Finding Joy

Jagannath Samanta
this is Jagannath's second post
read his earlier post

Hi! I am Jagannath, 26 years old, and I live in a remote village further south of even South 24 Parganas. I work with a youth group and have been part of the We Can Campaign for the last 6 years.

Like others in my community, I too used to think stereotypically about women and men and the roles they play in society. After joining the 'We Can' campaign, I thought a lot about it, hammered them into different shapes, understood many things, and changed myself in many ways. As a change maker, I now think that women and men should get equal rights. Girls should be able to move about freely, women and men should value each other’s opinions, shouldn’t hurt the other in the process of saying something that is apparently funny, should fulfill their responsibilities towards themselves and their families – I believe in all these things. In struggling with these ways of thinking in the last 6 years, not only have I strengthened these values within myself, but have also tried to change the mentalities of family members and people in my community.

I got married 3 months back. My wife’s name is Khushi [Joy]. In our society, it is a firmly-held belief that marriage equals dowry, and that no marriage is complete without it. People are used to taking things as dowry, not only before the wedding, but even afterwards from time to time. Apparently all of it is for securing the girl’s happiness. For this, we can descend to whatever depths we need to. In my case, there was no question of taking dowry from Khushi’s family. This is unthinkable in our community. I have faced a lot of criticisms for this, but my family supported me a lot in this regard.

Before writing anything more about myself, let me say something about Khushi. She comes from a small family, brought up with a lot of love and indulgence by her family, used to moving about as freely as she wishes. We knew each other for some time even before we got married. When we used to talk, our thoughts matched very well. Gradually we took the decision of sharing everything in our lives with each other and getting married. I had thought about what marriage means to me. It meant a huge responsibility which I, as a man, would have to properly take care of. A woman, leaving behind her maiden home and coming to stay with her in-laws should be able to live happily and freely. Most families in our area continue to think in the old rut. They think that having a daughter-in-law gives them the right to discipline her, and that she doesn’t have any freedom. Nor are her opinions or thoughts valued. Before marriage, I used to hear my parents saying that a daughter-in-law was like a daughter. She couldn’t be treated like others treated the wives of their sons. Then I used to feel very good, and thought that together, myself and 'We Can' had made a difference.

Khushi and Jagannath at the reception, December 2012
We got married with a lot of fanfare on 13th December. From right after the wedding however, the different opinions of different people in the family started interacting like water and oil – they simply wouldn’t blend in! If someone asked my wife to do something and she responded with a “I don’t know how to” or “I can’t”, people’s eyes would become bigger and rounder! Even if they kept quiet, they would think, “What cheek! If other daughters-in-laws are doing it, why can’t you?” If she desired to go out somewhere, perhaps my father would say, “Newly married women shouldn’t go out like this.” No one was talking to the other openly. Everyone seemed to be making excuses. Everyone started feeling that the other was trespassing. Perhaps, being new to our family, she felt very helpless. If I was out, she would call and say, “Where are you? Please come back now.” I used to feel – wasn’t a married man entitled to spend time with his friends?

For a while, where did those values get lost – those that we had painstakingly built within ourselves? I don’t know myself. We were suddenly getting lost in treacherous social cross-currents. My parents were getting lost in the rigid stereotypes or egos of parents-in-law that society had built over ages. I would sometimes question myself, was our fight for humane values destined to end in this way?

Often we would say things without realizing that they were hurtful to her. “You are incapable of doing anything, you can accomplish nothing!””Eat less, there isn’t much rice.” “You can’t lift that? You are useless!” When she said she was hurt, we used to think, “What have we said that is bad enough to hurt her?” Things were like this for a fortnight or so after which I decided to tidy up the mess in my mind.

