23 Apr 2013

How My Mother Found Her Voice

Swapna Paik
member, Youth Voice Group (2011)
We Can Change Maker (2011)
Peer Counsellor (2012)


I am Swapna, a 20 year-old girl living in VIP Nagar [2013]. Let me start by saying something about my mother, things that people in my family don’t speak of, or even think about.

My mother’s name is Sumitra Paik. She lived in a small village in South 24 Parganas, and was very keen about studies. My grandfather had sent my elder aunt to school, but because she was not interested in studies, he decided against sending my mother to school at all. My aunt eventually got the opportunity to study for three more years despite her lack of interest, but my mother on the other hand was married off. She started managing her in-laws’ household in Joynagar when she was all of 10 years old!

Can anyone do so many things at such a young age? Planting grains, threshing paddy, cutting fish, cooking – Ma used to stumble at every step, and each time she had to hear abuses, and sometimes get beaten up too. My father also behaved very badly with her, and Ma used to be sad all the time. She would sometimes ask her parents, “Why did you get me married so early?” As a married woman, she was not allowed by her in-laws to attend any functions outside home, or to move around freely. Only her grandmother-in-law loved and supported her a lot and her father-in-law also looked upon her as his own daughter. Ma tolerated many things for many years, because of the love and support of these two.

Suddenly one day my parents had a bad quarrel with the in-laws, about something to do with money. My father brought Ma and us 5 siblings to Kolkata the very next day. Domestic violence had then reached such a stage that even he was unable to take it anymore. But violence continued at home. Father used to beat Ma up for small things; we would get beaten up too. We had no idea what to do, nor if there was anything we could do.

I first started coming to group meetings two years ago. Here we had many discussions about the We Can Campaign. The basic belief of our work was that together, we can stop violence against women. One day I felt – here I was learning things at group meetings, but at home I was witnessing daily violence – I was not doing anything about it!

One day after this I got my parents and siblings together and explained that if anyone felt someone was doing something wrong, the problem should be gently pointed out, but not in way that insults the person. This would not only reduce tensions at home, family members would also learn to love and respect each other. I also gave them some campaign publications I'd got from the group for them to look over. For a while everyone stared at me without saying anything. Then my elder brother spoke up, “What is the use of stopping it in one family?” I replied, “it will set an example for ten more.”

The next day was a Sunday. I had decided to skip my group meeting that evening. My parents both turned up chided me, “Why didn’t you go to your meeting? It’s a good thing – or don't you want to learn anymore?” I responded, “What's the use of learning, when I haven't even managed to change people in my own home!”

From then on, I started noticing gradual changes in my father. When my parents quarrelled, he would not raise his hand on Ma right away. From this time on, I started sharing some group problems with people at home. For example, a group member wanted to regularly attend group meetings but her parents weren’t allowing her to. I asked my family, “Why do you think they aren’t letting her?” It felt very good when such questions evinced positive responses. In this way gradually I got them involved with these issues. At times even my mother got very excited! She would say, “Even girls can make the impossible possible!” It was as if the We Can Campaign was enabling my mother to speak!

With time, my home environment has changed a lot. Our father now encourages us to take Ma along to different places. Most times, he speaks nicely in a spirit of understanding, and treats his children well. I find Ma to be a much happier person now.

The mother who didn’t know how to protest in forty long years of married life, is now seen to speak out from time to time. Ma now says, “Women can change many things if they open their mouths and speak.”



আমার মা কথা বলতে শিখল

আমার নাম স্বপ্না। বয়স ২০ বছর, থাকি VIP নগরে। আমি 'ইয়ুথ ভয়েস' দলের একজন সদস্য, আবার আমার পাড়ার ছেলে-মেয়েদের কাছে তাদের কাউন্সেলার এবং দিদি। আমি 'আমরাই পারি অভিযানের' সঙ্গে যুক্ত একজন পরিবর্তনকারীও।

আমার মায়ের ব্যাপারে কিছু বলে শুরু করি, এমন কিছু কথা যেগুলো পরিবারের মধ্যে কেউ বলেও না, ভাবেও না। মায়ের নাম সুমিত্রা পাইক। বাড়ি ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার একটা ছোট্ট গ্রামে। মা পড়াশোনায় খুব আগ্রহী ছিল। আমার দাদু বড় মাসিকে স্কুলে পাঠিয়েছিল কিন্তু মাসি পড়াশোনা করতনা দেখে দাদু মেজ মেয়েকে, মানে মাকে স্কুলেই পাঠালো না। বড় মাসি পড়া না করেও আরো ৩ বছর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেল, এদিকে আমার মায়ের যখন ১০বছর বয়স তখন তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হল। মা ১০ বছর বয়স থেকেই জয়নগর অঞ্চলে শ্বশুরবাড়ি সামলাতে লাগলো!

ওই বয়সে কি সব কাজ পারে? বীজ বোয়া, ধান ঝাড়া, মাছ কাটা, রান্না করা, এইসবে মা ক্রমাগত হোঁচট খেত আর তার জন্য অনেক বাজে কথা শুনতেও হত। মারধোরও খেতে হয়েছিল। বাবাও মায়ের সঙ্গে অনেক বাজে ব্যবহার করত। মায়ের মন খুব খারাপ থাকত। মা দিদা-দাদুকে বলত, "আমাকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে কেন দিলে ?" বাড়ির বউ বলে শ্বশুরবাড়ির লোক মাকে বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে যেতে দিতনা। নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা করতে পারতো না। শুধু মায়ের দিদিশাশুড়ী মাকে খুব ভালবাসতেন আর অনেক সমর্থন করতেন, আর আমার ঠাকুরদাও মাকে মেয়ের মত ভালোবাসত। এই দুটো মানুষের ভালোবাসা পেয়ে সংসারে অনেক কষ্ট সহ্য করে মা অনেক বছর ধরে।

