Little Birds Will Fly

Punam Sadhukhan
Youth Mentor, YRC Nabadisha (2011)


My name is Punam. I live in the Gobindopur locality of Kolkata. A few years back my cousin sister had formed a neighbourhood children's group called Nabadisha. I used to be a member of that group. I now work on child rights with this same group.

Where I live is basically a slum area. The kids here need a lot of things. When I started working with them, I started understanding which of these needs is the greatest.

When I was a kid, there were lots of things that I missed. No one would listen to me. No one ever asked me what I liked, what I wanted. In childhood, the person closest to you is your mother. But my mother could never be there for us. Our father had abandoned us. My mother wanted to give us an education and raise us as good human beings. So she would go out to work every morning and return at night. All day we would be without her. She would leave before we woke up, so we wouldn't see her. Some days I would sit outside our home, waiting for her to return, and eventually fall asleep right there. My elder brother would carry me inside. Some days if I got up early, I would cry and pester her to take me along to the house where she worked. She would relent and take me along, but even that did not make me happy. There they made her work very hard. If I played with their kids, they would abuse Ma. She in turn would scold me. There were lots of toys in their house, but they wouldn’t let me play with them. Ma would sit me down on the floor beside the sofa. I sat quietly, afraid of the shouting Ma may get on my account. They would eat at the table, but made us eat sitting on the floor. This made me very angry. After meals they would lie down to rest, or watching television, but made sure Ma continued to work hard; seeing this made me suffer.

Earlier I used to think these things happened only in my life. But when I started to work with the young people in my neighbourhood, I understood it was their story too. Perhaps their parents too are estranged or they fight a lot. Both parents go to work. Maybe the father returns drunk and beats the mother. This affects the child very badly.

It happened with us too, me and my elder brother. He would see father beating up Ma, and she being unable to retort. Likewise, when Ma used to go out, he would beat me a lot. He would smother me with a pillow pressed upon my face. It hurt badly. Now I feel he acted out like this because he was quite young himself, but had a lot of responsibilities thrust upon him. When his friends called him to come out and play, he was unable to leave me and go, because I was smaller and he had to do everything for me.

Working with the young people in my neighbourhood, I understood that there was no one to give attention to their feelings, just like me at their age; no one to acknowledge them, no one to give them emotional support. Like other kids, they aren’t able to spend their childhood simply in studies and play. The state some families in our area are in! When the parents go out on work, the children often have to manage the household, doing chores like cooking and washing. After working hard all day, they want the company of their mother when she returns in the night, but that doesn’t happen either. The father returns drunk, quarrels and behaves violently. He beats the child along with the mother.

Then it is natural for such children to find a quick way out of this situation. They want someone to understand what they are going through, and to support them. In this situation, if other young people, victims of a similar situation, start supporting them, often a love relationship develops. To escape the hard life at home, they choose an even more difficult path. Without thinking, they get married. This is what we call a child marriage. But those who have never felt love in their own homes, later find themselves incapable of giving love to their partners. That value does not get a chance to develop within. So what used to happen earlier between the parents now starts repeating with the young couple. The girl suffers domestic violence - all kinds of emotional and physical violence.

The society we live in never blames the man, so all this continues unabated. Sometimes the girls end up committing suicide in their adolescence, or they get lost in the pressures of society or the family. Perhaps these are among the '50 million missing women in South Asia' that Amartya Sen wrote his thesis about.

I see these tendencies in the young people in my neighbourhood. TF has made it possible for me to work on and discuss these issues. I spend time with these boys and girls, doing different things like craft, learning English and Maths through fun computer games, enjoying group story reading sessions, and play-acting. We choose stories that instil positive values in the children. Through interactive games, I try to understand what the child's wishes and dreams are. I try to tell them they are entitled to all this. If someone is in a risky situation, I try to understand the situation from the child's point of view. Instead of blaming, or forcing solutions, I try to help her see other options to get out of the mess. Whatever they share, I try to keep it confidential. I remind them that they have wings and they too can fly.