When I started to think, I felt that yes, it was true that my wife was unused to such words or ways of interacting. What were we doing? We weren’t valuing nor loving one another. I talked to my family members, sometimes individually, sometimes in a group, in an attempt to re-examine what we really thought, understood and believed in, in an attempt to understand what comes first, what has more value. We started to change again during these conversations. Conversations are risky things. If someone really listens to the other with an open mind and shares her feelings as well, both are bound to understand each other and get transformed. I definitely believe this and this is what happened this time as well. The picture was transformed in a flash!

When she got the chance to sing at a programme in our Namkhana Block, the cloistered housewife Khushi came out and sang in front of an audience of nearly 250 people. She recited poetry too. My father didn’t stop her at all. Moreover, the family enjoyed themselves immensely at this gathering. From frequently visiting our neighbouring uncle’s house and interacting vibrantly with their family to going to the market to buy things she liked – Khushi started doing everything. She also started giving music tuitions from home. In these ways, she started living life joyously and freely on her own terms.

Nowadays misunderstandings happen a lot less. Let me share an incident. Our whole family generally eats together. One day I was late in returning, so my parents ate before us. Khushi had cooked the meal and when she asked how the food was, both my parents responded unanimously, “Terrific!” When the two of us sat down to eat later, we realized that there wasn’t a single grain of salt in the vegetable dish. In the evening, all of us had a good laugh about this. This was good, healthy fun. If my family hadn’t considered Khushi to be one of their own, would such clean fun be possible? I won’t say that there is absolutely no problem at home nowadays, but the process of valuing and accepting each other has started. Everyone is able to breathe deeply, laugh freely. And that is not a small beginning.

খুশির কথা

হাই! আমি জগন্নাথ, আমার ২৬ বছর বয়স। দক্ষিণ ২৪ পরগনারও দক্ষিণে বকখালির কাছে একটা প্রত্যন্ত গ্রামে থাকি, একটা যুবদলের সঙ্গে কাজ করি এবং গত ছ'বছর থেকে "আমরাই পারি" অভিযানেরও একজন সদস্য।

আমার কমিউনিটির অনেকের মত আমার মধ্যেও বেশ কিছু stereotypical মানসিকতা ছিল মেয়েদের ও পুরুষদের নিয়ে। "আমরাই পারি" অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেগুলোকে নিয়ে একটু একটু করে নাড়াচাড়া করে ঠোকাঠুকি করে নিজেকে অনেক পরিবর্তন করেছি, অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি। একজন পরিবর্তনকারী হিসেবে এখন আমি মনে করি যে সমাজে ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকার পাওয়া উচিত। মেয়েরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে, নারী পুরুষ একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেবে, নিজে মজা করতে গিয়ে অন্যকে আঘাত দেবে না, একে অপরের প্রতি ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে, এই কথাগুলো বিশ্বাস করি। এই ৬ বছর লড়াই করে আমি আমার মধ্যে এই মূল্যবোধগুলিকে দৃঢ় করেছি তো বটেই, নিজের পরিবার ও আশেপাশের মানুষদের মানসিকতাও পাল্টানোর চেষ্টা করেছি।

৩ মাস আগে আমার বিয়ে হল। আমার স্ত্রীর নাম খুশি। আমাদের সমাজের বদ্ধমূল ধারনা বিয়ে মানে পণ, এটা না হলে বিয়েটা অসম্পন্ন। শুধু বিয়ের সময়ে নয়, বিয়ের পরেও এটা-সেটা নিতে হবে। সবই নাকি মেয়ের সুখের জন্য। তার জন্য যতটা নীচে নামতে হয় আমরা নামতে পারি। আমার বিয়েতে পণের প্রশ্নই ছিল না। আমাদের ওখানে এটা ভাবাই যায় না। এর জন্য অনেকে অনেক সমালোচনাও করেছে, কিন্তু আমার পরিবারের দিক থেকে আমি অনেক support পেয়েছি।

