20 Sep 2012

I Believe - Krishna

Krishna Goldar is the founder member of
YRC Ujaan (2008), Change Maker,
Youth Trainer ('09), Coordinator of TF programme
to develop new YRCs (2012)
more on facebook

Also check out this
video on Krishna's group - Ujaan

"I believe that every person around me is valuable and worthy of respect"

I myself don’t know when this belief was first born in me, but for quite some time, I have been noticing this belief being reflected in my interactions with people.
Earlier, wherever I felt something needed to be done, I used to jump into the fray, and feel pride in it. If I felt someone was weak, I used to do all her work; if someone couldn’t see, I would help her cross the road. Any kind of help needed? No problem, I was there!

Now I feel – no, this is not enough. Does the person I am helping need this help so much? This question makes one aware. I ask myself – am I helping this person, or not valuing her abilities? If I didn’t thoughtlessly jump to help, if I paused to ask, “Can I help you in any way?”, then things could become easier. If the person thought that yes, she needed help, then she herself would ask for it. My job would then be not to make her dependent, but rather to assert her faith in her own abilities with the assurance that I was there to support her.

I remember one incident. One day as I was getting onto a bus, a gentleman with crutches was boarding just after me. My natural tendency was to go forward, thinking, “But he needs help!” Yet at the same time I thought that maybe he is capable, and it is I who doesn’t know it. I held out my hand and asked, “Should I hold your hand?” He smiled and said, “No, no, I can manage”. Then, while on the bus, we got talking. He laughed and said, “Know what, no one ever asks if I need help. They promptly grab my hand and pull me up, or make me sit. It felt very good that you asked.” Then I felt that each and every human being has value, and each has abilities worthy of respect.

This belief of mine is slowly strengthening, like the soft river mud gradually strengthens and becomes fertile. As in the long interval of learning starting from the day when we shape our first alphabets to the day when we begin to read and write with ease, I am in the process of understanding and learning the way of this belief.

I hold another belief related to this belief – that in society, women should have an equal place with men. From childhood I was used to seeing my father not valuing my mother at all. The same situation prevailed in the whole of my neighborhood. Growing up like this, I also didn’t pause to think that women of the house could have any importance or value of their own. I think I woke up when I attended a workshop at Thoughtshop Foundation – I realized that whatever was happening in my house and around me was not right! That was the start of my fight. Whenever I saw my father having the last word on anything without valuing what my mother had to say, I used to thunder in protest. Even after returning home after a full day’s work and cooking, my mother would wait up for my father, with the rice cooked and ready to eat, till 12 or 1 in the morning. He would return after hanging out with his friends and playing cards till whenever he wished and then tell my mother “Get me water for washing hands. Where is the food? Is the bed made?” Ma used to do all of these things. Even after this there would be trouble, brawls. Many nights we went to bed without food. Ma used to cry all night, and so would I. Something inside our chests twisted painfully. I have been able to lessen these things in my life. After a lot of effort, some change has happened. Now every night we all sit together to eat.

Here I want to share a very happy incident; I managed to make this father of mine cook rice for us one day! That day my mother and I were travelling from Lake Gardens to our Baruipur home. My father was calling up repeatedly to know how far we were. It was only after we reached home that cooking would happen, and we would get to eat. I told my father, “I am very hungry already, and we are still in the train. Why don’t you put the rice to boil, then we can all eat together.” My father has never poured himself a glass of water. He will cook rice, and that we'll eat! My mother and I were discussing these things while hurrying back home. Ma was a bit scared, expecting trouble as soon as we got home. What we saw made us stare open-mouthed! Baba had cooked the rice and kept the pot upside-down to drain the water. I told Ma, “See, see what he has done!” Ma was also taken aback. Then all of us devoured that rice!

Even now whenever I see my father not valuing my mother, I speak out. Not only that, if I see anything that is not right happening in my surroundings, I protest. I try to ensure that each and every woman gets the respect due to her. I try to make women understand their worth, and support them so that they can face the situation on their own. I believe in her ability – that she herself can.

I hope to inspire many others around me to value each other mutually in their own lives. I think society is like a vehicle. Unless all four of its wheels operate equally, it can’t move properly. And only if we respect everyone, try to understand and love each other, then only will society will progress beautifully.

Let me end here with a small incident. I have a friend who is blind. We often sit together and do different kinds of work. She writes in Braille, I use paper and pen. One day I was trying to learn Braille from her. I was finding it quite hard to learn. But my friend was writing Braille so expertly! I was so impressed at her ability to do so, and realized that all of us are blessed with unique capabilities. She thinks she can’t see but I thought, “I too can’t read Braille as she does.” Somewhere both of us were on the same level. This realization, that I was the same as everyone else, made me feel very good.

