Resolving Conflict [msc]

Narrated by Sariba Khatun, 22 years, YRC, Disha, Kuldia- Mograhat
Recorded by Krishna Golder, 19th May, 2013. Please see the brief note on MSC for a background on the process.

I am Sariba, doing my B.A. 2nd year. My family consists of my parents, my elder brother, four younger sisters and four brothers.

I live in a beautiful village with trees, fields, ponds and cultivable land everywhere. Most of us are Muslims and we - both women and men - survive on farming, zari embroidery work, or have nurseries. All the people in our neighbourhood are related to one another in some way or the other. My paternal grandfather and uncles were born and raised in this village. We have lived our lives in this close-knit way having good relationship with our neighbours.

The most significant change for me over the last six months is related to how the group has helped me deal with a conflict with my closest friend.

Salina and Sanjwara are my closest childhood friends. I am especially fond of Salina. We have done everything together – studied, played, watched movies – everything. We passed our Madhyamik and Higher Secondary exams together. Whether it be our life experiences or our feelings of joy or sorrow, we have shared everything and stood by each other. Sometimes we would go to the empty fields and talk. Our families trusted us a lot. What is funny is that Salina is actually a paternal aunt of mine, but that never mattered in our friendship.

Our friendship acquired a new dimension when our group Disha [Bengali:"the Way"] was created a year back. There we got to spend some more time with each other and I made many new friends. They were girls from our neighbourhood with whom I hadn’t interacted much in the past. In our group we started having a lot of fun together. We started to get to know and understand ourselves in new ways in the group. We also started engaging with our neighbourhood. This gave us a new identity, and people started looking at us in a new way.

Then one day, something happened that created a lot of distance between me and Salina. A conflict related to property rights developed between Salina’s family and mine. This conflict acquired such a big dimension that we stopped talking to each other, and even had problems being in each other’s presence. Both of us suffered a lot, but we still couldn’t speak because of our family issues. My elder brother Salauddin lives in Salina’s home. When he used to come over and talk about them, I would stop him from mentioning their family. I was very angry then and didn’t want to know what was going on with them.

Then again, I used to feel a lot of pain at not being able to talk to Salina. Salina did not take any initiative to break the ice and so I felt I could not come forward either. I couldn’t figure how to start talking, but continued to try.

It was at this time that our group created a space for us to talk. We were doing activities with the book Exploring My World in our group. All of us used to sit together, but Salina, Sanjwara and I, we just couldn’t talk to each other. Other group members tried to make us interact. Whenever I tried to say something, Salina would avoid me. Yet we did not give up. We continued to sit together, that tension between us reduced and we started to feel lighter.

Now it feels like we will be able to talk. I am continuing to try and she also seems more positive. The way other group members support us and try to make us understand, I feel that we will again become friends, and simultaneously, our relation with our group will become better and stronger. This is my belief.

An awkward moment before Sariba (left) broke the ice with her estranged friends

দ্বন্দ সমাধান

আমি সারিবা, BA 2nd year-এ পড়ি। আমি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ডায়মন্ড হারবার লাইনে মগ্রাহাটের কুলদিয়া গ্রামে থাকি। আমার পাড়ার নাম শেখ পাড়া। আমার বাড়িতে আমি, বাবা, মা, এক দাদা, চারটে বোন আর চারটে ভাই। আমার পাড়াটা খুবই সুন্দর। চারিদিকে গাছপালা, মাঠ, পুকুর আর চাষের জমি। আমরা সবাই মুসলিম । আমার পাড়ার বেশিরভাগ মানুষ - মহিলা এবং পুরুষ - উভয়ে চাষের কাজ করেন, বা জরির কাজ বা নার্সারির ব্যবসা করেন। হাতে গোণা কয়েকজন মানুষ চাকরি করেন।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালোই। আমার পাড়ার সমস্ত লোকই একে অপরের আত্মীয়, কোন না কোন ভাবে সম্পর্কিত। আমার বাড়ির আশেপাশে যারা থাকেন, তারা হয় আমার কাকা বা জ্যাঠা, এইভাবে। আমার বাবার বাবা-কাকারা এই গ্রামে জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন। এইভাবেই গ্রামটার মধ্যে সবাই মিলেমিশে থাকতেন। আমিও এইভাবেই বড় হয়েছি।

