর প্রতি তার অনেক দ্বায়িত্ব। স্ত্রীর চলার পথ ঠিক করে দেওয়া, তাকে শাসন করা, তার ভুল ধরা এবং তার ভালোমন্দ দেখতে হয় স্বামীকে। কিন্তু “আমরাই পারি অভিযান”-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেই চিরাচরিত ধারণা এখন পাল্টে গেছে। যদিও আমি এখনো বিয়ে করিনি, তবুও একজন প্রেমিক হিসেবে আমি চাই আমার সঙ্গী স্বাধীনভাবে বাঁচুক। আমার যেমন অনেক মেয়ে বন্ধু আছে, আমি যেমন যেখানে খুশী যেতে পারি, যখন খুশী বাড়ি ফিরতে পারি, তেমনভাবে দেখার চেষ্টা করি যেন সেও সেই সুযোগ ও স্বাধীনতা পায়। এবং আগাম কল্পনা করে রেখেছি ও এখন যেমনভাবে জীবনযাপন করছে, বিয়ের পরেও তেমনটাই থাকবে। বিয়ের পরে যেমন একজন ছেলের জীবনে কোনোরকম পরিবর্তন হয় না তেমনভাবে আমি আমার সঙ্গীর স্বাধীনতা, সুযোগ, স্বপ্ন, ভালোলাগাতে কোনোরকম হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের অসংখ্য পরিচয় আছে। কিছু প্রকাশ পায়, কিছু থাকে একটু আড়ালে। কিন্তু আমরা যদি সবকটির সম্বন্ধে সচেতন থাকি (যেমন, আমি একজন ছেলে, একজন বন্ধু, একজন ছাত্র, একজন অফিস কর্মচারী, কিংবা একজন গৃহকর্মী), তাহলে আমাদের আত্মবোধ, আত্মসম্মান এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে ও দৃঢ় হবে।