On Participation

Krishna Goldar
This is Krishna's third post
read her earlier post

This February [2013], nine of us from Thoughtshop Foundation had gone to Puri to participate in the MDG Youth Consultation. MDG refers to Millennium Development Goals. This consultation was to discuss young people’s opinions about the youth issues the government needed to work with over the next five years, and the policies that need to be set up for the benefit of young people the world over.

Young people from different states got together to discuss and discover what our needs really were, and what challenges we were facing in the process of meeting these needs. While creating Development Goals from 2015-2020, the government would take into account our recommendations and these would play a key role in actualizing young people’s needs worldwide. What a great opportunity to articulate our needs to an international audience!

What I liked most about this consultation was this opportunity to participate. Here we were representing not only the young people of West Bengal, but those of the whole world! We were trying to understand the diverse needs of young people from different places, and the challenges faced in trying to fulfill those needs. While listing these needs, I kept feeling – what a great responsibility! If we overlooked something, that need wouldn’t be met, and we would be responsible! We must keep the needs of everybody in mind. After a three day discussion, we were able to come up with 15 things that young people especially need. Most important among these were gender equality, health, education, equality, peace and justice.

This experience was so important for me especially since I am a girl and we live in a society where girls’ opinions are not valued. For example, when my mother got married, she was not asked even once what she wished for! It was as though her family started looking for a groom in the morning, and she was married in the evening. She would spend her whole life with somebody, and even in this matter she had no say, no part. They should have asked her. However, my mother never did this to me or my siblings – she didn’t ever deprive us of our right to have an opinion.

From another perspective, how much does society value the opinions of young people – irrespective of whether they are boys or girls? Do elders ask us what we want in a given situation, what we like, what we want to do with our lives? This consultation holds so much value for me because these people understood that before starting to work to improve our lives, our opinions needed to be taken. They have made us active participants in the process.

I got to learn several new things here. I have never experienced issues like Naxalism or displacement personally. These things impact the lives of youth deeply, but if I hadn’t participated in this consultation, I would never have understood how.

When we were discussing Naxalism and young people from other states were sharing what harassments they face because of this, I thought that young people in my state face similar harassments because of the nature of politics here; I found many similarities. If someone refuses to join the party, she is often made to face many problems, till there is no other way but to join. But this signing up is not based on a participatory or positive feeling for the party. Sometimes young people go ahead and join because of the lure of certain things they crave for at this age - things like money, having an identity, power. The funny thing is, the moment they have power, they start misusing it. They inflict on others the force and the aggression they themselves had faced not so long ago. This is how history repeats itself.

I feel like talking about my participation time and again because here we not only represented young people all over the world, we also represented the true spirit of their participation. Often young people are made to participate in something only in name. Where they ought to have participated actively, they are just made to sit. They don’t have a clue why they have been brought to a certain place nor what they are expected to do there. They come because they have been tagged along, and they know nothing more.

This happened with me too a number of times, when I was younger. I never had any interest in political matters, but the elders of my neighbourhood who were into politics sometimes asked me to come along with them somewhere and I found myself unable to say no. What to do! I used to gather my friends in a 'party spirit' and go along with them. Those who took us with them saw us as heads adding to the crowd of supporters. From a distance, it looked like wonderful youth participation. But to us it was like a picnic, we were each handed a packet of food! It was like a win-win situation - we were happy with our picnic, and they were happy they could demonstrate ‘youth participation’!

I first understood about participation from the 'youth participation ladder game' at one of Thoughtshop Foundation's leadership trainings. Ever since, I started understanding bit by bit that it was my right to choose where I want to go and where not. That no one could force me. Now I can say "No, I won’t go, I don’t wish to". I don’t have trouble saying No anymore.

As for this MDG consultation, we had a clear idea on why and where we were going and what we would do there. After reaching there I saw that we were really able to participate. It was a platform where we could share about our needs, challenges and opportunities freely. Here the facilitators helped a lot in guiding the discussion forward beautifully. This was no lecture where one person would speak and the others would sit listening. Everybody talked, everybody listened. The young people here spoke different languages like Bangla, English, Odiya and Jharkhandi, but we could all participate because each made an effort to understand the other. I really liked the way our opinions were valued here. True participation should be in this spirit.