তারাও উড়তে পারে

আমার নাম পুনাম, কলকাতার লেক গার্ডেন্সের গোবিন্দপুর এলাকায় থাকি। বছর পাঁচেক আগে আমার মামাতো দিদি পাড়ার কিছু ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটা গ্রুপ তৈরী করেছিল, যার নাম 'নবদিশা'। সেই ছেলে-মেয়েগুলোর মধ্যে আমিও ছিলাম। এখন একটু বড় হয়ে তার মতই পাড়ার বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করি। সেই নবদিশা গ্রুপ থেকেই আজ আমি থটশপ ফাউন্ডেশনে ইয়ুথ মেন্টর হিসাবে child rights-এর উপর কাজ করি।


আমি যেই এলাকায় থাকি সেটা আসলে বস্তি এরিয়ার মধ্যে পরে। এই এলাকার বাচ্চাদের অনেক কিছু প্রয়োজন আছে। যখন আমি ওদের সাথে মিশতে শুরু করি তখন বুঝতে পারি কোন জায়গায় ওদের বেশি প্রয়োজন।

আমি আমার ছোট বেলার জীবনে অনেক কিছু পাইনি। ছোট বেলায় কেউ আমার মনের কথা শুনত না, কেউ আমায় জিজ্ঞেস করেনি আমার কি ভালো লাগে, আমি কি চাই। সেই বয়সে সব থেকে কাছের মানুষ হয় মা, কিন্তু সেই তো থাকত না! আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছিল। মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাদের দুই ভাই-বোনকে নিজে নিজেই বড় করে মানুষ করে তুলবে, সেই জন্য মা সকাল সকাল কাজে বেরতো আর ফিরত সেই রাতে। সারাদিন মা ছাড়া থাকতাম। সকালে ওঠার আগেই মা আবার চলে যেত, দেখা হত না। একেক দিন মায়ের সাথে কথা বলব বলে বাড়ির বাইরে রকে বসে থাকতাম। অপেক্ষা করতে করতে ওখানেই শুয়ে পড়তাম। দাদা নাকি পরে তুলে নিয়ে যেত। আবার একেক দিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লে মার সাথে যাব বলে বায়না করতাম, মা যেখানে কাজ করে সেখানে যাওয়ার জন্য খুব কাঁদতাম, তাই মা নিয়ে যেত। কিন্তু ওখানে গিয়েও আমার ভালো লাগত না, কারণ ওরা মাকে দিয়ে খুব কাজ করাত। ওদের বাচ্চাদের সাখে খেললে মাকে খুব মুখ করতো। তারপর মা খুব বকত আমাকে। ওদের বাড়িতে অনেক খেলনা ছিল, কিন্ত খেলতে দিত না। মা আমাকে ওদের বাড়িতে সোফার পাশে মেঝেতে বসিয়ে রাখত। মাকে যদি বাজে কিছু বলে, সেই ভয়ে আমিও চুপ চাপ বসে থাকতাম। ওরা চেয়ার টেবিলে বসে খেতো, আর মা আর আমাকে নিচে খেতে দিতো। এতে আমার খুব রাগ ধরত। যখন দেখতাম ওরা খেয়ে উঠে গিয়ে টিভি দেখছে, বা শুয়ে পড়ছে আর মাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে, তখন খুব কষ্ট হত।

আগে মনে হত ঘটনাগুলো শুধু আমার জীবনের ঘটনা, কিন্তু যখন গ্রুপের কাজ করতে শুরু করলাম, বুঝতে পারলাম যে ওটা আমার পাড়ার সব ছেলে-মেয়েদের জীবনের ঘটনা; কারণ মা-বাবা দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, বা তাদের মধ্যে খুব অশান্তি হয়, বাবা ও মা দুজনেই কাজে যায়। বাবা মদ খেয়ে মাকে হয়ত খুব মারে, এটা বাচ্চার ওপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে।

আমার নিজের জীবনেই আমার দাদার ক্ষেত্রে এরম হয়েছিল। ও দেখত বাবা মাকে মারছে, আর মা কিছু বলতে পারছে না। সেরকমই মা কাজে বেরিয়ে গেলে ও আমাকে খুব মার মারত। মুখে বালিস চেপে ধরত। তখন খুব কষ্ট হত। এখন মনে হয় ও এরকম করত কারণ ও খুব ছোট ছিল অথচ ওর ওপর দায়িত্ব খুব বেশি ছিল। ওর বন্ধুরা খেলতে ডাকলে ও যেতে পারত না আমার জন্য, কারণ তখন আমি খুব ছোট্ট ছিলাম আর আমার সমস্ত কাজ ওকেই করতে হত।