হঠাৎ একদিন পয়সাকড়ি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে মা-দের সাথে খুব ঝগড়া আর মারধোর হয়। পরের দিন বাবা মা ও আমাদের ৫ ভাই-বোনকে নিয়ে কলকাতা চলে আসে। পারিবারিক হিংসা তখন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছিল যে বাবাও সেটা আর নিতে পারেনি।

তবুও বাড়িতে হিংসা ঘটতেই থাকল। ছোটছোট কারণে বাবা মাকে মারত, আর আমরাও মার খেতাম। কি করব, আদৌ কিছু করতে পারি কিনা বুঝতেই পারতাম না।

২ বছর আগে আমি গ্রুপ-এ আসতে শুরু করলাম। এখানে আমরাই পারি অভিযান নিয়ে আমাদের অনেক কথা হত। আমাদের কাজের মূল বিশ্বাস ছিল যে আমরা সবাই মিলে পারি মেয়েদের বিরূদ্ধে হিংসা থামাতে। একদিন আমার মনে হল যে আমি গ্রুপে গিয়ে শিখছি এইসব, অথচ নিজের বাড়িতে একটার পর একটা হিংসা দেখে চলেছি! কিছু করতে পারছি না?

এরপর একদিন আমি বাবা, মা, দিদি, দাদা সবাইকে ডেকে একসঙ্গে বসে বোঝালাম যে তাদের যদি মনে হয় কেউ ভুল করছে, তখন তাকে কোন ভাবে অপমান না করে বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত। এর ফলে সংসারের ঝামেলা তো কমবেই, উপরন্তু পরিবারের সবাই-সবাইকে আরো ভালবাসতে আর সম্মান দিতে শিখবে। গ্রুপ থেকে দেওয়া কয়েকটা ম্যাগাজিন ওদের দিলাম আর পড়ে দেখতে বললাম। দেখলাম সবাই চুপ করে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রয়েছে। তারপর দাদা বলল, "একটা বাড়িতে থামিয়ে কি হবে?" আমি বললাম, "একটা বাড়ি থেকে আরো দশটা বাড়ি শিখবে।"

পরের দিন ছিল রবিবার। সেদিন আমি সন্ধ্যেবেলায় গ্রুপে গেলাম না। বাবা-মা একসঙ্গে এসে বলল, "তুই আজকে গ্রুপে গেলিনা! ভালো জিনিস - তা শিখবি কেন?" আমি বললাম, "শিখে কি করব? নিজের ঘরের মানুষদেরই পাল্টাতে পারলাম না"

তারপর থেকে দেখলাম বাবার মধ্যে একটু একটু করে পরিবর্তন। মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া হলে প্রথমেই বাবা হাত তুলত না। এরপর থেকে প্রায়ই আমি গ্রুপের কিছু সমস্যা বাড়িতে share করতাম। যেমন একজন সদস্য গ্রুপে আসতে চাইত কিন্ত ওর বাবা মা ওকে আসতে দিত না। বাড়ির লোকেদের আমি প্রশ্ন করতাম, "কেন দিচ্ছে না বলতে পারো?" এইরকম প্রশ্ন করে যখন পসিটিভ কোন উত্তর পেতাম তখন খুব ভালো লাগত। ওদেরকে ধীরেধীরে এইভাবে involve করলাম এই ইস্যুগুলোর সঙ্গে। এসব সময় মাও খুব উৎসাহিত হয়ে বলত, "মেয়েরাও অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে!" আমরাই পারি অভিযানই যেন আমার মাকে কথা বলতে শেখাচ্ছিল!

আস্তে-আস্তে বাড়ির পরিবেশ অনেক পাল্টেছে। বাবা এখন মাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে বলে। অনেক সময়েই বুঝিয়ে কথা বলে, এমনকি আমাদের সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করে। মাকেও আগের চেয়ে অনেক হাসি খুশি দেখি।

যে মা দীর্ঘ চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবনে প্রতিবাদ করতে জানত না, তাকে কখনো-কখনো প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। মা এখন বলে, "মেয়েরা মুখ খুললে অনেক কিছুই পাল্টাতে পারে।"
--

7 comments:

  1. Swapna your story has moved me so much ! you must be very proud of having your father changed attitude and listening to you ! bravo and i feel that you have succeded with patience and gentleness ! and have a happier family

    ReplyDelete
    Replies
    1. Anonymous4/26/2013

      Dear Sophie
      It takes time to change a family, but one needs to keep trying!
      Swapna

      Delete
    2. dear Swapna,
      i have read again your story and wonder how you are now ? i am sure you and your family has helped others to understand that domestic violence is not the good way of life !
      best wishes to you

      Delete
  2. You know, I've been very depressed about all the bad things happening in the world, and thinking that things will never get better.

    Reading your story made me smile. I'm still smiling. Things can get better if you try.

    Thank you for sharing, Swapna.

    ReplyDelete
    Replies
    1. Anonymous4/26/2013

      Dear Bunny
      It would be wrong to say things cannot change, we have to first change our mindset and believe that We Can bring change!
      Swapna

      Delete
  3. Thank you Swapna for your inspiring story. It is 6.30 pm and I am sitting at my desk after a day of work. Sometimes what I do feels so remote- days at the computer- answering emails etc- it feels far away from real life and real change. Your sharing of your story of change made me feel more connected.

    Your strategies to engage your family and bring change there-are so helpful to others too because changing your family is one of the most difficult things to do! I will share your strategies with others I meet.

    Keep up the change!

    ReplyDelete
  4. ami tomar lekha porechi . khub vhalo.ami chai tumi aro lekho.eai rokam cheta bro poriborton anbe

    ReplyDelete

You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here