ছোটবেলা থেকে আমার খুব ভাল বন্ধু হোল সালিনা, সাঞ্জুয়ারা, এরা। সালিনা হোল প্রিয় বন্ধু। আমরা দুজনে পড়াশোনা, খেলাধুলা, গল্প করা, সিনেমা দেখা, সবকিছু একসাথে করেছি। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক একসাথে পাস করেছি। যে কোনো গল্প হোক বা মনের সুখ-দুঃখের কথাই হোক, আমরা দুজনে দুজনেরটা জানতাম । একে অপরের পাশে সবসময় থেকেছি। কখনো কখনো ফাঁকা মাঠে গিয়ে দুজনে কথা বলতাম। আমাদের বাড়িতেও ভীষণভাবে বিশ্বাস করে। একটা মজার ব্যাপার যে সালিনা সম্পর্কে আমার পিসি হয়, কিন্তু সেটা কখনো আমাদের মাঝে আসেনি।

আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে আরও একটা সুন্দর জায়গা তৈরী হোল ১বছর আগে যখন আমাদের দল তৈরী হোল। দলের নাম দিশা। সেখানে আমরা আরও খানিকটা সময় পেলাম, আর শুধু সালিনা নয়, আরও অনেক বন্ধু পেলাম। তারাও আমাদের পাড়ারই মেয়ে যাদের সাথে আগে খুব একটা কথা হত না। দলের সকলে মিলে একসাথে খুব মজা করতে লাগলাম। দলে এসে আমরা নিজেদেরকে নতুনভাবে জানতে-চিনতে শুরু করলাম। পাড়াকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে লাগলাম। পাড়াতে আমাদের একটা নতুন পরিচিতি তৈরী হোল।

হঠাৎ আমাদের জীবনে একটা ঘটনা ঘটলো, যেটা আমাকে আর সালিনাকে অনেক অনেক দূরে সরিয়ে দিল। আমি আগেই বলেছি যে আমাদের গ্রামে সকলেই আমরা একে অপরের আত্মীয় । আমার বাবার বাবা-কাকারা তাদের পরিবার নিয়ে এখানে থাকতো। এখন তাদের পরের প্রজন্মের সবাই এই গ্রামেই বসবাস করে। তার মধ্যে আমার বাবা, কাকা, সালিনার বাবা, কাকারা সবাই একসাথে থাকি। তাদের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব শুরু হোল। এই দ্বন্দ্বটা এতোটাই বড় রুপ ধারণ করলো যে আমাদের দুজনকে অনেকটা দূরে সরিয়ে দিলো। দুজন দুজনের সাথে কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল, এমনকি মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। আমরা দুজনেই ভীষণ কষ্ট পেতে থাকলাম কিন্তু পারিবারিক সমস্যার জন্যে আমরা কথা বলতে পারতাম না। আমার দাদা সালাউদ্দিন সালিনাদের বাড়িতে থাকে। যখন দাদা এসে ওদের কথা বলত, তখন আমি ওকে ওদের বাড়ির কথা বলতে বারণ করতাম। আমার ভীষণ রাগ হত, ওর কথা শুনতে ইচ্ছেই করতোনা।

কিন্তু আবার কথা বলতে পারছিনা, তার জন্য কষ্ট হতো। সালিনার বরাবরের অভ্যাস যে ও কখনো এগিয়ে আসেনা। ও কোন রকম ইশারাও করত না, তাই আমিও গিয়ে কথা বলতে পারতাম না। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না যে আমি কি করে ওর সাথে কথা বলতে শুরু করতে পারি, কিন্তু সেই চেষ্টা করতে লাগলাম।

ঠিক সেই সময় আমাদের দল সেই জায়গাটা তৈরী করে দিল। আমাদের দলে আমরা ‘আমার পৃথিবীর খোঁজে’ এই বইটা নিয়ে কাজ করি। দলের সবাই এক জায়গায় বসতাম, কিন্তু আমি, সালিনা ও সাঞ্জুয়ারা কথা বলতাম না। দলের অন্যরা চেষ্টা করত আমাদের কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য। আমিও কথা বলার চেষ্টা করলে ও একটু এড়িয়ে যেত।

কিন্তু একসাথে বসতে বসতে সেই জায়গাটা এখন অনেকটা হাল্কা হয়েছে। এখন মনে হতে শুরু করেছে যে আমরা কথা বলতে পারবো। আমি সেই ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি আর ওকেও এখন একটু একটু পসিটিভ লাগছে। দলের সদস্যরা যেভাবে আমাদের বোঝায় আর সাপোর্ট করে, সেখান থেকে এখন আমার বিশ্বাস হয় যে আমরা আবার বন্ধু হয়ে যাব, আর তার সাথে দলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও ভালো এবং দৃঢ় হবে। এটা আমার বিশ্বাস।