29 Mar 2015

My World Just Got Bigger

Shampa is a member of YRC Ujaan
Youth Facilitator (2015)
Read her earlier post

I am Shampa, I live in a small neighbourhood in Kolkata. I have grown up seeing various social problems, like men returning home drunk and beating up their wives, being verbal abusive, families feeding boys more and girls less, letting boys participate in various games and competitions and making girls do all the housework. I have faced these things in my own life as well.

To protest against these forms of violence, seven years ago a youth group came into being in our area with the help of Thoughtshop Foundation TF. Here, through discussions, young people learn about themselves and their different identities in society, engage with their neighbourhood, and increase their awareness about issues such as gender-based discrimination and the problems faced in adolescence. They also have a lot of fun doing these things.

I am a member of this group. In the last few years, the group has given me lots of opportunities to get to know and understand myself. It was through this group that I recently got the opportunity of visiting Bangkok for a workshop.

This was the first time that I would travel outside the country. In my mind, there was a lot of fear and many questions. How would I find the people there? Would I be able to interact with them?

It was with these questions in mind that we started out for Bangkok on 20th January. When we finally boarded the plane after completing all the airport formalities, I was really enjoying myself. It was as if I could see the whole world. At places there were streams of blue water flowing along narrow tracks through endless greenery, at other places only the play of blue water. When I looked up, it seemed like someone had thrown fistfuls of cotton all over the sky. It looked like people of different castes and different countries living together harmoniously.

In thus way, looking at the beauties of the whole world, we landed at Bangkok Airport. Our hotel was a one-hour drive from there. It was there that the 4-day training would take place. On our way via taxi from the airport to the hotel, I was looking about at Bangkok. It is a beautiful and clean city. Many cars were running on the road but without a sound. Everyone was busy with their own work.

It was 5 in the evening when we reached the hotel.  All of us retired to our separate rooms and rested a bit before going for dinner. At first it was a little difficult to eat the food served there. It was very different from the food we are used to eating.  Though we couldn’t eat properly, it was fun to see the varieties of new dishes. And I was thinking, would I be able to adjust with the food, with the people, with the society here?

Our training started from the next day. We got ready and assembled at one place, the youth of Philippines, Indonesia, Bangladesh and India. The subject of the training was Identity and Diversity. At first we introduced ourselves and learnt about the issues and problems of each other’s countries. This discussion made me realize that different countries have different problems. Problems were of so many kinds – like domestic violence, gender discrimination, killing each other for trivial reasons, divorce, forcing women - whether married or unmarried - for sex against their will. In many ways we are similar, and there are dissimilarities as well. After the session I felt that we could change these things only when we changed our own mindsets, and we would be able to change our mindsets only when we would know, understand and interact deeply with each other.

Besides, this training has allowed me to know my own identities better, and made me feel that I should, through these very identities of mine, extend my horizon. I will need to interact with different kinds of people and understand where they are coming from. Through the discussions we had in Bangkok, my ideas started getting more clarity in my mind.

Before I participated here, I used to think that I could interact with everybody and adjust with any kind of situation; but I was wrong. So long I had lived contentedly in the small circle that surrounded me, but now I have begun to feel that I need to expand the circumference of that circle. I have a lot of work left to do on myself. After coming here, I have first realized that, just as I face problems with some people because of some of their identity, others may also face a problem with me because of a certain identity of mine! 

If someone shouts to make her opinion heard, can that person be described as a dominating person? Both boys and girls have the right to choose any vocation they like, or to search for life partners who are right for them. Anybody of either sex can have a lover. There is nothing wrong in an adolescent wanting to know about the opposite sex. A blind man may not always need sympathy. The woman is not always responsible for the break-up of a marriage. These things have made me reflect a lot, and through these thoughts I have started to expand my world. One day we had gone boxing in Bangkok, and I saw that the boxing centre was run by a woman. All of us, both boys and girls, had participated in it. This made me realise that whether boy or girl, anyone can do anything according to his/her own capacity and desire. Another day I had gone out alone and bought some things I needed from a shop, and had felt that if I have the confidence and the wish to do so, I can negotiate unknown roads and walk at ease with strangers.

From now on, I will start to interact with people whom I had kept at a distance ….and whom I used to judge on sight.

