13 Sep 2013

A Normal Sacrifice

Piyali Paul
This is Piyali's third post
read her earlier post


I’m Piyali, and I live in a small neighbourhood near Dumdum. I have grown up amidst a lot of hardship, but I’m an optimist – every moment finds me walking towards my goal with unbounded hope. Life’s experiences impel me to question and enable me to learn new things.

Although I do have many questions regarding religion, I fundamentally believe that all religions are the same - humanity and relationships of love constitute the most important religion for me. For this reason, I have friends from different backgrounds and I interact easily with all of them.

I have a very good friend who works in the same office with me. I used to visit her at home frequently and was with her at her wedding. Everyone in her family loves me a lot and I’ve grown to be friends with many people in her neighbourhood. I used to visit her area every week and conduct workshops with the local kids. The kids also loved me very much, so I really enjoyed going there.

This incident took place one such Saturday when I happened to be in their locality. Four-five people caught hold of a cow and butchered it right in front of my eyes. I was holding the hands of two kids; on witnessing this, I let go of their hands and screamed. Everyone was looking at me. Tears started rolling down my cheeks and I suddenly felt very sick. The girl who used to help me quickly took me away from that spot to the club room.

Afterwards, that image remained with me. I tried to reason with myself, told myself what I already knew - this happens! Wasn’t this a part of social ritual and religious custom, didn’t I know it? But however much I questioned my feelings, that image remained, and I suffered. I also thought - every single day so many chickens, goats and pigs are similarly slaughtered, had never made me reflect. When a tree was cut down in front of my eyes, I never thought about it. But ever since I had witnessed this, I couldn’t stop thinking of it. I couldn't sleep well for three nights, nor was I able to share my feelings with anyone.

After three days, I came to the TF office, and while confiding in two friends, I burst into tears. Then one of them shared an equally disturbing incident from his life. This gave me some courage.

I understood that living in the midst of certain situations makes us acclimated to it. The incident had meant nothing to the kids who were accompanying me that day since, seeing it from childhood, they were very used to it. I couldn’t accept it easily as it was new to me.

The Hindus had a ritual where widows were burnt alive with their dead husbands on the same funeral pyre. Should we assume that those who witnessed it had no pity, no feelings? No, they must have suffered, but having become slaves to society’s rules and rituals, they accepted this as part of religion, and didn’t question it.

Then again, from childhood itself, girls are made to stay at home and do housework, and girls too, as a result, get used to and bound by this societal norm. Everyone starts to think – but this is normal!

This experience has taught me this – that we need to stop being slaves to what is habitual and stop to question what we are individually doing and that which seems to be happening for ever in society. Then only we will understand its positives and negatives, and instead of responding mechanically to it in the same way we have responded for ages, know how we really ought to respond.



সাধারণ বলি



আমি পিয়ালী, থাকি দমদমের কাছে একটা ছোট পাড়াতে। আমি ছোটবেলা থেকেই খুব কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু আমি আশাবাদী – জীবনের প্রতি মুহূর্তে অফুরন্ত আশা নিয়ে এগিয়ে চলি নিজের লক্ষ্যের দিকে। জীবনের এক-একটা ঘটনা আমার মধ্যে অনেক প্রশ্ন তৈরি করে আর নতুন কিছু শেখায়।

ধর্ম নিয়ে আমার মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও আমি বিশ্বাস করি সব ধর্ম এক আর মানুষই প্রধান। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসার সম্পর্কটা সব থেকে বড় ধর্ম। সেইজন্য আমার সব রকমের বন্ধু আছে আর আমি সকলের সঙ্গেই খুব সহজেই মিশতে পারি।

আমার একটা খুব ভালো বন্ধু আছে যে আমার সঙ্গে একই অফিসে কাজ করে। আমি ওর বাড়িতে সব সময় যেতাম আর ওর বিয়ের সময়ও ওর সঙ্গে সঙ্গে ছিলাম। ওর পরিবারের সকলে আমাকে খুব ভালোবাসে, আর ওদের পাড়ার অনেকের সঙ্গেই আমার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। আমি আমার অফিসের কাজে প্রতি সপ্তাহে ওর পাড়াতে যেতাম পাড়ার বাচ্চাদের workshop করাতে। বাচ্চাগুলোও আমাকে খুব ভালোবাসত। আমার তাই ওখানে যেতে খুব ভালোও লাগত।

