12 Dec 2013

Father and I [msc]

Pinki is a founder member of YRC
Alor Sandhan, Youth Fellow (2013)
This is the 2nd MSC story from the group
Read Rina's story

Narrated by Pinki Sardar, 25 years, YRC Alor Sandhan, Dum Dum.
Recorded by Krishna Goldar and Binita Chakraborty, 29th September, 2013. Please see the brief note on MSC for a background on the process.

I live in Birsa-Munda Pally near the airport. In my family there are my parents, my younger brother and me. My mother is a member of a local self-help group and a homemaker. My father works as a driver, and has to often stay out of the city because of his job. I am in 1st year college and my brother is still in school.

Most residents of our neighbourhood belong to the tribal community. Though it is a part of the city, our neighbourhood has lots of trees, green fields and ponds that give it a restful, rural ambience. Most houses are made of mud; but Government assistance has made it possible for many cement houses to come up as well.

Most men and women work as daily labourers, women work as house-maids. Some people work in a soya-bean factory nearby. Young people are mostly going to school, but then again many are also dropping out due to different reasons.

Amidst all these, a new thing has happened here in our neighbourhood. It has been two years now that we, the young people of the locality, have built a youth group here. The group is called Alor Sandhan [Finding Light]. Many boys and girls, starting from age 10 onwards, are a part of this group. The group is playing a noticeably important role in many of their lives. The effect of the group is reflecting in my life as well. It is because of the group that I am succeeding in making my personal relationships easier, more honest, and stronger. I want to tell everybody about these changes.

The biggest change that has happened in me is the development of a strong belief that no one should be judged solely on the basis of one kind of behaviour that they exhibit, and that discussions have the power to solve any kind of problem.

The Change

Earlier I used to get very angry with my father. It irritated me the most when he drank. At those times my father would also tick me off very badly, and this made me so angry that I thought of giving up my studies altogether. A time came when both my parents appeared to me in a very bad light. Perhaps I would be coming down to Thoughtshop Foundation or going out for something else, suddenly somebody nosy in the para would say something about my 'habit of going out', and my parents would immediately start a tirade against me. This hurt me a lot. At those moments I considered my father to be the worst man in the world.

On one such occasion my father had just returned from work. I was out and had been a bit late to return. Like most days, that day too he had had lot of booze, and started his verbal abuse. I got very angry and argued with him. My father was repeating that I hadn’t been like that and that too much education had changed me for the worse. He added, “We are illiterates, we have no education, so she is not being able to think of us as humans.”

This statement cut me up. I decided to open my mouth and answer my father. I said, “All right, if my getting an education bothers you so much, then so be it. I will put an end to it. I won’t go out anywhere. Then perhaps you will be at peace!” Hearing this, my father felt hurt and fell silent. My mother told him then, “Why did you talk to her like that?” This incident had hurt all three of us.

But it led to something in the positive direction. I started thinking. Things couldn’t continue like this. And the truth was, I loved my father. And I remembered what I had learnt during a discussion in the group on the subject of equality in relationships — it had come up that a family could be happy only when all its individual members were happy, and a happy family atmosphere was one where any conflict could be resolved through discussion.

I realised that none of us was listening to the other. My parents were unable to understand me, but I too was not talking clearly with them! I decided to have a conversation with my father. One day I told him, “Why do you talk to me like this? Am I doing anything wrong by getting an education, or by going out to learn something? When you tick me off on issues such as going out or my getting educated, I feel very hurt.”

After saying so many things, I had thought that my father would get angrier. But in fact the opposite happened. That day he told me many things he had never spoken of before — why he worries about me, how proud he is of me, and many more things. He was saying, “I want you to grow up and become a worthy person, to be very well-educated — that is why I am working so hard. But the moment I come home, if neighbours start saying, ‘You are educating her so much, that she is loitering about out of home. One day she will definitely elope with somebody and shame you’ — I feel very scared when I hear such things. What if you really make a mistake and go astray! I love you very much but what people say makes me very afraid.”

My father had never said so many things before. Because he said it, I was able to better understand him, in a way I had not understood him before. I remembered about the time when my paternal aunt’s daughter had eloped — there had been such turmoil at home! Again, when a girl from the group had run away with a boy from the same group, then their parents had come over to our house and requested my father to accompany them to the police station. Both the boy and the girl had been my friends. My father went with them to the police, and he hasn’t till date been able to forget the experience he had there, along with the other parents. That was why he worried so much about me. Besides, many family problems had made my father irritable over the years; he wasn’t like this earlier.

After talking it all out, I told my father, “You can trust me. I love both of you a lot, and will never do anything to hurt you.” He responded by saying, “And you too — never mention giving up your studies, ever. You have to become person worth of respect, and you have to stand on your own feet. And I will never say anything to hurt you again.”