নিজের বিষয়ে আরো লেখার আগে খুশি সম্বন্ধে একটু বলি। খুব ছোট পরিবারের মেয়ে, ছেলেবেলা থেকে খুব আদর-যত্নে মানুষ, স্বাধীনভাবে চলাফেরায় অভ্যস্ত। বিয়ের কিছুদিন আগে থেকেই আমাদের পরিচয়। তখন যখন ওর সঙ্গে কথা হত, তখন আমাদের চিন্তাভাবনা খুব মিলে যেত। আস্তে আস্তে আমরা একে অপরের জীবনের সবকিছু ভাগ করে নেওয়ার জন্যে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম। বিয়ে মানে যে কি, সেই নিয়ে একটা ধারনা আগে থেকেই আমার মধ্যে ছিল। বিয়ে মানে অনেক বড় একটা দায়িত্ব যা পুরুষ হিসেবে আমাকে ঠিকভাবে পালন করতে হবে। একটা মেয়ে যে সবকিছু ছেড়ে একটা নতুন পরিবারে আসবে, সে তার স্বাধীনতা ও মনের আনন্দ নিয়ে যেন চলাফেরা করতে পারে। আমাদের ওদিকে প্রায় সব পরিবারই গতানুগতিক চিন্তাভাবনাগুলোই বহন করে নিয়ে চলেছে। ধারণাটা এমন যে 'বৌমা' মানে শাসন করব, তার কোন স্বাধীনতা নেই, তার চিন্তাভাবনা-মতামতের গুরুত্ব নেই। বিয়ের আগে মা-বাবাকে বলতে শুনতাম যে বউ মানে নিজের মেয়ের মত। আর পাঁচটা বাড়ির মত 'বৌমা' হিসাবে শাসন করলে চলবে না। তখন খুব ভালো লাগত, ভাবতাম যে "আমরাই পারি" অভিযান আর আমি, দুজনে মিলে কিছু করতে পেরেছি।

খুব হৈ-চৈ করে ১৩ই ডিসেম্বর আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের পর থেকেই পরিবারের বিভিন্ন মানুষের তিন-চার ধরনের চিন্তাভাবনা ঠিক যেন তেল আর জল এক জায়গায় হওয়ার মত হতে শুরু করল। কিছুতেই মেলে না! বাড়ির লোকেরা একটা কাজের কথা বললে ও যদি বলত জানি না বা পারব না, সবার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যেত। মুখে কিছু না বললেও মনে মনে বলত, "সাহস তো কম নয়! আর পাঁচটা বাড়ির বউ পারলে তুমি পারবে না কেন?" ও কোথাও বাইরে বেরোতে চাইলে বাবা হয়ত বলে বসলো, "নতুন বউদের বাড়ির বাইরে যেতে নেই।" মন খুলে কথা শুরুই হতে পারছিল না। সবক্ষেত্রেই যেন সবাই সবাইকে একটা অজুহাত দেখাতে শুরু করল। সবার মনে হতে লাগলো একজন আর একজনের জীবনে দখল দিচ্ছে। ও নতুন বলে ওর হয়ত বেশ অসহায় লাগত। আমি বাইরে থাকলে ফোন করে বলত,"কোথায় আছো? এখনি বাড়ি চলে এসো।" আমি ভাবতাম, "বিয়ের পরে কি আমি আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারব না?"

কিছুদিনের জন্য কোথায় হারিয়ে গেছিল এত কষ্ট করে নিজেদের মধ্যে তৈরি করা বিশ্বাসগুলো? নিজেই জানি না। আমরা হঠাৎ করে আবার সমাজের চোরাস্রোতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। বাবা-মা শ্বশুর-শাশুড়ি হওয়ার যে identity বা ego সমাজ তৈরী করে রেখেছে, সেই জায়গাতে হারিয়ে যাচ্ছিল। নিজেকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করতাম, সমাজের যে চোরাস্রোত থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই এতদিন ধরে করছি, তা কি শেষ হয়ে যাবে?

