11 Feb 2014

No More Stepping Back

Pinki is a founder member of YRC Alor Sandhan
this is her second post
read her earlier post

Our group, Alor Sandhan, has 25 members; boys and girls from different socio-economic backgrounds, from different castes, and differently-abled people. I have many dreams for my group. I want it to be known not only to people of my neighbourhood, but to people from all the villages in our area. We want to do something for society, something that would make everyone proud of us.

The group is a place of opportunities — here we keep having new experiences. We want everyone to have access to these opportunities and experiences. We think ourselves capable of solving any social conflict. Our group helps people to start living anew and to make progress in their lives.

Alor Sandhan started about two years back. I have been able to know myself and create myself afresh after becoming a part of the group. Earlier I was very confused and hesitant about expressing myself. I used to be scared of travelling alone and of standing up and protesting against bad situations. I remember a long time back I was travelling with my parents to my aunt’s house. A boy in the bus had caught hold of my hand and was trying something dirty with me. I wanted to give him a big slap but could not — I was afraid. If I said something to him, what if he accused me in return! What would people think of me!

That day I could neither say anything, nor could I shift from that place because the bus was terribly crowded. That day I couldn’t protest, but after joining the group, I have become much more courageous, my shyness has reduced, and my thought process has also changed. Now I do not step back from anything.

Let me share an incident. A girl friend and I had gone out in the afternoon of Saraswati puja day. The streets were deserted at that time. There was a field beside the road; some boys were playing football there. When we passed by, a boy called out to us and asked, “Will you take me along with you?” My friend didn’t want me to say anything. She said, “Don’t say anything! What if they do something bad! I know that boy — he has a very bad reputation.” I was also scared, but then I thought, if we kept silent, if we didn’t speak out that day, the boy would think us to be weak and might continue to take advantage of us. So I gathered courage and called the boy. Catching hold of his collar, I said, “We’ll take you with us. But first we’ll dress you up in a saree and bangles, and put a bindi on your forehead just like us.” The boy quickly removed my hand from his collar and stared at us, dumbfounded. Then I told him, “If ever you behave like this again, we’ll show you what we are capable of.”

After this, the boy left without saying anything. My handling of the situation made an impression on my friend. After this incident, I realised that the power to protest is there within me, that instead of ignoring a bad situation, one should always stand up and protest against it, and that I was capable of it. The way I have discovered myself anew through my group, I want all girls to be empowered to protest against the bad things they face in life. They should never think they are weak, for if they think like that, one by one girls will continue to vanish from our society.

Our society gives fewer opportunities to girls than to boys. Earlier there was no equality in my family either. Whenever my mother cooked some tasty dish, she would give my brother a bigger portion. My brother was allowed to go out anywhere he liked, I wasn’t. My brother got all kinds of opportunities, and I was deprived of many. This made me angry with my parents and my brother. He and I would fight over little things. Gradually we were getting more and more distant from each other. But one day, a workshop was conducted in our group on the subject of the equality of women and men. It taught me and my brother how to establish equality and peace in the family. After that, our family situation changed a lot. Now we don’t fight any more. If our father brings any food from outside my brother and I share it. He helps me out with chores — makes beds, fetches water and sometimes serves us food.

Earlier in our neighbourhood, if a girl talked to a boy, then that girl was considered to have a bad character, but a boy was not considered bad if he spoke to a girl. Now, after the group conducted some events here on gender equality, and had conversations with the people about this, they were able to change their mindsets to a large extent. Now people do not judge girls as easily.

Despite knowing that marrying off a girl before she is 18 is a punishable offence, people in our society frequently continue to do so. B is a member of our group. Her parents arranged a match for her when she was just 17. One day she came to the group-meeting and told us about her impending marriage. We advised her to openly talk to her parents about her unwillingness to marry. When B did not turn up at the following week’s group-meeting, we made enquiries and got to know that her parents had stopped her, thinking we were leading their daughter astray. So one day all the group members visited their house and had a conversation with the parents. We talked about what B really wanted to do, what her dreams were. We added that early marriage would not only cause her to be waylaid from her path and cause her dreams to remain unfulfilled, it could also affect her health. We requested the parents to talk to the boy with whom the marriage had been fixed, and get B married only when she was ready for it.

At the group-meeting the following week, we had thought B would not come, but after a while she did. She told us that her marriage had been rescheduled 4-5 years later.



