Speaking as a Family Man

Md Azaharuddin is the founder member of
YRC KYP Boys, Change Maker,
Gender Volunteer, Youth Facilitator (2013)

I am Azahar and I live in Kuldiya village, Sheikhpara, South 24 Paragnas [West Bengal]. Here, most people survive on daily labour and are little-educated. When I first participated in a Gender workshop [as part of We Can Campaign] at TF in 2009, perhaps I couldn't accept it so much. What I had seen in my family while growing up continued to seem natural and right to me. As part of the workshop I was asked to commit to one change in my personal life. At the time I committed to sharing household chores by doing the task of fetching water and that commitment I kept.

About three years ago I got married and then we had a daughter, Ashifa. These changes in my personal life and at the same time attending workshops regularly, got me reflecting about what I had learnt. And I began to think differently from before.

My wife's name is Jasmina. After our marriage, people at home imposed all the housework on her, and she had to do it all, whether she liked it or not. If she wanted to tell me something, I too, under the pressure of my family, didn't give her too much importance. I used to say "Who will do the housework then, I?" Jasmina would cry and be unhappy. She stopped sharing with me. My family used to make her work extra-hard; because she was from a poor family and her parents had nothing to give us during our marriage, she had to tolerate it all. She would eat after everybody else had eaten. At that time, we were dependant on my brothers, so I could not say anything to change things.

Several months went by like this, and then the brothers decided to separate their households. Only Jasmina, me and our daughter were now in my family. My mother would spend 10 days with each son and then move on to the next.

"My wife and daughter, at home" photo by Azahar
Although we were separate, our homes were still adjacent to each other. So when we started living on our own terms, neither my mother nor any of my sisters-in-law liked it. Though I had begun by just fetching water, slowly it felt natural to pitch in with many other household chores. My family however couldn't stand it if I looked after my daughter for too long, made the bed, chopped vegetables or cooked now and then. My mother used to say "Why should you do these things? These are daughter-in-law's chores!" One day I got angry and said, "We will decide who has what duties at home. We don't need your opinion." To this, my mother and sisters-in-law had retorted, "Think hard before you do all this. If you do too much, the wife will get the upper hand!"

Many things change with time. When my niece Ranu got married, her mother-in-law used to torture her a lot. Ranu asked her mother one day, "Why do you make Chhotoma [Jasmina] suffer needlessly? I am having to bear the consequences of your behaviour at my in-laws' house." After this, my sister-in-law's behaviour changed quite a bit. I too talk to my mother on these issues from time to time, and her deeply ingrained stereotypical ideas are also gradually changing.

At TF, I didn't learn only about gender attitudes, I was also trained on 'active listening' and this too has helped me and my family a lot. Earlier I used to just hear Jasmina's words, but didn't give them any importance. Now I realize that listening attentively to someone and understanding that person through her words is so important! Because I have developed this listening habit, Jasmina can open up to me about everything. If there is some problem between us, we can resolve it through discussion. Because of this, today our relationship is quite good.

Now our daughter has turned one.[2013] We are trying to ensure that she never becomes a victim of discrimination at home, and that she is able to protest if she faces it in future. We want an atmosphere at home, where she can talk openly to us. We want her to dream and share her dream with us, so we can encourage and support her. We want her to have access to all the opportunities she needs to fulfill her dreams.

Recently she was gifted a doll and toy utensils. The gift made me uncomfortable and I gifted her a bat and ball. It turns out that she loves the bat and ball more than the doll and the utensils! Unlike the norm for girls in our village, we want her to be-able to go for higher studies outside our village, travel as far as she wants. We want her to have the freedom to dress as she wishes and live a full life as is her right.

পরিবারের পুরুষ হিসেবে বলছি

আমি আজাহার। বাস করি কুলদিয়া সেখপাড়ায়, যেখানকার বেশীরভাগ মানুষ খেটে-খাওয়া ও অল্পশিক্ষিত। প্রথম যখন ২০০৯ সালে আমি থটশপ ফাউন্ডেসনে gender ট্রেনিং নিই, তখন হয়ত সেটা অতটা গ্রহণ করতে পারিনি। বাড়িতে যা দেখে বড় হয়েছি সেটাই সহজাত ছিল। ওয়ার্কশপ-এ আমাকে আমার ব্যক্তিগত জীবনে যে কোনো একটা পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি নিতে বলা হয়েছিল । সেই সময় আমি ঘরের কাজে হাত লাগাবো ঠিক করেছিলাম - জল বয়ে এনে - সেই প্রতিশ্রুতিটা রেখেছি।

বছর তিনেক আগে আমার বিয়ে হল, আর তারপর আমার মেয়ে হলো, নাম আশিফা। ব্যক্তিগত জীবনের এতগুলো পরিবর্তন,আর একই সময় লাগাতার ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করার ফলে যা শিখছি সেই নিয়ে চিন্তা করতাম। এই করে আমার চিন্তা ধারা আর আগের মত নেই ।

আমার স্ত্রীর নাম জাসমিনা। বিয়ের পর আমার বাড়ির লোক তাকে দিয়ে সব রকম কাজ করাত এবং কষ্ট হলেও তাকে সেসব করতে হত । আমার কাছে বলতে এলে আমিও বাড়ির সকলের চাপে তার কথাগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিতাম না, বলতাম, "বাড়ির কাজ তুমি করবে না তো কি, আমি করব?" জাসমিনা তখন কাঁদত ও মনমরা হয়ে থাকত। আমার সঙ্গে share করাটাও অনেকটা বন্ধ করে দিল । বাড়ির লোক তাকে আরো বেশি করে কাজ করাত, সে গরীব ঘরের মেয়ে বলে আর তার মা-বাবা কিছু দিতে না পারার দরুন তাকে সব সহ্য করতে হত, এবং খেতে হত সবার শেষে। আমি তখন দাদাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, তাই বেশি কিছু বলতে পারতাম না।