আমার পৃথিবী আর একটু বড় হল

আমি শম্পা, আমি কলকাতা শহরের ছোট একটা এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দেখতে দেখতে আমি বড় হয়েছি, যেমন মদ খেয়ে এসে স্ত্রীকে মারা, বাজে কথা বলা, ছেলেকে বেশি খেতে দেওয়া আর মেয়েকে কম, ছে্লেকে বিভিন্ন খেলা-প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া এবং মেয়েকে দিয়ে ঘরের কাজ করানো। নিজের জীবনেও আমি এসবের সম্মুখীন হয়েছি।

এইসব হিংসার প্রতিবাদে সাত বছর আগে আমাদের এলাকাতে Thoughtshop Foundation-এর সাহায্যে একটা যুবদল তৈরি হয়। এখানে যুবরা বিভিন্ন ধরণের আলোচনার মাধ্যমে আত্ম-উপলব্ধি করা ও নিজের পরিচয়গুলোকে জানা, নিজের পাড়াকে চেনা, লিঙ্গবৈষম্য, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা ইত্যাদি সম্বন্ধে নিজেদের সচেতনতা বাড়ায় এবং একসাথে অনেক মজা করে।

আমি এই দলের একজন সদস্য। গত কয়েক বছরে এখান থেকে নিজেকে চেনার ও জানার অনেক সুযোগ পেয়েছি। এইরকমই সম্প্রতিকালে দলের সুবাদে আমি একটা সুযোগ পেলাম একটা ট্রেনিং-এর জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার।

এটা ছিল আমার প্রথম দেশের বাইরে যাওয়া। মনে অনেক ভয়, অনেক প্রশ্ন। ওখানকার মানুষ কেমন হবে? আমি সবার সাথে মিশতে পারবো তো?

এই সব  প্রশ্ন নিয়েই আমরা  ২০শে জানুয়ারি ব্যাংকক-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এয়ারপোর্ট-এর সমস্ত নিয়ম পালন করে যখন প্লেনে উঠলাম, তখন খুব মজা লাগছিল। মনে হচ্ছিল যেন পুরো পৃথিবীটাকে আমি দেখতে পারছি। কোথাও নীল জল, সরু সরু রাস্তা ধরে সবুজ-সবুজ গাছপালার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে, আবার কোথাও শুধু নীল জলের খেলা আর ওপরে তাকালে মনে হচ্ছে যে অনেক অনেক তুলো এনে আকাশে কেউ যেন ছড়িয়ে দিয়েছে। যেন এক জাতের মানুষ আর এক জাতের মানুষের সাথে, আর এক দেশের মানুষ আরেক দেশের মানুষের সাথে মিলে-মিশে রয়েছ।

এই ভাবে পুরো পৃথিবীর মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে ব্যাংকক-এর এয়ারপোর্ট-এ এসে পৌছলাম। এয়ারপোর্ট থেকে এক ঘণ্টা দূরে ছিল আমাদের হোটেল। এখানেই অনুষ্ঠিত হবে আমাদের চার দিনের ট্রেনিং। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে করে হোটেলে যাওয়ার পথে দেখতে দেখতে চললাম থাইল্যান্ড দেশটাকে। সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটা দেশ এটা। রাস্তায় অনেক গাড়ি চলছে কিন্তু একদম নিঃশব্দে। সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত।

এইভাবে দেখতে দেখতে হোটেলে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন বিকেল ৫টা। তারপর যে-যার রুমে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবারের জন্য গেলাম। ওখানকার খাবার খেতে প্রথমে একটু অসুবিধেই হছিল। আমরা যে ধরণের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত্ তার থেকে একদম আলাদা। পেট ভরে না খেতে পারলেও বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন খাবার দেখে বেশ মজাও লেগেছিল। আর মনে-মনে ভাবছিলাম, আমি কি পারবো এখানকার খাবারের সাথে, এখানকার মানুষের সাথে, এখানকার সমাজের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে? 