'অংশগ্রহণ' সম্বন্ধে

এই ফেব্রুয়ারী মাসের ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত থটশপ ফাউন্ডেশন থেকে আমরা নয় জন মিলে পুরীতে গিয়েছিলাম MDG-র Youth Consultation এ অংশগ্রহণ করতে। MDG মানে হল Millennium Development Goals। আগামী পাঁচ বছরে সরকার যুবদের জন্য কি কি বিষয় নিয়ে কাজ করবেন, তাদের সুবিধের জন্য কি কি policy চালু করবেন, সেই বিষয়ে যুবদের মতামত নেওয়ার জন্যই এই consultation। এখানে বিভিন্ন রাজ্যের যুবরা এক জায়গায় হয়েছিলাম আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বার করার জন্য যে আমাদের needs কি এবং Challenges-ই বা কি কি। ২০১৫ - ২০২০ সালের Development Goals তৈরি করার সময় আমাদের recommendation-এর ভিত্তিতে সারা বিশ্বের যুবদের চাহিদা বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কথা আন্তর্জাতিক স্তরে মানুষকে জানানোর জন্য কি বিরাট একটা সুযোগ!

এখানে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমার অংশগ্রহণ করার সুযোগ। শুধু পশ্চিমবঙ্গের যুবদেরই নয়, আমরা সারা বিশ্বের যুবদের প্রতিনিধিত্ব করছিলাম। এক একটা জায়গায় যুবদের চাহিদা কি এবং সেগুলো মেটানোর ক্ষেত্রে challenges-গুলো কি, সেটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। এগুলোর লিস্ট তৈরী করার সময় খালি মনে হচ্ছিল কত বড় দায়িত্ব এটা! কিছু যদি বাদ চলে যায়, তার জন্য আমরা দায়ী হবো! সকলের কথা যেন মাথায় থাকে। তিনদিন আলোচনার পর ১৫ টি চাহিদার কথা আমরা বের করতে পেরেছিলাম, যেগুলো যুবদের বিশেষ প্রয়োজন। সেগুলোর মধ্য কয়েকটা হলো লিঙ্গভিত্তিক সমানতা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষিত রাখার সুযোগ, শিক্ষা, সমানতা, শান্তি, ন্যায় ইত্যাদি।

এটা বিশেষ করে মনে হবে কারণ আমি একটা মেয়ে আর আমরা এমন একটা সমাজে থাকি, যেখানে মেয়েদের কথার কোন মুল্য দেওয়া হয় না। মায়ের মুখেই শুনেছি যে বিয়ের সময় মাকে কেউ একবার জিজ্ঞাসাও করেনি তার কি ইচ্ছে-অনিচ্ছে। মায়ের বাড়ির লোকেরা সকালে দেখাশোনা করল, আর বিকেলে বিয়ে। যেখানে সারা জীবনটা তাকে একজনের সাথে কাটাতে হবে, সে ব্যাপারে তার কোনো মতামত বা অংশগ্রহণ নেই। মাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল। তবে মা উল্টে আমাদের ভাই-বোনকে কোনদিন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেনি।

আরেকটা দিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের সমাজ যুবদের মতামতকেও কতটা মূল্য দেয় - তা ছেলেই হোক বা মেয়ে? বড়রা কি সবসময় আমাদের জিজ্ঞেস করেন, আমরা কি চাই? আমাদের কি ভালো লাগে, আমরা আমাদের জীবন নিয়ে কি করতে ইচ্ছুক? এই consultation এত গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কারণ এই মানুষগুলো বুঝেছে যে আমাদের জীবন আরো উন্নত করার কাজ শুরু করার আগে আমাদের জিজ্ঞেস করা জরুরী। আমাদের এই প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার করে নিয়েছে।

এখানে এসে আমি অনেকগুলো নতুন জিনিসও শিখতে পেরেছি। কোনদিন সেভাবে displacement, Naxalism ইত্যাদি এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হইনি। এই বিষয়গুলোও যুবদেরভীষণভাবে প্রভাবিত করে, কিন্তু ঠিক কিভাবে, সেটা এই MDG তে অংশগ্রহণ না করলে হয়তো কোনদিন বুঝতে পারতাম না।

