I Believe - Shampa

Shampa Halder is a member of YRC Ujaan (2008)
Change MakerGender Volunteer (2011)
TF Youth Facilitator (2012)
more on facebook
"I believe that there is no work that women cannot do"

The more I see my mother, this belief increases. I have heard often from her that she has had to tolerate much harassment from society and stand up against a lot to reach a comparatively good place where she is raising us now.

My mother and her brothers were born in a village called Joynagar, amidst a lot of poverty. Let alone two meals a day, there wasn't even a fistful of rice for one meal. My grandparents used to wash utensils at people's homes and farm other people's land. After a day's work, their employers gave them the excess starch produced while boiling rice and this they gave to their children to eat. Ma used to think all the time, "How can one survive on rice starch the whole day?"And inside her, the desire for a better life grew. She used to tell her parents, "One day I will go to Kolkata and earn a lot of money." And actually, one day without telling her parents, she came over to big city Kolkata holding an uncle's hand.

It was an unknown place ruled totally by men, with no place, no regard for women. Ma started to live and work there at someone's home. Her first earning amounted to Rs.5. How valuable those 5 rupees were! Ma still takes pride in saying, "Those were my first earnings." Whenever I hear these things, I am surprised – how could she do it? I feel very sad, and very proud too, of my mother.

Anyway, after this Ma called my grandmother over to Kolkata and they began to work together. It was Ma at that age who fought and negotiated my grandmother's wages. When she used to be alone at home, sleeping or changing her clothes, often the landlord would remove a loose tile and spy on her. My mother saw him doing this several times but was too scared to speak out. "What if he beats me?" she thought. "Or drives me out of the house?" Thinking this, she kept quiet, and fought alone.

One day suddenly news came from the village that my grandfather had passed away. Among all his children, my grandfather loved my mother the most, and used to take her along wherever he went. He had wanted to see her time and again when he was passing away, but it was Ma's misfortune that she saw him only at the cremation ghat, that too when he was burning on the pyre. Even now my grandmother speaks of the way my mother cried at that time!

It was again time to draw up courage. Ma returned to Kolkata with her brothers and sisters and even enrolled her younger sister in school. Things continued this way till she was 17 years old. Then Ma was married off, and she again had to come back to a village home. Ma didn't know most of the work there, like reaping or threshing paddy, or flattening cowdung. For this ignorance, her elder sister-in-law and mother-in-law used to beat her, push her to the ground and deprive her of food. This kind of torture happened for a long time and Ma bore it. My father also was incapable of saying anything much against them.

One day, when Ma was 8-months pregnant with me, her mother-in-law asked her to turn over the paddy in the courtyard with her feet. That day she was not at all well, so she had said she wouldn't be able to do this chore. On hearing this, her elder sister-in-law left her cooking and beat her with a stick so that she fell off the side of the courtyard. Then Ma developed a high fever and she took the decision to leave the country-house and return to Kolkata. That very day, my parents left for Kolkata.

My father started working as a mason and rented a room where he started living with Ma.
We three siblings are all nearly the same age and we are all students at present. Our mother fulfils lots of responsibilities towards raising us. And my father is always there beside her, encouraging her. Even now, the more I observe my mother, the more I get to learn. In my life, in my decisions, Ma's way of thinking helps me a lot in different ways. I get strength and courage from this, feel a lot of respect and realize that women are capable of doing anything they set their mind to.

"আমি বিশ্বাস করি যে এমন কোনো কাজ নেই যেটা মেয়েরা পারে না"

আমি আমার মাকে যত দেখি, ততই এই বিশ্বাসটা বাড়তে থাকে। বেশ কয়েকবার মায়ের মুখে শুনেছি যে মা সমাজের অনেক অত্যাচার সহ্য করে, অনেক কিছুর বিরোধিতা করে তবেই আজ একটা ভালো জায়গায় দাঁড়িয়েছে আর আমাদের বড় করছে।

মা-মামাদের জন্ম জয়নগর বলে একটা গ্রামে। সেখানে তখন খুব অভাব অনটন ছিল। দুবেলার কথা তো ছেড়েই দিলাম, একবেলা একমুঠো খাবার খেতে পেতনা। দিদা -দাদু লোকের বাড়ি মাটি কাটা ও বাসন মাজার কাজ করত, সারাদিন কাজ করে ভাতের ফেনা এনে মা এবং মামাদের খেতে দিত। মা সবসময়ে ভাবত "সারাদিন কি এই ফেন খেয়ে থাকা যায়?" আর ভেতরে ভেতরে নিজেদের জন্য এরচেয়ে ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখত। দিদা-দাদুকে মা বলত, "আমি একদিন কলকাতায় যাব আর অনেক পয়সা রোজগার করব"। আর হঠাত একদিন দিদা-দাদুর অজান্তেই এক কাকার হাত ধরে মা সত্যিই চলে আসে বড় শহর কলকাতায় - পুরোপুরি অজানা অচেনা, পুরুষ-শাসিত একটা সমাজে।