পরদিন থেকে শুরু হল আমাদের ট্রেনিং। সকাল ৮:৩০তে রেডি হয়ে এক জায়গায় হলাম ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের যুবরা। এখানকার ট্রেনিং-এর বিষয় ছিল পরিচিতি এবং প্রকারভেদ। প্রথমে আমরা নিজেদের পরিচয় দিলাম, একে অন্যের দেশের সমস্যা সম্পর্কে জানলাম। এই আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম যে বিভিন্ন দেশের সমস্যা বিভিন্ন। সমস্যা তো কত রকমেরই, যেমন পারিবারিক হিংসা, লিঙ্গবৈষম্য, তুচ্ছ কারণে একে-অপরকে মেরে ফেলা, বিবাহবিচ্ছেদ, বিবাহিত মহিলাই হোক বা অবিবাহিত, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক মিলনের জন্য জোর করা ইত্যাদি। অনেক সমস্যায় অন্যদের আমাদের সাথে মিল আছে, আবার অনেক অমিলও আছে। সেশনের পর মনে হয়েছিল যে এগুলো তখনই পাল্টাতে পারবো যখন আমরা আমাদের মানসিকতাকে পাল্টাতে পারবো, আর মানসিকতা তখনই পাল্টাবে যখন আমরা একে-অপরকে ভালেভাবে বুঝতে-চিনতে পারবো ও একে-অপরের সাথে মিশতে পারবো।

এছাড়াও এখানে এসে নিজেদের বিভিন্ন পরিচিতিগুলোকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারলাম, আর বুঝতে পারলাম যে এই সব পরিচিতির মধ্যে দিয়ে নিজের পরিধিটাকে আরও বাড়াতে হবে। সব ধরণের মানুষের সাথে মিশতে হবে এবং তাদেরকে বুঝতে হবে। এখানকার নানা আলোচনার মাধ্যমে নিজের ধারণাগুলো আরও পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। এখানে অংশগ্রহণ করার আগে মনে হত যে আমি সবার সাথে মিশতে পারি এবং সব জায়গায় সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি।

কিন্তু এটা আমার ভুল ধারণা ছিল। আমার চারপাশের ছোটো একটা গোলের মধ্যে এতদিন নিশ্চিন্তে বাস করতাম, কিন্তু এখন মনে হতে শুরু করেছে যে আমার চারপাশের গোলটাকে আরো অনেক বড় করতে হবে। নিজের মধ্যে এখনও অনেক কাজ করার বাকি আছে। এখানে এসে প্রথমবার মনে হয়েছে, অন্য কারোর কোনও একটা পরিচিতিতে আমার যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমন আমারও কোনও পরিচিতিতে অন্যেরও অসুবিধা হতে পারে। কেউ যদি খুব জোরে চীৎকার করে নিজের কথা জাহির করে তাহলে তাকে কি dominating মানুষ বলা যায়? ছেলেদের ও মেয়েদের দুজনেরই অধিকার আছে ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো কাজ জীবিকা হিসেবে বেছে নেওয়ার, বা নিজেদের জীবনসঙ্গীকে খুঁজে নেওয়ার। যে কোনো কারোর প্রেমিক/প্রেমিকা থাকতে পারে। কোনও বয়ঃসন্ধিকালের ছেলে/মেয়ে যদি বিপরীত লিঙ্গের সমন্ধে জানতে চায়, তাতে ভুল কিছু নেই। একজন অন্ধ মানুষের যে সব সময় সহানুভূতির প্রয়োজন তা নয়। একটা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য সব সময় মহিলাই দায়ী নয়।

এই সব জিনিষ আমাকে আরও বেশি করে ভাবাতে শুরু করেছে, ও এই চিন্তা-ভাবনার মধ্যে দিয়ে  আমি নিজের পরিধিটাকে আরো বাড়াতে শুরু করেছি। ব্যাংকক-এ একদিন আমরা বক্সিং করতে গিয়েছিলাম, দেখেছিলাম যে সেই বক্সিং সেন্টারটি একজন মহিলা চালান। সেখানে আমরা ছেলে-মেয়ে সবাই অংশগ্রহণ করেছিলাম, আর সেখান থেকে বুঝতে পেরেছিলাম যে, ছেলে হোক বা মেয়ে, সে তার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা অনুযায়ী সব কাজ করতে পারে। একদিন আমি বাইরে একা বেড়িয়ে দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে এসেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল যে আমার মধ্যে যদি আত্মবিশ্বাস আর ইচ্ছা থাকে তাহলে বিদেশের রাস্তা হোক বা বিদেশের মানুষই হোক, সবার সঙ্গে আমি চলতে পারব। এবার থেকে আমি সেই সব মানুষের সাথে মিশতে শুরু করব যাদেরকে আমি কোনও একটা প্তিচিতের(?) জন্য দূরে সরিয়ে রাখতাম আর দেখেই বিচার করে নিতাম।


1 comment:

  1. Khub sundor vabe bisoy take bojhale. Thank you. Tumi aro beshi change ante parbe.


You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here