এখানে যখন Naxalism নিয়ে কথা হচ্ছিল, আর অন্য রাজ্যের যুবরা share করছিল এর জন্য ওরা কি কি অসুবিধা ভোগ করে, তখন আমার মনে হচ্ছিল যে একই রকম সমস্যা আমাদের এখানকার যুবরাও ভোগ করে, politics-এর জন্য। অনেক মিল খুঁজে পেলাম। নামগুলো হয়তো আলাদা, কিন্তু বাস্তব রূপটা একই। যদি কেউ দলে আসতে রাজি না হয়, তাকে বিভিন্ন রকম অসুবিধায় ফেলা হয়। অনেক সময়েই দলে যোগ দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও রাস্তা থাকে না। তাই এই যোগ দেওয়াটা কোনরকম ভালো লাগার ওপর ভিত্তি করে বা অংশগ্রহণমূলক হয় না। এই সময় যুবদের যে যে চাহিদাগুলো থাকে, যেমন রোজগার করা, নিজের পরিচিতি তৈরি করা, ক্ষমতাবান হওয়া, এগুলোর কথা ভেবেই হয়তো যুবরা এগিয়ে যায় যোগ দিতে। একটা মজার ব্যপার হল যে হাতে প্রচুর ক্ষমতা এসে গেলে তারাই আবার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে শুরু করে। যেটা তাদের সাথে হয়েছিল, সেই একই জোরজুলুম তারা অন্যদের উপরে করতে থাকে। এইভাবেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

এখানে বার বার আমার অংশগ্রহণের কথা বলতে ইচ্ছে করছে কারণ আমরা এখানে সারা বিশ্বের যুবদের represent তো করলামই, উপরন্তু তাদের অংশগ্রহণকেও represent করলাম। অনেক সময়েই যুবদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, সেটাকে বলা যায় নামমাত্র অংশগ্রহণ । যেখানে যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা উচিত, সেখানে তাকে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়। এমন একটা জায়গায় তাকে কেন নিয়ে আসা হলো, সে কি করবে - কিছুই সে জানেনা। নিয়ে আসা হয়েছে, সে এসেছে, ব্যাস্! তার বাইরে আর কিছু জানা নেই।

এটা আমার সাথেও কয়েকবার হয়েছে। তখন আমি একটু ছোট। আমার রাজনীতি নিয়ে কোনদিনই আগ্রহ ছিলনা। কিন্তু পাড়ার বড়রা যারা রাজনীতি করত, তারা তাদের সাথে কোথাও যাওয়ার জন্য বললে আমি মুখের উপরে না করতে পারতাম না। তাই কি আর করা, সব বন্ধুদের ডেকে নিয়ে এক সাথে হৈ হৈ করতে করতে যেতাম। যারা নিয়ে যেত, তাদের চোখে আমাদের ভূমিকা ছিল ভীড় বাড়ানো বা supporter হিসেবে। দূর থেকে দেখলে মনে হত কি সুন্দর ভাবে যুবরা অংশগ্রহন করছে। আমাদের কাছে কিন্তু ওটা একটা picnic ছিল। একটা টিফিনের প্যাকেটও পাওয়া যেত! আমরাও খুশ picnic করে আর যে কাকুরা নিয়ে গিয়েছিল তারাও খুশ ‘youth participation’ দেখিয়ে।

অংশগ্রহণের ব্যপারটা আমি প্রথম বুঝতে পারি Thoughtshop-এর একটা ট্রেনিং-এ youth participation ladder game-এর মাধ্যমে। এর পর থেকেই একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলাম, যে আমি কোথায় যাবো আর কোথায় যাবনা, সেটা নিজে ঠিক করব এবং এটা আমার অধিকার। কেউ আমাকে জোর করতে পারে না। এখন বলতে পারি যে না, আমি যাবো না, আমার ইচ্ছে নেই। না বলতে আমার আর অসুবিধা হয়না।

MDG-তে যাওয়ার আগেও আমরা জানতাম যে, আমরা কেন যাচ্ছি, কোথায় যাচ্ছি আর গিয়ে আমরা কি করতে চলেছি।গিয়ে দেখলাম যে সত্যিই আমরা participate করতে পারছি । এটা এমন একটা platform যেখানে আমরা আমাদের চাহিদা, বাধা, সুবিধা, অসুবিধার কথা মন খুলে বলতে পেরেছি। এখানে facilitator-রাও খুব সুন্দর ভাবে আমাদের আলোচনাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। কোনো বক্তৃতা সভা হয়নি যে একজন বলে যাবে আর অন্যরা শুধু শুনবে। সবাই বলেছে আর সবাই শুনেছে। আমরা অনেক ভাষার (বাংলা, ইংরাজি, ওড়িয়া, ঝাড়খন্ডি) যুবরা ছিলাম, তবুও সবাই অংশগ্রহণ করতে পেরেছি কারণ প্রত্যেকে একে অন্যকে বুঝতে চেষ্টা করছে। এখানে যেভাবে আমাদের মতামতকে মর্যাদা দেওয়া হল, সেটা আমার খুব ভাল লেগেছে। মনে হয়েছে, সার্থক অংশগ্রহণ এরকমই হওয়া উচিত।