আমার পাড়ার ছেলে-মেয়েদের সাথে কাজ করতে করতে বুঝতে পারলাম ঠিক আমার মত ওদেরও মনের কথা শোনার মত কেউ নেই। ওদের স্বীকৃতি দেওয়ার মত কেউ নেই, emotional support দেওয়ার মত কেউ নেই বাড়িতে। আরো পাঁচটা বাচ্চার মত ওরা পড়া ও খেলার মধ্যে দিয়ে ছোটবেলা কাটাতে পারে না। আমাদের পাড়ার কিছু কিছু পরিবারের যা অবস্থা! বাবা-মা কাজে বেড়িয়ে যায় বলে বাচ্চাগুলোকেই অনেক সময় সংসার সামলাতে হয়, যেমন রান্না-বান্না, কাপড় কাচা, ইত্যাদি। সারাদিন এত কষ্ট করার পর বাচ্চা রাতে তার মায়ের সাথে কথা বলবে ভাবে, কিন্তু তা হয় না। হয় বাবা মদ খেয়ে এসে ঝগড়া অশান্তি করে, মাকে মারার সাথে সাথে বাচ্চাটাকেও মারে।

তখন এই পরিস্থিতির থেকে বাচ্চাটি তাড়াতাড়ি বেরোতে চায়। চায় তাদের কষ্টটা কেউ বুঝুক আর তাদেরকে support করুক। তখন যদি তাদেরই বয়সী কিছু বাচ্চা, যারা একই পরিস্থিতি দিয়ে যাচ্ছে, তাদের emotional support দেয়, তবে অনেক সময় ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাড়ির কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তখন তারা আরো কঠিন একটা পথ বেছে নেয়। কিছু না ভেবে তারা বিয়ে করে ফেলে। একেই আমরা বলি child marriage। যারা নিজেরা কোনদিন পরিবারে ভালবাসা পায়নি, তারা পরে নিজেদের স্ত্রীকে সেই জিনিস দিতে পারে না। সেই মুল্যবোধটাই তাদের মধ্যে জন্মায় না। তাই এর পরে বাবা-মায়ের মধ্যে যা হত, একই জিনিস ওদের মধ্যেও হতে শুরু করে। পারিবারিক হিংসা, মানে নানারকম অশান্তি, অত্যাচার মারধোর হতে থাকে মেয়েটার ওপর।

আমরা যে সমাজে বাস করি সেখানে কোনদিন ছেলেদের দোষ দেওয়া হয় না, তাই এইসব চলতেই থাকে। কিশোরী বয়সেই এই সব মেয়েরা কোনসময় আত্মহত্যা করে, বা সমাজ বা পরিবারের চাপে কোথাও হারিয়ে যায়, ঠিক যেমনটা অমর্ত্য সেন বলেছেন তার thesis-এ - দক্ষিন এশিয়াতে ৫ কোটি নিখোঁজ মহিলার কথা।

আমার পাড়ার বাচ্চাদের মধ্যে এই প্রবৃত্তিগুলোই আমি দেখতে পাই, আর এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করার ও কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে Thoughtshop Foundation। আমি ওদের সাথে নানা ধরণের কাজ করি, যেমন craft, computer-এর মাধ্যমে মজা করে English আর অঙ্ক শেখানো, নানা ধরনের গল্প একসাথে মজা করে পড়া, শোনা ও অভিনয় করে দেখানো। এই গল্পগুলো আমরা এমনভাবে বাছি যাতে এর মাধ্যমে ওদের মধ্যে ভালো মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা যায়। ওদের ইচ্ছে কি, ওদের স্বপ্ন কি, এগুলো নানা খেলার মধ্যে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। এগুলো যে তাদের অধিকার সেটা বোঝানোর চেষ্টা করি। কোন বাচ্চা যদি খুব risk-এর জায়গায় থাকে, তাহলে তার ওপর চাপিয়ে না দিয়ে, বা তাকে দোষ না দিয়ে, তার জায়গায় গিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে অন্য কিছু রাস্তা দেখানোর চেষ্টা করি। তারা আমাকে যা বলে সেগুলো secret রাখার চেষ্টা করি। তাদেরকে মনে করাই যে তাদেরও ডানা আছে, তারাও উড়তে পারে।
--