আর পিছপা হই না

আমি পিংকি। আমাদের একটা গ্রুপ আছে, নাম “আলোর সন্ধান”। গ্রুপটা দমদম-এর কাদিহাটিতে অবস্থিত, এবং ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে এখানে মোট ২৫ জন সদস্য আছে। আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার, বিভিন্ন জাত ও ধর্মের, বিভিন্ন শিক্ষাগত পটভুমিকার এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ আছে। এই গ্রুপকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে। আমি চাই যে আমাদের গ্রুপ শুধুমাত্র পাড়ার মানুষজনের কাছে নয়, প্রতিটা গ্রামের মানুষের কাছে যেন পরিচিত হয়। আমরা সকলে মিলে সমাজে এমন কিছু কাজ করতে চাই যাতে সকলে আমাদের নিয়ে গর্বিত হয়।

আমাদের গ্রুপ একটা সুযোগের জায়গা — এখানে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হতেই থাকে, আর আমরা চাই এই নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ যেন প্রতিটা ছেলে-মেয়ে পায়। আমরা দলবদ্ধভাবে যে কোনো সামাজিক দ্বন্দ্বের সমাধান করতে নিজেদের সক্ষম মনে করি। আমাদের গ্রুপ মানুষকে নতুন করে বাঁচতে সাহায্য করে এবং জীবনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

আমাদের গ্রুপটা প্রায় দুবছর আগে তৈরি হয়। আমি এই গ্রুপে যুক্ত হয়ে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে বা গড়তে পেরেছি। আগে আমার মধ্যে অনেক জড়তা ছিল, আমি রাস্তাঘাটে একা চলতে ভয় পেতাম, যে কোনো খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সেটার মোকাবিলা করতে ভয় পেতাম। মনে পড়ে অনেকদিন আগে একদিন আমি আমার বাবা-মা-র সাথে মাসির বাড়ি যাচ্ছিলাম, আর বাসের মধ্যে একটা ছেলে আমার হাত ধরে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। আমার ইচ্ছে করেছিল ছেলেটাকে ঠাসিয়ে একটা থাপ্পড় মারতে কিন্তু আমি পারিনি কারণ আমার মধ্যে একটা ভয় কাজ করছিল — ছেলেটাকে কিছু বললে সে উল্টে আমায় দোষী করবে না তো! আশেপাশের মানুষ আমায় যদি খারাপ ভাবে! সেদিন কিছু বলতেও পারিনি এবং বাসে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় সেখান থেকে সরেও যেতে পারিনি।

সেদিন প্রতিবাদ করতে পারিনি, কিন্তু গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর নিজের মধ্যে অনেক সাহস এসেছে, জড়তা অনেকটাই কেটেছে এবং আমার চিন্তা-ভাবনাও পাল্টেছে। এখন আমি কোনো কিছুতেই পিছপা হই না। একটা ঘটনা শেয়ার করছি। একদিন সরস্বতী পূজোর সময় আমি আর আমার বান্ধবী দুপুরবেলা ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। সেই সময় রাস্তায় কোনো লোকজন ছিল না। রাস্তার পাশে একটা মাঠে কিছু ছেলে খেলছিল। আমরা যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন একটা ছেলে আমাদের ডেকে বলে, “আমাকে তোমাদের সাথে নিয়ে যাবে?” আমি কিছু বলতে যাওয়ায় আমার বান্ধবী আমায় বাধা দেয়, বলে, “কিচ্ছু বলিস না। যদি ওরা কিছু করে! ওই ছেলেটাকে আমি চিনি। ও খুব খারাপ ছেলে।” আমিও কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তারপর ভাবলাম যে আজ যদি চুপ থাকি, যদি কিছু না বলি, তাহলে ওই ছেলেটা আমাদের দুর্বল ভাববে এবং আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে থাকবে। এই ভেবে আমি সাহস করে ছেলেটাকে ডাকি এবং ওর জামার কলার ধরে বলি, “তুই আমাদের সাথে ঘুরতে যাবি তো চল। তোকে আমাদের মতো শাড়ি, চুড়ি, কপালে টিপ পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যাবো।” ছেলেটা তাড়াতাড়ি ওর কলার থেকে আমার হাত সরিয়ে দেয় এবং হতবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকায়। আমি ছেলেটাকে বলি, “আর কোনোদিন যদি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করিস তাহলে দেখে নিস আমরাও কি করতে পারি।”

এরপর ছেলেটা কিছু না বলে চলে যায়। আমার এই আচরণ দেখে আমার বান্ধবী খুব প্রভাবিত হয়। সেই ঘটনার পর আমি বুঝতে পারি যে আমার মধ্যেও প্রতিবাদ করার সাহসটা রয়েছে; যে কোনো খারাপ পরিস্থিতিকে এড়িয়ে না গিয়ে তার মোকাবিলা করা উচিত এবং সেটা আমি করতে পারি।

আমি যেমন এই গ্রুপের মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি তেমনই আমি চাই সব মেয়েরাই তাদের জীবনের যে কোনো খারাপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়ে উঠুক। তারা নিজেদের কোনোসময় যেন দুর্বল না ভাবে, কারণ তারা যদি নিজেদের দুর্বল ভাবলে হয়তো একটার পর একটা মেয়ে আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যেতেই থাকবে।

