25 Oct 2014

My Leadership Journey - Azhar

Azhar is the founder member
of YRC "KYP Boys"
Read his earlier post

I am Azhar. My family consists of my daughter, my wife, me, my elder brother, my sister-in-law and their children. I am the youngest of four brothers and four sisters. We used to be a big family when we lived together. Now everyone lives in separate families.

Right from birth, I have grown up in the village of Kuldiya in Mograhat. My father died in an accident when I was only 5 years old. A few years later, when I was studying in class II of the village school, my brother and his wife moved out and started living in a separate household. With this, the financial situation of our family dipped. My brother and his family started living in comparative comfort, but we felt poverty in our home.

Worrying about how to make ends meet made my mother cry every day, and with her, I too would cry. Life went on like this. In the happy days of Eid, I used to watch others enjoying themselves, burning firecrackers. I had no way to do these things, so I just used to watch them and cry. I used to think that had I had someone to bring me firecrackers, how happy my life would be! When I recall these memories, I'm also filled with a sense wonder at how much my life has changed.

After primary school, I started going to high school. I didn’t have a bag to carry my books in. Till class VIII, I used to carry my books to school in a plastic bag. During the tiffin-break at school I used to sit quietly because I never would have any money to buy food. I used to have some water and rice before leaving home in the morning, and that was it. I used to look out for used books at a lower price; my mother and my second brother used to pay for these. I used to walk about 3km to school every day as I didn’t have a bicycle. Sometimes I felt like giving up studies altogether, because my family had a tough time in bearing my educational expenses, and I had to do housework in addition to studying.

When I was in class XI, while playing cricket on behalf of my school, a ball hit my left eye. I was in hospital for nearly three months as my retina had detached. I had two surgeries in Kolkata Medical College and Hospital. Even in this situation, I did not give up my studies. I used to teach smaller boys and girls at home to help pay for my education. With this money, I bought books and paid for my coaching classes.

I had wished to go to college, so in 2006 I enrolled in Mograhat College. At that time also I used to teach younger children at home and in addition, do all the housework in my elder brothers’ families. Mother and I used to eat for 10 days each at each of my three elder brothers’ places, and whichever place I was eating at, I would have to do all their housework to pay for our meals.

I finished college in 2009 and fell in love around that time. Her name was Jasmina. In 2011, I completed my MA as well, and then we got married.

While at college, I was also learning computers at a welfare centre. It was here that I met Himalini-di, and through her, I first got associated with Thoughtshop Foundation (TF) in 2010. When I first started knowing and learning about myself in a completely new way here at TF, I remembered those old days a lot. The time when my elder brother and sister-in-law deliberately made me work so hard, and I never said anything. The times when I got beaten without having committed any crime, and still never protested. The times when I felt that I would have to endure whatever they did to me. They never considered anything I said to be important. My elder brother used to slap me and say, “You’re a kid, what does your opinion matter?” I said, “I am in college, am I still a kid?” But in that household, I never mattered.

And so TF came to mean a place to me where I could open my heart and speak, and listen similarly to what others wanted to say. Before this, I had not been able to talk to anybody, not even to my mother, because what I had to say would only make her cry. So when I got a space to talk and listen at TF, I felt a new strength within me. I thought that had I known before what I knew now, my life could have been much different.

At present I have a family of my own – my life now consists of Jasmina and my two-year old, Asifa. Even now, in our neighbourhood, there are still a lot of issues about women coming out of home, or letting women pursue something that they would like to do. The words of the parents still constitute the last words. I used to see a number of people in our village who did not get the space to speak, whom nobody listened to. My fellowship from TF allowed me to create a group in my area, called KYP (Kuldiya Jubo Procheshta). We have about 25 members at present, from 10 year olds to 30 year olds. We really had need of such a place in our community.

As a group, we all sit together and enjoy ourselves. We listen attentively to each other. People of all ages get a chance to talk about their problems. It is the first time that such a space has come to exist, where the young and elders can sit together and have discussions. In our group, everyone’s opinion is valued. We feel that, through talking about things together, we will be able to find solutions to any and every problem.

An important aim of our group is to create a space for women, and talk to people about their right to come out of home. We face a lot of problems while working for the equal rights of women and men. Some religious arguments also come up. With strong, logical counter-arguments, we have been able to resolve these a lot. Now many people trust and help us because, to some extent, we have been able to communicate our views to them without hurting their values in the process. There is no dearth of problems, but still I, along with my group, have been able to resolve a lot of problems. We are continuing to work in our neighbourhhood despite a lot of challenges. We trust that we will be able to bring people out of the miasma of misconceptions and prejudices that they have lived with for years.

If we can continue to work on the issue of equal relationships in this way, then we will be able to drive away many women-discriminatory ideas from the minds of the local people, and return to women their right to move about freely as they please. Religious prejudices will be reduced a lot, and consequently people of both sexes will be able to enjoy sitting together here in this village of Kuldiya, and talking about things that matter to them. This is our dream for our group.