এমনই একটা শনিবারের ঘটনা। আমি ওদের পাড়ায় গেছি, হঠাৎ চার-পাঁচ জন লোক একটা গরুকে জোর করে ধরে আমার চোখের সামনে কেটে ফেললো। আমি দুটো বাচ্চার হাত ধরে ছিলাম, এই দৃশ্য দেখে হাত ছেড়ে দিয়ে জোরে চেঁচিয়ে উঠেছিলাম। সকলে আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছিলো। আমার চোখ থেকে জল পড়তে লাগলো আর শরীর খুব খারাপ লাগতে লাগলো। যে মেয়েটি আমাকে সাহায্য করত আর পাড়ার বাচ্চাদের ডেকে আনত, সে তখন তাড়াতাড়ি আমায় ওখান থেকে সরিয়ে ক্লাবঘরে নিয়ে চলে গেল।

সেই সময়ের পর থেকে আমার চোখের সামনে সবসময় ঐ ছবিটা ভাসতো। আমি নিজেকে এই বলে বোঝানোর চেষ্টা করতাম যে - আমি তো জানি, এটাই তো হয়। এটাই তো সমাজের রীতি আর ধর্মে আছে। কিন্তু নিজের অনুভূতিকে যতই নানা প্রশ্ন করি না কেন, আমার বারবার শুধু ওই ছবিটাই মনে পড়ছিল আর খুব কষ্ট হচ্ছিল। তার সাথে এটাও ভাবছিলাম যে এমনই প্রতিদিন কত মুরগী, ছাগল, শুয়োর ইত্যাদিকে মারা হচ্ছে, কিন্তু আমি তো কখনো এসব নিয়ে ভাবিনি? আমার চোখের সামনে যখন গাছ কাটা হয় তখন আমি এতটা ভাবি না তো। আমি যেহেতু ঘটনাটা দেখেছিলাম, তাই ভাবা বন্ধ করতে পারছিলাম না। তিন দিন ধরে রাতে ঘুমোতে পারছিলাম না, এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারছিলাম না।

তিন দিন পর অফিসে আসি আর দুজনকে বলি ঘটনাটা আর বলতে বলতে কেঁদে ফেলি। তখন তার মধ্যে একজন আমাকে তার নিজের জীবনের একটা অভিজ্ঞতা বলে। তার অভিজ্ঞতার কথা শুনে মনে মনে একটু সাহস পেয়েছিলাম।

বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিবেশের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমাদের সব অভ্যাস হয়ে যায়। আমার সঙ্গে যে বাচ্চাগুলো ছিল, তাদের কাছে ওই ঘটনাটা কিছুই না কারণ ওরা সবসময় ছোট থেকে ওটা দেখেই বড় হয়েছে। আমার কাছে ওটা নতুন ছিল, তাই আমি সহজে মেনে নিতে পারিনি।

হিন্দু ধর্মের বিধবাদের পুড়িয়ে মারার রীতি ছিল। যাদের সামনে এই ঘটনাগুলো ঘটত, তাদের মধ্যে কি কোনো দয়া মায়া, কোনো অনুভূতি ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল, কিন্তু তারা সমাজের নিয়মের ও অভ্যাসের দাস হয়ে পড়েছিল, তাই তারা এগুলো ধর্ম বলে মেনে নিতে পারত, প্রশ্ন করত না।

আবার যেমন ছোট থেকেই মেয়েদেরকে ঘরে থাকা ও ঘরের কাজ করার অভ্যাস করানো হয়, আর মেয়েরাও সমাজের এই নিয়মে অভ্যস্ত ও বদ্ধ হয়ে যায়; সবাই ভাবতে শুরু করে – এটাই তো স্বাভাবিক!

আমার জীবনে এই অভিজ্ঞতা আমায় শিখিয়েছে যে অভ্যাসের দাস না হয়ে আমরা নিজেরা কি করছি আর সমাজে চিরাচরিতভাবে কি ঘটে চলেছে, সেটাকে প্রশ্ন করা উচিৎ। তাহলেই আমরা তার ভাল মন্দটা বুঝবো, আর যান্ত্রিকভাবে চালিত না হয়ে সেই বিষয়ে আমাদের কি করা উচিৎ সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
 

1 comment:

  1. Piyali, what you have experienced and the way you have analysed it is a great hope for all.
    I do hope that many people will read your post that is so enlighting : my feeling as french, discussing with my indian friends was exactly what you wrote : how can we fight against traditions or way of life that people just live through ? now that i have read your post i know that it will be with the young people like you :-)

    ReplyDelete

You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here