আমাদের গ্রুপের একটা মেয়ে আগে যে কোনো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে ভয় পেত, কম শিক্ষিত বলে মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় পেত এবং নিজেকে খুব ছোটো মনে করত। সে রাস্তাঘাটে একা চলতে পারতো না ও তার মধ্যে অনেক জড়তা ছিল। কিন্তু আমাদের দলে যুক্ত হওয়ার পর তার মধ্যেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন ও আর কারো সাথে কথা বলতে ভয় পায় না। রাস্তাঘাটে চলার সময় কেউ যদি টোন-টিটকারি মারে তাহলে ও তাদের পাল্টা জবাব দেয়।

আমাদের সমাজে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদেরকে সব জায়গায় কম সুযোগ দেওয়া হয়। আগে আমার পরিবারেও সমানতা একেবারেই ছিল না। বাড়িতে যখনই ভাল কিছু খাবার রান্না হত তখনই মা ভাইকে বেশি করে দিত, যে কোনো জায়গায় ভাইকে একা যেতে দিত, আমাকে ছাড়তো না। আমার ভাই ছেলে বলে সব সুযোগ পেত আর আমি মেয়ে বলে অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতাম। এইজন্য আমি আমার বাবা, মা আর ভাইয়ের উপর রাগ করতাম, ছোটখাটো জিনিস নিয়ে আমার আর আমার ভাইয়ের মধ্যে খুব ঝগড়া হত। ক্রমশ আমাদের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু একদিন আমাদের দলে ছেলে-মেয়ের সমানতার বিষয় নিয়ে একটা ট্রেনিং হল, সেখান থেকে আমি আর ভাই জানতে পারলাম কিভাবে পরিবারে সমানতা ও শান্তি বজায় রাখতে হয়। তারপর থেকে আমাদের পরিবারে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। এখন আমার আর আমার ভাইয়ের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাঁটি হয় না। বাবা বাড়িতে কোনো খাবার আনলে আমরা দুজনে ভাগ করে খাই, যে কোনো কাজে ভাই আমাকে সাহায্য করে। ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে দেয়, জল তুলে দেয় আবার মাঝে মাঝে আমাদের সবার জন্য খাবার বেড়ে দেয়।

আমাদের পাড়ায় আগে কোনো মেয়ে যদি কোনো ছেলের সাথে কথা বলত তাহলে পাড়ার মানুষজন সেই মেয়েকে খুব বাজে ভাবত। অথচ যখন একটা ছেলে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলত তখন তাকে কেউ খারাপ ভাবত না। এখন আমরা দলের সবাই মিলে এই ছেলে-মেয়ের সমানতার বিষয় নিয়ে পাড়ায় ইভেন্ট করার পর এবং এই বিষয় নিয়ে পাড়ার মানুষের সাথে কথা বলার পর তাদের চিন্তাধারা অনেকটাই পাল্টাতে পেরেছি। এখন আর কথায়-কথায় কেউ মেয়েদের খারাপ ভাবে না।

মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ এটা জানা সত্তেও এখনো আমাদের সমাজে অনবরত অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দলের একজন সদস্য বনশ্রী। ওর বাবা-মা ওর বিয়ে ঠিক করে যখন ওর ১৭ বছর বয়স। একদিন বনশ্রী গ্রুপ মিটিং-এ আসে এবং আমাদের ওর বিয়ের ব্যাপারে জানায়। আমরা সবাই ওকে ওর বাবা-মার সাথে ওর অনিচ্ছা সম্বন্ধে খোলাখুলি কথা বলতে বলি। পরের সপ্তাহের গ্রুপ মিটিং-এ বনশ্রী যখন আসে না তখন আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে ওর বাবা-মা গ্রুপে আসতে দেয়নি কারণ ওনাদের ধারণা আমরা ওকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছি।

একদিন আমরা গ্রুপের সকলে মিলে ওদের বাড়িতে গিয়ে ওর বাবা-মার সাথে কথা বলি। বনশ্রী কি করতে চায়, ওর কি স্বপ্ন এইসব সম্পর্কে আমরা কথা বলি। এটাও বলি যে ওকে অল্পবয়সে বিয়ে দিলে ও যে শুধু ওর লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়বে ও ওর স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তাই নয়, অল্পবয়সে বিবাহের ফলে ওর মধ্যে নানান শারীরিক অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে। আমরা ওনাদেরকে অনুরোধ করি যার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে তার সাথে কথা বলে বিয়েটা এখন বন্ধ রাখতে, ও বনশ্রী যখন এই বিয়ের জন্য প্রস্তুত থাকবে তখন ওর বিয়ে দিতে। পরের সপ্তাহে আমরা যখন গ্রুপ মিটিং-এ বসি তখন আমরা ভেবেছিলাম বনশ্রী হয়তো আর আসবে না, কিন্তু কিছুক্ষণ বাদে ও আসে এবং আমাদের জানায় যে ওর বিয়ে এখন নয়, চার-পাঁচ বছর পরে হবে।
 

No comments:

Post a Comment

You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here