Equality in Relationships

Uma is the founder member of
YRC Nabadisha (2009), Change Maker,
Youth Trainer ('09)
Through the years, I have built up a distinct identity for myself through my work. My work has empowered me a lot — it has taught me to speak clearly and confidently; to not only think about myself, but also of others in challenging situations; to try and resolve conflicts; not to be silent, but to speak up. It has taught me to take responsibility. I still talk individually to the different families in my neighbourhood, so that girls in my area don’t have to deal with violence.

But when my own marriage got fixed for 5th July, 2012, along with joyous anticipation, I was also filled with apprehension for the unknown.

Ever since childhood, I have heard that marriage means sacrificing a lot according to the dictates of society. Taking permission before stepping out of home, eating only after all your in-laws have eaten, things like that. I thought of women after marriage being like fairies with their wings clipped; appearing fairy-like to the world, but to oneself — stripped of her wishes, dependent on others, and neglected. I wondered whether I would be able to live as freely as before.

We are three sisters. Under pressure from society that declares life useless without male offspring, my mother gave birth thrice — and every time to a daughter. Our father, however, never posed any barrier to our happiness, and our freedom to move forward in our own ways. So, from childhood, I’ve lived freely on my own terms. From my own life experiences and from the experience of being associated with TF’s work, I have known that besides our gender identities of being a man or a woman, we have a greater identity, all of us, of being human. And as human beings, whether we are male or female, our desires have a right to be fulfilled equally in society. So whenever the prospect of my marriage came up, and I thought of how I would have to give up everything, even take permission for coming to meet my own parents, I wanted to back out every time.

Besides, I saw my own elder sister tolerate so much after marriage without saying a word. It seemed as if the whole responsibility of the household was solely on her. After she got married, I never saw her thinking of her own joys and desires; she was perennially busy doing housework, cooking for everyone and serving everyone perfectly. Even after all this she was not able to please everyone; people kept expecting more from her, she could not get the label of a “good wife”. Seeing her, I was quite afraid of what marriage does to women.

Ever since childhood, I’ve been hearing that married women shouldn’t visit their parents too often. When I started growing up I thought, if after marriage a boy continued to stay with his parents in his own home, why was there a different rule for women? Ever since, if anyone said anything to my sister about visiting her parents too often, I would give him or her an apt reply. In this way, I started talking about women’s rights at home and in my neighbourhood. After joining TF, I formed a group in our area, and we called it Nabadisha. Boys and girls of the area would get together, and sometimes through art exhibitions, discussions, quizzes or street plays, we tried to make people understand how in society women were being deprived of their rights. In this way, I started developing a unique identity for myself in my locality. I used to like the fact that the same mother who once had felt helpless after giving birth to three daughters, was now made proud by one of them. Thus being able to make my parents, and my neighbourhood people feel that “Women also can”, I discovered the meaning of my life anew.

Deepak has been a long-time friend. One day after we decided to get married, he questioned my desire to continue working after marriage. Why did I want to work, he asked. If he worked hard and gave me the same money as I would have earned, did I need to work even then?

I answered that I worked to build my own identity. And to utilise, instead of wasting, all the valuable life experiences that I had gathered from school, college, and TF. And after this, I asked Deepak a question: what if I asked him the same question? If I earned for him, would he still need to work? Deepak has never opposed my decision to work ever since.

When my marriage was fixed, I thought up of a number of techniques that I would adopt to safeguard my precious identity in the hostile world of in-laws. I thought that when I took any decision, I would keep the others informed for sure, but would not wait for permission. But after marriage, I found that all in-laws’ homes are not the same.

Deepak’s family members are quite open and simple people. They too definitely had some stereotypical ideas about women, but in them I saw a lot of space for accommodating new ideas as well. This space helped me a lot. With time some of the things they have said or done have earned my respect.

For example, take my father-in-law. One day someone was comparing me unfavourably with the other married women, saying I couldn’t cook like them. I found my father-in-law responding, “So what if she can’t cook? Can the others do all that she can do?” These words not only made my position among the other married women of the family clear, it also increased my respect for my father-in-law.

And some things that my mother-in-law does — like standing at the gate to see me off every time I leave for office; and never nurse anger, in words, or in her mind, however late I am in returning — have left me very relieved indeed, and inspired me to return their love twofold. Deepak also understands me well, and even though we have our differences, he accepts me as I am rather than trying to change me. That is why we have become great friends.

So today, with the help of my parents and Deepak’s parents, I have been able to transform many ideas that used to suffocate me earlier regarding the fate of a married woman. I now believe more strongly than before, that everyone is different, and it is possible to have equal in relationships in marriage; and my faith in human beings, in general, has increased.