আমার নেতৃত্বের যাত্রা

আমি আজাহার। আমার পরিবার বলতে আমার মেয়ে, স্ত্রী, আমি, আমার মা, দাদা-বৌদি এবং ওদের ছেলে-মেয়েরা। আমরা চার ভাই, চার বোন, আর সবার থেকে আমি ছোট। এই সকলকে নিয়ে আমরা একটি বড় পরিবার ছিলাম। এখন প্রত্যেক পরিবার আলাদা আলাদা।
জন্ম থেকে আমি মগরাহাট কুলদিয়া গ্রামে বড় হয়েছি। আমার মাত্র ৫ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যায় একটি দুর্ঘটনায়। তার কয়েক বছর পর, যখন আমি আমাদের গ্রামের স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়াশোনা করছি, তখন দাদা ও বৌদি আলাদা হয়ে যায়, এবং আমাদের সংসারের আর্থিক দিকটা অনেকখানি দুর্বল হয়ে পড়ে।

দাদারা বেশ আরামে দিন কাটাতে শুরু করে, কিন্তু আমাদের সংসারে অভাব দেখা দেয়। সেই সময় কি করে সংসার চালাবে সেই দুশ্চিন্তায় মা রোজ কাঁদত ও তার সাথে-সাথে আমিও কাঁদতাম। এই রকম ভাবে চলতে থাকল জীবন। যখন খুশির ঈদ আসত, দেখতাম সবাই আনন্দ করছে, বাজি পোড়াচ্ছে, আমি সেসব করতে পারছি না। তখন আমি শুধু দেখতাম আর কাঁদতাম। ভাবতাম আমায়ও যদি কেউ বাজি এনে দেওয়ার থাকত, তাহলে আমি কতই না খুশিতে থাকতাম।

তার পর প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে হাইস্কুলে গেলাম। বই নিয়ে যাওয়ার কোন ব্যাগ ছিল না, অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত প্লাস্টিকে করে বই নিয়ে যেতাম। টিফিনে চুপ করে বসে থাকতাম, কারণ আমার কাছে পয়সা থাকত না। জল দেওয়া ভাত খেয়ে সকালে বাড়ি থেকে বেরোতাম। পুরনো বই যোগাড় করতাম অল্প দামে; মা ও মেজদা মিলে তার দাম দিত। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হেঁটে রোজ যাতায়াত করতাম, সাইকেল ছিল না। মাঝে মাঝে মনে হত পড়াশোনা ছেড়ে দিই কারণ বাড়ির লোকের পড়ার মাইনে দিতে অসুবিধে হত, বাড়ির কাজও করতে হত পড়ার ফাঁকে।

আমি যখন একাদশ শ্রেনীতে যখন পড়ি, সে সময় স্কুলের হয়ে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বাঁ চোখে বল এসে লাগে। প্রায় তিন মাস হসপিটালে ছিলাম কারণ রেটিনার পর্দা ছিড়ে গিয়েছিল। কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে দুবার অপারেশন করানো হয়। এসবের মধ্যেও পড়া বন্ধ করে দিই নি। পড়ার খরচ যোগাড় করার জন্য বাড়িতে ছোট ছেলে-মেয়েদের পড়াতাম। সেই টাকায় বই কিনতাম ও মাস্টারের মাইনে দিতাম।
আমার ইচ্ছে ছিল আমি কলেজে পড়ব, তাই ২০০৬ সালে মগরাহাট কলেজে ভর্তি হই। তখনও বাড়িতে পড়াতাম, এবং সেই সাথে সাথে দাদাদের সংসারে সমস্ত কাজ আমাকে করতে হত। আমি আর মা দশ দিন করে তিনটি দাদার বাড়িতে খেতাম ও যখন যার বাড়িতে খাচ্ছি, সেই সময়গুলোতে তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে কাজ করে দিতে হত।
২০০৯ সালে কলেজ শেষ হয় এবং আমার জীবনে প্রেম আসে। মেয়েটির নাম জাসমিনা। ২০১১ সালে MA পরীক্ষাও পাশ করি। তারপর আমরা বিয়ে করি।