আমি বিশ্বাস করি আমার চারপাশের প্রত্যেকটা মানুষ মূল্যবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য

এই বিশ্বাসটা যে আমার মধ্যে কবে বা কখন জন্মালো আমি নিজেও জানিনা, কিন্তু বেশ কিছুদিন হলো মানুষের প্রতি আমি যে রকম ব্যাবহার করি, তাতে এই বিশ্বাসটার প্রতিফলন দেখছি। আগে আমি যেটা করতাম - যেখানে যেটা করা উচিত মনে হত, ঝাপিয়ে পরে করতাম। সেটাতেই গর্ব বোধ করতাম। যদি মনে হত কেউ দুর্বল তার সমস্ত কাজ করে দিতাম, কেউ দেখতে পারেনা তো তাকে রাস্তা পার করে দিতাম। কোনো রকম সাহায্য দরকার, অসুবিধা নেই - আমি তো আছি!

এখন আমার মনে হয় যে – না সেটাই যথেষ্ট নয়। আমি যাকে সাহায্য করছি, আদৌ কি তার এতটা আমাকে দরকার? এই প্রশ্নটা নিজেকে সজাগ করে দেয়। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি তাকে সাহায্য করছি, না তাকে বা তার ক্ষমতাকে মূল্য দিচ্ছিনা? অথচ না ভেবে ঝাঁপিয়ে পরে সাহায্য না করে আমি যদি তাকেই জিজ্ঞাসা করি যে – “আমি কি আপনাকে কোনো ভাবে সাহায্য করতে পারি?”, তাহলেই ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তিনি যদি মনে করেন যে – হ্যা, তার সাহায্য প্রয়োজন, তাহলে তিনি নিজেই বলবেন। আমার কাজটা তখন হয়ে যাবে তাকে পরনির্ভরশীল করা নয়, বরং বিশ্বাস দেওয়া, যে ওনার ক্ষমতা আছে, আর আমি ওনার সাথে আছি।

একটা ঘটনা মনে পরে। একবার বাসে ওঠার সময় আমার ঠিক পিছনে হাতে ক্রাচ নিয়ে একজন ভদ্রলোক উঠছিলেন। আমার স্বাভাবিক প্রবণতা হলো এগিয়ে যাওয়ার, “আরে অনার তো হেল্প দরকার” - কিন্তু আবার সঙ্গে সঙ্গে এটাও মনে হলো উনিও হয়ত সক্ষম। আমি হাতটা বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “আমি কি হাতটা ধরব?” উনি হেসে উত্তর দিলেন “না, না আমি উঠতে পারব”। তারপর বাসে ওনার সাথে অনেক কথা হলো, উনি হাসতে হাসতে বললেন, “জানো তো, কেউ জিজ্ঞাসাই করে না যে আমার কোনো হেল্প চাই কি না। আগেই হাত ধরে টেনে তুলে বা বসিয়ে দেয়। তুমি জিজ্ঞাসা করলে আমার খুব ভালো লাগলো”। তখন মনে হলো যে প্রত্যেক মানুষেরই একটা আলাদা মূল্য আছে, আর প্রত্যেকের ক্ষমতাই শ্রদ্ধার যোগ্য।

আমার এই বিশ্বাসটা ধীরে ধীরে দৃঢ় হতে শুরু করেছে, যেমন পলি ধীরে ধীরে শক্ত হতে হতে উর্বর মাটিতে পরিণত হয়, ঠিক তেমনি। হাতে খড়ির দিন থেকে শুরু করে লিখতে ও পড়তে পারা পর্যন্ত তো অনেকটাই সময় থাকে – আমি হয়তো সেরকমই এই বিশ্বাসটা বোঝার ও শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এই বিশ্বাসের সঙ্গেই আরো একটা বিশ্বাস জড়িয়ে আছে – যে মহিলাদের সমাজে সমান জায়গা পাওয়া উচিত। ছোট থেকে দেখতাম আমার পরিবারে বাবা আমার মাকে একেবারেই মূল্য দিত না। আমার পাড়ায় আসে পাশেও এই পরিস্থিতি। এই ভাবে বড় হতে হতে আমারও আর মনে হত না যে বাড়ির মহিলাদেরও কোনো গুরুত্ব আছে, তাদের আলাদা মূল্য আছে। থটশপ ফাউনডেশন-এর একটা ওয়ার্কশপে এসে যেন আমার টনক নড়ল - বুঝতে পারলাম যে আমার বাড়িতে এবং আমার চার পাশে যে গুলো হচ্ছে সেগুলো তো একেবারেই ঠিক নয়!তার পর থেকে শুরু হলো আমার লড়াই। যখনি দেখতাম আমার বাবার কথাই শেষ কথা, মায়ের কথার কোনো মূল্য নেই, সেখানেই মেঘের মত গর্জন করে প্রতিবাদ করতাম। মা সারাদিন কাজ করে আসার পরও রান্না সেরে রাত্রি বারোটা-একটা পর্যন্ত বাবার জন্য বসে থাকত, রান্না ভাত নিয়ে। বাবা তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে তাস খেলে যখন ইচ্ছে তখন এসে বলত, “কি হাত ধোয়ার জল দাও, খাবার দাও, বিছানা করে দাও” মা সব করে দিত। তার পরেও ঝামেলা চেচামিচি চলত। অনেকদিন রাতে না খেয়ে ঘুমাতে হত। মা সারা রাত কাঁদত, আমিও কান্নাকাটি করতাম। বুকের ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে যেত। এখন আমি এইগুলো কমাতে পেরেছি। এখন অনেক চেষ্টার পর কিছুটা বদল এসেছে – রোজ রাতে আমরা একসাথেই সবাই খেতে বসি।