The anger and hatred I’d had for my father has disappeared after that day. Now I understand him. So now, even if he gets angry with me for some reason, I won’t get angry. I will talk to him and try to understand the reason for his anger. This change has been brought about in me because of my association with my group. It is here that I have learnt not to judge people at face-value, and to use discussions to solve any and every kind of conflict.
Alor Sandhan Group, July 2013. Can you spot Pinki or Rina?

বাবা আর আমি


আমার নাম পিঙ্কি সর্দার, আমার বাড়ি দমদম এয়ারপোর্টের কাছেই বিরসা-মুন্ডা পল্লীতে। আমার বাড়িতে আমি, মা-বাবা আর আমার ভাই, এই চারজন থাকি। আমার মা আমাদেরই এলাকার একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং গৃহবধূ। বাবা ড্রাইভার, বেশিরভাগ সময়ই কলকাতার বাইরে থাকতে হয়। আমি এখন কলেজে ফার্স্ট-ইয়ারের স্টুডেন্ট আর ভাই স্কুলে পড়ে।

আমাদের পাড়ার বেশিরভাগ বাসিন্দাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। শহরের মধ্যে থেকেও আমাদের পাড়ায় অনেক গাছপালা, সবুজ মাঠ আর পুকুরে ঘেরা একটা গ্রাম্য স্নিগ্ধতা আছে। এলাকার বেশিরভাগ বাড়িই মাটির তবে এখন সরকারি সহায়তায় অনেক বাড়িই পাকা হচ্ছে।

এখানকার বেশিরভাগ নারী-পুরুষই জনমজুরের কাজ করে, অনেক মহিলা পরিচারিকার কাজও করে। কয়েক বছর হল একটি স্বেচ্ছা-সেবী সংস্থার সহায়তায় আমাদের পাড়ায় একটা সয়াবিন ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই কাজ করছে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগই স্কুলে যাচ্ছে তবে অনেকে আবার বিভিন্ন কারণে পড়াশোনা ছেড়েও দিচ্ছে।

এসবের মাঝেই একটা নতুন ব্যাপার আমাদের এলাকায় ঘটেছে। দুবছর হল আমরা এই এলাকার ছেলে-মেয়েরা মিলে একটা যুবদল তৈরি করেছি। দলের নাম “আলোর সন্ধান”। এই দলে ১০ বছর বয়স থেকে শুরু করে অনেক ছেলেমেয়ে রয়েছে এবং অনেকের জীবনেই এই দলের বিশেষ ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। আমিও একজন যার জীবনে এই দলের বিশেষ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। এই দলই আমায় আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকে সহজ ও দৃঢ় করতে সাহায্য করছে। আমার নিজের জীবনে এই পরিবর্তনগুলোর কথাই আমি সবাইকে জানাতে চাই।

আমার মধ্যে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে তা হল, আমি এখন বিশ্বাস করি, কাউকে তার কোনো একটা ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করা উচিত নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যারই সমাধান সম্ভব।


আগে বাবার উপর আমার খুব রাগ হতো। বিশেষ করে বাবা যখন মদ খেত, তখন আমি ভীষণ বিরক্ত হতাম। সেইসব সময়ে বাবাও আমাকে অনেক উল্টোপাল্টা বলতে থাকতো, আর আমি এত রেগে যেতাম যে মনে হতো পড়াশোনাই ছেড়ে দেব। একটা সময় এমন দাঁড়ালো যে বাবা-মা-কে খুব খারাপ মনে হতে শুরু করলো। আমি হয়তো থটশপ-এ আসছি বা অন্য কোন কাজে বাইরে যাচ্ছি, তখন পাড়ার কেউ আমার এই বাইরে যাওয়া নিয়ে ওদের কিছু বললে ওমনি আমাকে কথা শোনানো, খোঁটা দেওয়া শুরু হয়ে যেত। আমি সেইসব মুহূর্তে খুব দুঃখ পেতাম। মনে হতো বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী খারাপ লোক।

এইরকমই একদিন বাবাও কাজ থেকে ফিরেছে আর আমিও বাইরে গেছিলাম, ফিরতে একটু দেরি হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও বাবা খুব মদ খেয়েছিল আর আমাকে খুব বকাবকি করছিল। আমি সেদিন খুব রেগে গেছিলাম, তাই তর্ক করতেই থাকি। বাবা বলেই যাচ্ছিলো যে আমি পড়াশোনা শিখে এইরকম হয়ে গেছি, আগে এইরকম ছিলাম না। আরও বলছিল যে “আমরা তো মূর্খ, পড়াশোনা জানি না, তাই আমাদেরকে আর মানুষ বলেই ভাবতে পারছে না।”

আমার এই কথায় খুব দুঃখ হয়। আমি ঠিক করি আমি আর চুপ করে থাকব না, বাবাকে জবাব দেবই। আমিও বলি, “ঠিক আছে, আমার পড়াশোনা করাতে তোমাদের যখন এত আপত্তি, তবে তাই হোক। আমি পড়াশোনা ছেড়ে দেব। কোথাও বেরবো না। তাহলে তোমাদের শান্তি তো!” বাবা এই কথায় চুপ করে যায় এবং খুব দুঃখও পায়। সেইসময় মাও বাবাকে বলে “তুমি এইভাবে কেন ওকে বললে?” এই ঘটনা আমাদের তিনজনকেই খুব আঘাত দেয়।