অনেক সময় আমরা অনেক কিছু বলতাম যাতে ও দুঃখ পেত ..."তুমি কিছু পারো না, তোমার দ্বারা কিছুই হবে না", "কম খাবে, চাল কম আছে", "এইটা তুলতে পারছ না, তোমার দ্বারা কিছু হবে না"...। যখন ও বলত ওর খারাপ লাগার কথা, তখন মনে হত "কি এমন বলা হয়েছে যে কষ্ট পাচ্ছ?" এই ভাবে প্রায় দিন পনেরো সবকিছু অগোছালো ভাবে চলার পর নিজের ওলট-পালট হয়ে যাওয়া মনটাকে নিয়ে আবার গোছাতে বসলাম।

ভাবতে বসে মনে হল, ও তো কোনদিন এইধরণের কথার বা ব্যবহারের সম্মুখীন হয়নি। কি করছি আমরা? কেউ কাউকে মূল্য দিচ্ছি না, ভালোবাসছি না। বাড়ির সবার সাথে কথা বললাম, কখনও আলাদাভাবে, কখনও একসঙ্গে, আর আবার নতুনভাবে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম যে আমরা প্রকৃতপক্ষে কি ভাবি, কি বুঝি, কি বিশ্বাস করি। কোন জিনিষটা আগে আসে, কোন জিনিসটার মূল্য বেশি। কথা বলতে বলতে আমরা আবার পাল্টাতে লাগলাম। আলোচনা এমনই একটা ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস যে যদি কেউ সত্যি মন খুলে অন্যের কথা শোনে ও নিজেরটাও share করে, দুজনেই দুজনেরটা বুঝতে বাধ্য, পাল্টাতে বাধ্য। আমি তো এটা বিশ্বাস করি। এই ক্ষেত্রেও তাই হলো। কথা বলার মাধ্যমে হুস করে বদলে গেল জীবনের ছবিটা।

আমাদের নামখানা ব্লকে একটা অনুষ্ঠানে বাড়ির বউ খুশি গান করার সুযোগ পেয়ে প্রায় ২৫০ লোকের সামনে গান গাইল, আবৃত্তিও করল। বাবা আটকালেন তো নাই, বরং সবাই মিলে দারুন আনন্দ হল। এছাড়া পাশের বাড়ির জেঠুদের বাড়িতে গিয়ে আড্ডা দেওয়া, হৈ-চৈ করা, বাজারে গিয়ে নিজের পছন্দমতো জিনিস কেনা কোন কিছুই আটকাল না। ইতিমধ্যে বাড়িতে ও গানের টিউশান দিতে শুরু করল। এই সবের মধ্যে দিয়ে নিজের জীবনটা নিজের মত খোলা-মেলা ভাবে কাটাতে শুরু করল। এখন ভুল বোঝা-বুঝি অনেক কম হয়।

একদিনের ঘটনা share করি। বাড়িতে আমরা সবাই একসঙ্গে খেতে বসি, একদিন আমার দেরী হওয়ায় মা-বাবা আগে খেয়ে নিয়েছিল। সেদিন রান্নাটা ওই করেছিল।যখন জিজ্ঞেস করল, "কেমন হয়েছে?" বাবা-মা দুজনেই সমস্বরে বলল "দারুণ!" আমরা দুজন খেতে বসে টের পেলাম তরকারিতে একবিন্দুও লবণ হয়নি। বিকেলে এটা নিয়ে সবাই খুব হাসাহাসি করলাম। এই মজা করাটা খুব Healthy ছিল। খুশিকে ওরা নিজের লোক না ভাবলে কি এই মজাটা করা সম্ভব হত? আজ আমাদের পরিবারে এ সংক্রান্ত কোন সমস্যা নেই বলব না, তবে একে অপরকে মূল্য দেওয়ার আর গ্রহণ করার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়ে গেছে। সবাই বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারে, প্রাণ খুলে হাসতে পারে। সেটাই বা কম কি?