এখানে একটা খুব আনন্দের কথা বলতে ইচ্ছে করছে; আমার এই বাবাকে দিয়ে আমি একদিন ভাত রান্না করিয়েছি! মা আর আমি একদিন লেক গার্ডেন্স থেকে আমাদের বারুইপুর-এর বাড়িতে যাচ্ছিলাম। বাবা বারবার ফোন করছিল আমরা কতদুরে আছি সেটা জানার জন্য। আমরা বাড়িতে গেলে তবে রান্না হবে, তারপরে আমরা খাব। আমি বাবাকে বললাম, “আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে, আমরা এখনো ট্রেনেই আছি। আপনি ভাতটা একটু বসিয়ে দিন না, তাহলে একসাথে খেতে পারব।” বাবা কোনো দিন নিজে এক গ্লাস জল নিয়ে খায়না, বাবা রান্না করবে ভাত! আর আমরা গিয়ে খাব! মা আর আমি এগুলো আলোচনা করতে করতে অনেক তারাহুড়ো করেই ফিরছিলাম। মা একটু ভয় পাচ্ছিল – বাড়িতে ঢুকেই চেচামিচি শুরু হবে।
বাড়িতে যা দেখলাম আমি তো অবাক! বাবা ভাত রান্না করে উপূর করে রেখেছে। মা কে বললাম “দেখো দেখো কি করেছে!” মাও অবাক। তারপর সেই খিদের সময় সবাই মিলে সেদ্ধ ভাত হালুম-হুলুম করে খেলাম!

এখনো যখনি দেখি কোথাও বাবা মাকে মূল্য দিচ্ছেনা, সেখানেই বলি। শুধু তাই নয়, আমার চার পাশেও যদি দেখি যে কোনো অন্যায় হচ্ছে তার প্রতিবাদ করি। প্রত্যেকটি মহিলাকে যাতে তার ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয়, তার চেষ্টা করি। তার মূল্যটা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি, আর যাতে সে নিজেই সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে সেই সাপোর্ট টা দিই। তার ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখি – যে সে নিজেই পারবে।

আমি আশা করি আমি আমার আসে পাশের অনেক কে উত্সাহিত করতে পারব যাতে তারাও নিজেদের জীবনে সবাই সবাইকে মূল্য দেয়। আমার মনে হয় আমাদের সমাজ একটা গাড়ির মত, যার চারটে চাকা সমান ভাবে না চললে এগোতে পারবেনা। আর যদি আমরা সবাইকে শ্রদ্ধা করতে পারি, একে-অপরকে বোঝার ও ভালবাসার চেষ্টা করি, যার যেই ক্ষমতা বা দুর্বলতা থাকুক না কেন, তাহলে সমাজও সুন্দর ভাবে এগিয়ে চলবে।

তাহলে এখানে একটা ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শেষ করি। আমার এক বন্ধু আছে, সে চোখে দেখতে পায়না। আমরা প্রায়ই একই সাথে বসে বিভিন্ন কাজ করি। ও ব্রেলে লেখে, আমি খাতা পেনে লিখি। একদিন আমি ওর থেকে ব্রেল শেখার চেষ্টা করছিলাম। খুব কঠিন লাগছিল, বেশ কষ্ট হচ্ছিল শিখতে! অথচ আমার বন্ধু কি সাবলীল ভাবে ব্রেলেই লিখছিল! ওর এই ক্ষমতা আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম, আর ভাবছিলাম ভগবান সবাইকে আলাদা আলাদা ক্ষমতা দিয়েছেন। ও ভাবে যে ও দেখতে পায়না, কিন্তু আমি ভাবলাম আমিও তো ওর মত ব্রেল পারিনা। কোথাও একটা আমরা দুজনেই এক। এই উপলব্ধিটা হয়ে, নিজেকে সবার সাথে এক ভাবতে পেরে খুব ভালো লেগেছিল।


  1. Krishna di, your thoughts have left me astounded! I always knew you were working for an NGO, but reading about your journey and experiences has a different high altogether! I wish you go on to stronger paths and wish you all the success! :) I believe!

  2. lovely article krishna di!


You can comment without logging-in, just choose any option from the [Comment as:] list box. Comment in any language - start here