তবে এরপর একটা ভালো জিনিস হয়। আমি ভাবতে শুরু করি। এভাবে তো চলতে পারে না! আমি তো বাবাকে ভালবাসি। আর সাথে সাথে মনে পড়ে যায় একদিন দলের মধ্যে সম্পর্কের সমানতা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন যেটা শিখেছিলাম, যে পরিবার তখনই সুখী হতে পারে যখন পরিবারের সবাই সুখী থাকবে আর যেখানে আলোচনার মাধ্যমে যে কোন দ্বন্দই মেটানো সম্ভব হবে।

এইভাবে আমি ভেবে দেখলাম যে আমরা তো কেউ একে-অপরের ভাবনাটা শুনছিই না। বাবা-মা যেরকম আমায় বুঝছে না, আমিও তো ওদের সাথে সেভাবে কথা বলছি না! আমি ঠিক করলাম বাবার সাথে কথা বলবো। একদিন বাবাকে বললাম, “তুমি কেন আমার সাথে এভাবে কথা বল? আমি কি পড়াশোনা করে বা বাইরে কথাও কিছু শিখতে গিয়ে অন্যায় কিছু করছি? তুমি যখন আমায় পড়াশোনা করা, বাইরে যাওয়া নিয়ে খোঁটা দাও তখন আমার খুব কষ্ট হয়।”

এত কিছু বলার পর ভেবেছিলাম বাবা হয়তো আরও রেগে যাবে কিন্তু উল্টো হল, সেদিন বাবা অনেক কথা বলল যা আগে কখনো বলেনি — আমাকে নিয়ে বাবার কেন চিন্তা হয়, আমাকে নিয়ে বাবার কত গর্ব, আরও অনেক কিছু। বাবা বলছিল, “আমি চাই তুমি অনেক বড় হও, অনেক পড়াশোনা কর, তাই তো আমি এত খাটছি। কিন্তু বাড়িতে এলেই যখন আশেপাশের লোকেরা বলতে থাকে, ‘এত পড়াচ্ছিস, বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে — একদিন ঠিক পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবে, সবার মুখে চুনকালি দেবে’, সেসময় আমার খুব ভয় লাগে, যদি সত্যি তুমি কোন ভুল কর। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি কিন্তু আশেপাশের লোকেদের কথায় আমার খুব ভয় হয়।”

এত কথা বাবা আগে কখনো বলেনি। বলল বলে আমিও বুঝতে পারলাম বাবাকে, যেভাবে আগে কোনোদিনও বুঝিনি। মনে পড়লো, যখন আমার পিসির মেয়ে এভাবে পালিয়ে গেছিল তখন বাড়িতে কত অশান্তি হয়েছিল। আবার যখন আমাদের দলের একটা মেয়ে দলেরই একজন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছিল, তখন ওদের মা-বাবারা আমাদের বাড়ি আসে এবং বাবাকে পুলিশ ষ্টেশনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এরা দুজনেই আমার বন্ধু ছিল। বাবা ওদের সাথে পুলিশের কাছে যায় তবে সেসময় যে ধরনের অভিজ্ঞতা ঐ বাবা-মা-র সাথে ও বাবার সাথেও হয়েছিল, তা আজও বাবা ভুলতে পারেনি। তাই এত দুশ্চিন্তা করত আমাকে নিয়ে। এছাড়াও পারিবারিক অনেক অশান্তি বাবাকে খিটখিটে করে তুলেছে, আগে বাবা এইরকম ছিল না।

তাই এত কথাবার্তার পর আমি বাবাকে বলি, “তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। তোমাদের আমি খুব ভালোবাসি — আমি কোনদিন এমন কিছু করব না যাতে তোমাদের কষ্ট হবে।” বাবাও তখন বলল, “তুমিও আর কোনদিন পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলবে না। তোমাকে অনেক বড় হতে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমি তোমাকে আর কখনো কোনদিন কোন খারাপ কথা বলব না।”

বাবার প্রতি আমার যে রাগ ও বিদ্বেষ জন্মেছিল, এই দিনের পর থেকে তা আর নেই। এখন আমি আমার বাবাকে বুঝি। তাই এখন বাবা যদি কখনো আমার উপর রেগেও যায়, আমি রেগে না গিয়ে বাবার সাথে কথা বলব, জানতে চাইব বাবার রাগের কারণ। আমার মধ্যে এই পরিবর্তন এসেছে দলের সাথে যুক্ত থাকার ফলে। এখানে এসেই আমি শিখেছি এক কথায় বিচার না করতে আর আলোচনার মধ্যে দিয়ে যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে।

No comments:

Post a comment

You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here