বেশ কয়েকমাস এইভাবেই চলার পর আমাদের ভাইদের পরিবার আলাদা-আলাদা হয়ে গেল। আমাদের পরিবারে রইলাম আমি, জাসমিনা এবং আমার মেয়ে। মা ১০ দিন করে এক-একজন ভাইয়ের কাছে থাকত।

কিন্তু আলাদা হলে কি হবে, সবার বাড়ি প্রায় পাশা-পাশি। তাই যখন আমরা নিজেদের মত থাকতে শুরু করলাম সেটা মা বা বৌদিদের কারোরই সহ্য হত না। প্রথম প্রথম শুধু জল বয়ে আনতাম, পরে ঘরের অন্যান্য অনেক কাজ করাটাও স্বাভাবিক লাগত। কিন্তু আমি কল থেকে জল আনছি, মেয়েকে সামলাচ্ছি, বিছানা গুছিয়ে দিচ্ছি, আনাজ কেটে দিচ্ছি, কোনো কোনো দিন রান্না করে দিচ্ছি - এসবে মা-বৌদি সবসময় বিরক্তি দেখাত। মা বলত, "এই কাজগুলো তুই করবি কেন, এগুলো তো বউমার কাজ।" একদিন আমি খুব রাগারাগি করে বললাম, "এই বাড়িতে কে কি করবে সেটা আমরাই ঠিক করব, তোমাদের বলতে হবে না।" তাতে মা-বৌদি বলেছিল, "যেটা করবি, চিন্তা-ভাবনা করে করবি। বেশি করলে কিন্তু বউ মাথায় চড়ে বসবে।"

সময়ের সাথে-সাথে অনেক কিছুই পাল্টায়। আমার ভাইঝি রানুর বিয়ের পর তার শ্বাশুড়ি তার ওপর খুব অত্যাচার করত। রানু একদিন তার মাকে বলল, "তুমি ছোটমাকে বিনা কারণে কেন কষ্ট দাও? তোমার এই আচরণের ফল আমাকে আমার শ্বশুরবাড়িতে ভোগ করতে হচ্ছে।" তারপর থেকে বৌদির ব্যবহার অনেকখানি পাল্টে গেছে। আমি থেকে-থেকে এ বিষয়ে মায়ের সাথেও কথা বলি এবং মায়ের বদ্ধমূল ধারণাগুলোও ধীরে-ধীরে পাল্টাচ্ছে।

থটশপে আমি শুধু Gender-এর বিষয়ে শিখিনি, এখানে Active Listening বিষয়েও আমি ট্রেনিং নিয়েছি আর এটাও আমার পরিবারে অনেকখানি কাজে লেগেছে। আগে জাসমিনার কথা শুধু শুনতাম, গুরুত্ব দিতাম না। এখন বুঝি মন দিয়ে কারো কথা শোনা ও কথার মাধ্যমে সেই মানুষটাকে বোঝা কতটা প্রয়োজনীয়! এইভাবে শোনার অভ্যাস করার ফলে জাসমিনা এখন মন খুলে সব কথা বলতে পারে ও আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে আমরা আলোচনা করে সেটা মিটিয়ে নি। আমাদের সম্পর্কও এই জন্যে আজ খুব ভালো।

আমাদের মেয়ের বয়স ১ বছর[2013] হলো। আমরা চেষ্টা করছি তার সাথে এমন ব্যবহার করতে যাতে সে বাড়িতে বৈষম্যের শিকার না হয়, এবং পরবর্তী সময়ে যাতে বৈষম্যের মুখোমুখি হলে প্রতিবাদ করতে পারে। আমরা ঘরে এমন একটা পরিবেশ তৈরী করতে চাই যাতে সে মন খুলে সব কথা আমাদের বলতে পারে। আমরা চাই সে স্বপ্ন দেখুক, আমাদের বলুক, যাতে আমরা তাকে উতসাহ আর সাহস যোগাতে পারি। তার স্বপ্ন সার্থক হওয়ার জন্য যা সুযোগ সুবিধা দরকার তা সব যেন সে পায়।

কিছু দিন আগে আশিফা একটা পুতুল আর খেলনা-বাটি উপহার পেয়েছিল। সে দেখে আমার বেশ অসোয়াস্তি হলো, তাই আমি ব্যাট-বল এনে দিলাম। এখন দেখি সেই ব্যাট-বলই তার বেশি পছন্দ! গ্রামে সাধারণত মেয়েদের জীবন ধারা যা হয়, অশিফার ক্ষেত্রে তা বদলাতে চাই। আমাদের খুব ইচ্ছে আশিফা যেন অনেক পড়াশোনা করতে পারে - গ্রামের বাইরে যাক, যত দূর খুশি ভ্রমণ করুক। নিজের ইচ্ছার পোশাক পরার স্বাধীনতা, নিজের জীবন পরিপূর্ণ ভাবে বাঁচার তার যে জন্মগত অধিকার, সেটা যেন তার সুরক্ষিত থাকে, তাই চাই।