সম্পর্কে সমানতা

আমি উমা। থটশপ ফাউন্ডেশনে সামাজিক পরিবর্তনকারী হিসেবে কাজ করি। আগে থাকতাম লেক গার্ডেন্সে, এখন বিয়ের পর আমি কসবায় থাকি।

আমি আমার অনেক বছরের কাজের মধ্যে দিয়ে আমাদের পাড়ায় আমার নিজস্ব একটা পরিচয় গড়ে তুলেছি। আমার কাজই আমাকে অনেকটা ক্ষমতাশালী করে তুলেছে — স্বচ্ছভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা, যে কোন সমস্যায় শুধু নিজের কথা না ভেবে অন্যদের কথাও ভাবতে পারা, সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা, চুপ না থেকে কথা বলা — এইসব শিখিয়েছে। আর শিখিয়েছে দায়িত্ব নেওয়া। পাড়ায় মেয়েদেরকে যাতে হিংসা সহ্য না করতে হয়, তার জন্য বিভিন্ন পরিবারের সাথে আমি এখনো আলাদাভাবে কথা বলি।

৫ই জুলাই ২০১২-তে আমার বিয়ে ঠিক হয়। সেই সময় থেকে অনেকটা ভালোলাগা ও আনন্দের সঙ্গে বেশ খানিকটা দুশ্চিন্তা ও অজানা অনেক প্রশ্ন আসতে শুরু করে মনের মধ্যে। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি বিয়ে মানে সমাজের নিয়ম অনুসারে অনেক কিছু ত্যাগ করা। বাড়ীর বাইরে যাওয়ার আগে অনুমতি নেওয়া, শ্বশুরবাড়ীর সবার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর খাওয়া, এধরণের নানান বিষয়। মনে হচ্ছিল বিয়ের পর যেন মেয়েদের অবস্থা হয় অনেকটা ডানাকাটা পরীর মত, সবার কাছে পরী কিন্তু নিজের কাছে ইচ্ছাহারা, পরাধীন, ও অবহেলিত। ভাবছিলাম, আমি কি পারব আগের মত জীবন কাটাতে?

আমরা তিন বোন। সমাজ বলে পুত্রসন্তান ছাড়া জীবনটাই বৃথা, তাই ছেলে হওয়ার চাপে পড়ে আমার মা পর পর তিন তিনটে মেয়ের জন্ম দিয়েছে। আমরা তিন মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও বাবা কখনো আমাদের ভালোলাগা, স্বাধীনতা ও এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়নি, তাই ছোটবেলা থেকে নিজের ইচ্ছামত স্বাধীনভাবে চলে আমি অভ্যস্ত। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং থটশপের কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি এতদিন জেনে এসেছি যে ছেলে বা মেয়ে ছাড়াও আমাদের অন্য একটা পরিচিতি আছে। আমরা সবাই মানুষ আর মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচিতি ছেলে-মেয়ের পরিচিতির অনেক ওপরে। মানুষ হিসেবে সমাজের থেকে চাওয়া-পাওয়া আমাদের সকলেরই সমান হওয়ার দরকার। তাই যখন ভাবতাম যে বিয়ের পর হয়ত সব কিছু ত্যাগ করে দিতে হবে, বাবা-মার সাথে দেখা করতে আসার জন্যও অনুমতি নিতে হবে, তখন বিয়ে থেকে পিছিয়ে যেতেই ইচ্ছে করত।

এছাড়াও আমি আমার দিদিকে দেখতাম বিয়ের পর অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করতে। বউ মানেই যেন বাড়ির সব দায়িত্ব দিদির। বিয়ের পর নিজের শখ-আহ্লাদ নিয়ে ওকে কখনো ভাবতে দেখিনি; সব সময় বাড়ির কাজ করা, সবার জন্য রান্না করা, গুছিয়ে খেতে দেওয়া, এসব নিয়ে ব্যস্ত। এত কিছু করা সত্ত্বেও দিদি সবাইকে খুশী করতে পারত না, আরও অনেক প্রত্যাশা করা হত ওর কাছে। এত চেষ্টা করেও ও ভাল বউ-এর উপাধি পায়নি। তাই দিদিকে দেখার পর আমার বিয়ে নিয়ে যথেষ্ট ভয় ছিল।

ছোট থাকতে শুনতাম বিয়ের পর মেয়েদের বেশি বাপের বাড়ি আসা উচিৎ নয়। একটু বড় হতে ভাবতে শুরু করলাম, বিয়ের পর ছেলে যদি তার নিজের বাড়ীতেই থাকতে পারে, তাহলে মেয়েদের জন্য এই ধরণের নিয়ম কেন? তারপর থেকে দিদিকে বাপের বাড়ি আসা নিয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে আমি উপযুক্ত উত্তর দিতাম। এইভাবে বাড়ীতে ও পাড়ায় মেয়েদের অধিকার নিয়ে কথা বলা শুরু হয়েছিল। থটশপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর পাড়ায় একটি দলও গঠন করলাম, নাম দেওয়া হল “নবদিশা”। পাড়ার ছেলেমেয়েরা একসাথে হয়ে কখনো চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে, কখনো আলোচনা, আবার কখনো কুইজ বা পথনাটিকার মাধ্যমে পাড়ার লোকেদের বোঝাতে শুরু করলাম কি ভাবে মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে। এইভাবে পাড়ায় আমার পরিচিতি বাড়তে লাগল। যে মা একদিন তিন মেয়ের মা হিসেবে নিজেকে অসহায় অনুভব করত, সেই মাকে গর্বিত হতে দেখে আমার বেশ লাগত। বাবা-মা ও পাড়ার লোকেদের মধ্যে “মেয়েরাও পারে”, এই অনুভূতি জাগাতে পেরে জীবনের মানেটাই যেন নতুনভাবে খুঁজে পেয়েছিলাম।