কলেজে থাকাকালীন আমি ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে কম্পিউটার শিখছিলাম। এখানেই হিমালিনী দিদির সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং দিদির মাধ্যমেই ২০১০ সালে TF-এর সাথে প্রথম যুক্ত হই।
এখানে আসার পর যখন নিজেকে প্রথম এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে জানতে-চিনতে শুরু করলাম, তখন সেই পুরনো দিনগুলোর কথা খুব মনে হত। তখন দাদা-বৌদি ইচ্ছে করে আমাকে কত খাটাত, আমি কিছু বলতাম না। দোষ না করেও মার খেতাম, কোন প্রতিবাদ করতাম না। ওরা যা বলত আমাকে মুখ বুজে মেনে নিতে হবে ভাবতাম। আমি যা বলতাম তার কোনো কিছুকেই ওরা গুরুত্ব দিত না। দাদা চড় মেরে বলত, “বাচ্চা ছেলে, তুই কি মতামত দিবি আমাদের?” আমি বলেছিলাম, “আমি কলেজে পড়ি, আমি বাচ্চা?” তখনকার সংসারে আমার কোনো মূল্য ছিল না।
সে সময় আমার কাছে TF হয়ে উঠল মন খুলে কথা বলার ও শোনার একটা জায়গা। এর আগে আমি কারুর কাছে কোন কথা বলতে পারতাম না, এমন কি মাকেও না, কারণ মা এসব কথা শুনে কাঁদত। এখানে এসে যখন একটা বলার আর শোনার জায়গা আমার নিজের মধ্যে তৈরী হল, তখন নিজের ভেতরে একটা নতুন ক্ষমতা অনুভব করতাম। মনে হত আমি এমন বিষয়গুলো আগে জানলে জীবনটা অনেক অন্যরকম হতে পারত।

বর্তমানে আমার নিজের একটা পরিবার আছে - আমাকে, জাসমিনাকে ও দুবছরের ছোট মেয়ে আশিফাকে নিয়ে চলছে জীবন। এখনো আমাদের পাড়ায় মেয়েদেরকে বাইরে বার হতে দেওয়া ও তাদের ইচ্ছা থাকলেও কোন বিষয়ে কিছু করতে দেওয়ার ক্ষেত্রে নানারকমের বাধা-নিষেধ আছে। বাবা-মার কথাই এখনো শেষ কথা। গ্রামে আমার মত অনেককেই দেখতাম যারা নিজেদের মন খুলে কথা বলার কোন জায়গা পেত না, যাদের কথা কেউ শুনত না। TF-এর Fellowship-এর মাধ্যমে আমার একটা দল তৈরি করার সুযোগ হয়। দলের নাম KYP (কুলদিয়া যুব প্রচেষ্টা)। এখানে এখন প্রায় ২৫ জন সদস্য আছে, যাদের বয়স ১০ বছর থেকে শুরু করে ৩০ বছর পর্যন্ত। আমাদের গ্রামে এমন একটা জায়গার খুব প্রয়োজন ছিল।
দলে আমরা সবাই একসাথে বসি আর অনেক আনন্দ করি। একে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনি। ছোট থেকে বড় সবাই নিজেদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাই। এই প্রথম পাড়াতে এমন একটা জায়গা তৈরী হয়েছে যেখানে ছোট-বড় একসাথে বসে যে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি। দলে প্রত্যেকের মতামতকে সম্মান দেওয়া হয়। মনে হয় যে, একসাথে বসে কথা বললে যেন যে কোন সমস্যা সমাধানের পথ বার করে নিতে পারব।

এই দলের অন্যতম লক্ষ্য হল মেয়েদেরকেও একটা জায়গা তৈরি করে দেওয়া, তাদের বাড়ির বাইরে বার হওয়ার অধিকার পাওয়া নিয়ে সবার সাথে কথা বলা। নারী পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে এলাকায় কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ধর্মীয় দিক দিয়ে কিছু বাধা আমাদের সামনে উপস্থিত হয়।

আমরাও জোরালো যুক্তি দিয়ে এই দিকগুলো অনেকটা সামলে নিতে পেরেছি। এখন অনেকে আমাদেরকে বিশ্বাস করে ও সাহায্য করে কারণ আমরা খানিকটা হলেও তাদের মূল্যবোধগুলোকে অসম্মান না করে নিজেদের কথা তাদের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি। অনেক সমস্যা থাকলেও আজ আমি ও আমার দল আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছুরই সমাধান করতে পারছি। অনেক কষ্ট করে পাড়ার মধ্যে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস যে আমরা পারব কুসংস্কার আর ভুল ধারণার এই ধোঁয়াশা থেকে সবাইকে বার করে আনতে।

এইভাবে যদি সম্পর্কের সমানতা নিয়ে কাজ করে যেতে পারি, তাহলে এলাকার মানুষের মধ্যে থেকে লিঙ্গ-বৈষম্যের ধ্যানধারণাগুলো অনেকটা দূর করতে পারব ও মেয়েদের বাইরে একা যাওয়া-আসা করার স্বাধীনতা তাদের ফিরিয়ে দিতে পারব। সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কারগুলো অনেকখানি দূর হবে, ছেলেরা ও মেয়েরা একসাথে যে কোন বিষয় নিয়ে সহজে মন খুলে কথা বলার যায়গা পাবে এই কুলদিয়া গ্রামে। আমাদের দলের জন্য এটাই আমাদের স্বপ্ন।

No comments:

Post a Comment

You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here