সেই সমাজে মেয়েদের কোনো জায়গা ছিলনা বললেই চলে। মা একজনের বাড়িতে থেকে কাজ করতে শুরু করে। মায়ের প্রথম রোজগার ছিল পাঁচ টাকা। সেই পাঁচ টাকা যে কত মূল্যবান! এখনো মা গর্ব করে বলে, "সেই আমার প্রথম রোজগার"। এসব কথা যখনই শুনি তখন অবাক হয়ে যাই - কি করে মা পারল? খুব কষ্ট হয়, আবার গর্বও হয় নিজের মায়ের প্রতি।

যাই হোক, কাজ শুরু করার পর মা গ্রাম থেকে দিদাকেও ডেকে পাঠালো; দিদা ও মা একসাথে কাজ করতে শুরু করলো। দিদার মাইনেও মা ঠিক করলো ঝগড়া করে। মা যখন একা ঘরে ঘুমত বা জামা-কাপড় পাল্টাত তখন বাড়িওয়ালা বাড়ির টালি খুলে উঁকি মারত। মা অনেক বার দেখেছে কিন্তু কিছু বলতে পারতনা। ভয় পেত। "আমাকে যদি মারে, বা বাড়ি থেকে বের করে দেয়?" এই ভেবে মা চুপ করে থাকত। একা লড়ত।

একদিন হঠাত গ্রাম থেকে খবর আসে যে দাদু মারা গেছেন। দাদু নাকি ভাইবোনেদের মধ্যে মাকে সবচাইতে বেসি ভালবাসত, আর যেখানে যেত সঙ্গে নিয়ে যেত। দাদু চলে যাবার সময় মাকে বারবার দেখতে চেয়েছিল, কিন্তু মায়ের দুর্ভাগ্য মা দাদুকে শ্বস্বানে গিয়েই দেখতে পেল, তাও আবার জলন্ত চিতায়। সেই সময় মায়ের যে কি কান্না - এখনো দিদিমার মুখে শুনি।

আবার নতুন করে সাহসে বুক বেঁধে মা মামা ও মাসিদের নিয়ে কলকাতায় এল, আর ছোট মাসিকে স্কুলেও ভর্তি করালো এই ভাবেই জীবন চলতে থাকে সতেরো বছর বয়েস পর্যন্ত।

তারপর বিয়ে হয়ে গেল আর আবার চলে আসতে হলো সেই গ্রাম বাড়িতে। সেখানকার কাজ মায়ের কাছে ছিল অজানা। ধান কাটতে, ধান ভানতে বা গোবর মাড়াতে পারত না বলে মায়ের বড়-জা ও শাশুড়ি মিলে মাকে মারত, ঠেলে ফেলে দিত, খেতে দিতনা। দীর্ঘ দিন মায়ের উপর এই অত্যাচার হতে থাকত আর মা সহ্য করত। বাবাও সেই ভাবে কিছু বলতে পারতনা। মা যখন আমাকে নিয়ে আঠ মাস গর্ভবতী, তখন একদিন ঠাকুমা মাকে বলেছিল উঠানের ধান পা দিয়ে উল্টে দিতে। সেদিন মায়ের শরীরটা খুব খারাপ ছিল বলে মা 'না' বলেছিল। সেই শুনে জেঠিমা রান্না করতে করতে উঠে এসে মাকে লাথি মেরে উঠান থেকে নিচে ফেলে দেয়। এর পর মায়ের খুব জ্বর আসে আর মা মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে এই ঘর ছেড়ে আবার কলকাতায় চলে আসবে।

সেই দিনই মা-বাবা দুজনেই কলকাতায় চলে আসে। বাবা রাজ-মিস্ত্রীর কাজ করে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। আমরা তিন ভাই-বোন সবাই প্রায় একই বয়সী, আর বর্তমানে আমরা সবাই পড়াশোনা করছি। আমাদের এত দূর বড় করার ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব পালন করে আমার মা। বাবাও সব সময় মায়ের পাশে থাকে আর মাকে উতসাহ দেয়। এখনো মাকে যত দেখি, ততই শিখি। আমার জীবনে চলার ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের অনেক চিন্তা ভাবনা আমাকে সাহায্য করে। এর থেকে নিজের মধ্যে একটা দৃঢ়তা আর শক্তি পাই, আর ততই শ্রদ্ধা আসে, মনে হয় যে চাইলে মেয়েরা সব কাজ করতে পারে।