দীপক আমার অনেকদিনের বন্ধু। আমরা যখন বিয়ে করব ঠিক করি, ভবিষ্যতে চাকরী করা নিয়ে ও একদিন আমায় প্রশ্ন করেছিল — আমি চাকরী কেন করতে চাই? আমি যে টাকা উপার্জন করছি, সেই টাকা যদি ও নিজে পরিশ্রম করে আমায় এনে দেয়, তাহলে আমার চাকরী করার কি দরকার আছে?

উওরে আমি বলি যে আমি চাকরী করছি আমার পরিচিতির জন্য। আর ফেলে আসা দিনগুলিতে স্কুল, কলেজ, ও থটশপ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলোকে বহন না করে বাহন করে জীবনের স্রোতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর আমি দীপককে একটা প্রশ্ন করি; যে আমি যদি ওকে এই একই প্রস্তাব দিই, তাহলে ওর উওর কি হবে? তারপর থেকে দীপক আমার কর্মজগতের পথে কখনো বাধা হয়নি।

বিয়ে ঠিক হওয়ার পর বেশ কয়েকটা উপায় ভেবে রেখেছিলাম, বিয়ের পর কিভাবে নিজের পরিচিতিটা রক্ষা করব সেই ভেবে। মনে মনে পরিকল্পনা ছিল যে আমার জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমি সবাইকে জানিয়ে রাখবো অবশ্যই, কিন্তু কারো অনুমতির জন্য অপেক্ষা করব না। কিন্তু বিয়ে হয়ে এসে দেখলাম সব শ্বশুরবাড়িও এক হয় না।

দীপকের বাড়ির লোকেরা অনেকটা সরল ও সোজা। মেয়েদের নিয়ে কিছু গতানুগতিক ধারণা ওদের মধ্যেও ছিল, কিন্তু তার সঙ্গে নতুন কিছু গ্রহণ করার মত অনেকটা ফাঁকা জায়াগাও দেখতে পেলাম ওদের মধ্যে। এই ফাঁকা জায়গাটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এছাড়াও ওঁদের কিছু কিছু ব্যবহার আমাকে ওনাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছে।

যেমন আমার শ্বশুরমশাই। একদিন কেউ আমাকে অন্য বউদের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিল যে অন্যদের মত আমি রান্না করতে পারি না; তখন আমার শ্বশুরকে বলতে শুনেছিলাম, “রান্না পারে না তো কি হয়েছে? ও যা যা পারে সেগুলো কি অন্য সবাই পারে?” এই কথাটা অন্যদের মাঝে আমার জায়গাটা খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল আর শ্বশুরমশাই-এর প্রতি আমার শ্রদ্ধাও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

আমার শাশুড়িরও কিছু কিছু ব্যবহার, যেমন অফিসে বেড়োনোর সময় রোজ গেটের বাইরে বেড়িয়ে এসে দাঁড়ানো, এবং যত রাতেই বাড়ি ফিরি না কেন, মুখে বা মনে কোনো প্রশ্ন অথবা রাগ না রাখায় আমিও খুব নিশ্চিন্ত হই ও ওঁদের থেকে পাওয়া ভালোবাসার দ্বিগুণ ভালোবাসা ওদের ফিরিয়ে দিতে উৎসাহিত হই। দীপকও আমায় ভালো বোঝে, তাই আমার সঙ্গে ওর কিছু আমিল থাকলেও ও আমাকে পাল্টানোর চেষ্টা না করে আমাকে আমার মতো করে গ্রহন করে। তাই আমরা এখন খুব ভালো বন্ধু।

তাই আজ আমি আমার বাবা-মা ও দীপকের বাবা-মার সাহায্যে শ্বশুরবাড়ী-সংক্রান্ত যে গতানুগতিক ধারণাগুলো আমার দম বন্ধ করে দিত, সেগুলো অনেকটা পাল্টাতে পেরেছি। সব মানুষ একরকম হয় না, বিয়ের পর যে সম্পর্কে সমানতা সম্ভব, সেই বিশ্বাস, আর মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস অনেকটা বেড়ে গেছে।